Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৫ এপ্রিল ২০১৯, ১২ বৈশাখ ১৪২৬, ১৮ শাবান ১৪৪০ হিজরী।
শিরোনাম

দার্জিলিংয়ে সেনা মোতায়েন, বসিরহাট শান্ত

পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় রাজ্যকে সহযোগিতা করছে না কেন্দ্রীয় সরকার : মমতা

| প্রকাশের সময় : ১০ জুলাই, ২০১৭, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতায় সা¤প্রদায়িক দাঙ্গা কবলিত ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর ২৪ পরগণা জেলার বসিরহাটে আপাত শান্তি ফিরে এসেছে, কিন্তু দাঙ্গার উত্তাপ ১০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কলকাতার রাজনৈতিক অঙ্গনকে সরগরম করে তুলেছে। এই দাঙ্গার জন্য ভারতের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বিজেপিকে দায়ী করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল রোববার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এনডিটিভি। অপরদিকে বিক্ষোভ-সহিংসতায় উত্তপ্ত জনপদে পরিণত হয়েছে দার্জিলিং। সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন বিগত ২৪ ঘণ্টায়। এমন দাবি করেছেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা (জিজেএম)। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি অভিযোগ করেছেন, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার দার্জিলিংয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দার্জিলিংয়ে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। খবর মিন্ট ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। সংবাদ মাধ্যম জানায়, বসিরহাটের সা¤প্রদায়িক দাঙ্গার বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তেরও ঘোষণা দিয়েছেন মমতা। এই দাঙ্গা নিয়ে রাজ্যের গভর্নর কেশরিনাথ ত্রিপাঠির সঙ্গে মমতার বাদানুবাদে কলকাতার রাজনৈতিক অঙ্গন সরগরম হয়ে উঠেছে। ঘটনার বিষয়ে বোবা দর্শকের ভূমিকা পালন করবেন না বলে ঘোষণা করেছেন কেশরিনাথ। দাঙ্গার জন্য বিজেপি, রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ (আরএসএস) ও তাদের অন্যান্য ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনকে দায়ী করেন মমতা। পাশাপাশি উস্কানিমূলক বিবৃতি দেয়ার জন্য বিজেপির সিনিয়র নেতাদের অভিযুক্ত করেন তিনি। সীমান্ত নিরাপত্তার দায়িত্বে কে আছে, কেন্দ্র না রাজ্য? আবারও আমি বলছি, এই রাজ্যের শান্তি বিনষ্ট করার জন্য বিজেপির চক্রান্ত এটি, বলেন তিনি। নয়াদিল্লির বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার পশ্চিমবঙ্গে প্রেসিডেন্ট শাসন জারি করার তালে আছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। কেন্দ্র আমাদের সহযোগিতা করছে না। বিজেপির সহিংস রাজনীতি প্রকাশ পেয়ে গেছে। এটি ফেডারেল পদ্ধতি পুরোপুরি ভেঙে পড়ার নজির, কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে আক্রমণ করে বলেন মমতা। অপরদিকে কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের মন্ত্রী পিযুষ গৈয়াল পাল্টা অভিযোগ করে বলেছেন, রাজনৈতিক কারণে অন্য আরেকটি স¤প্রদায়কে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে মমতা পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে দিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, হিন্দুদের ধরপাকড়ের সময় তৃণমূল কংগ্রেসের আইনপ্রণেতা দিপেন্দু বিশ্বাস ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং পুলিশকে তল্লাশি চালানোর জন্য তাদের বাড়িঘর দেখিয়ে দিয়েছেন। খবরে বলা হয়, টানা ২৪ দিনের সহিংস বিক্ষোভে পশ্চিমবঙ্গের পাহাড়ি জেলা দার্জিলিংয়ে জনজীবন অচল হয়ে পড়েছে। জেলায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি গত শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে দার্জিলিংয়ের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সহিংসতা ছেড়ে আলোচনার পথে আসার আহŸান জানিয়েছেন। এ সময় তিনি বলেন, দার্জিলিংয়ে সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। তারা খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করতে পারছে না। বিচ্ছিন্নতাবাদীরা নেপাল ও সিকিম থেকে খাবার ও অন্যান্য রসদ সরবরাহ পাচ্ছেন। এ কারণে তারা স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে চিন্তিত নন। অস্থিরতার জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে অভিযুক্ত করে মমতা ব্যানার্জি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার দার্জিলিংয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় রাজ্যকে সহযোগিতা করছে না। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দার্জিলিংয়ে মোতায়েনের জন্য আধাসামরিক সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) চাওয়া হলেও কেন্দ্র তাতে সাড়া দেয়নি। মমতা ব্যানার্জির অভিযোগ অস্বীকার করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেছেন, দার্জিলিংয়ে সিআরপিএফ মোতায়েন না করার অভিযোগ সঠিক নয়। বরং এক সপ্তাহ আগে বসিরহাটে সা¤প্রদায়িক দাঙ্গার পর কেন্দ্রের তরফ থেকে আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব দিলে মমতা ব্যানার্জি তাতে সাড়া দেননি। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, মিন্ট, এনডিটিভি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন