Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২৪ জুলাই ২০১৭, ০৯ শ্রাবণ, ১৪২৪, ২৯ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী

ভারত-ইসরাইল বৈবাহিক সম্পর্কের বাস্তবায়ন

| প্রকাশের সময় : ১০ জুলাই, ২০১৭, ১২:০০ এএম

হোসেন মাহমুদ : বিশে^ আয়তনে সপ্তম ও জনসংখ্যায় দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ ভারত ভূরাজনীতির প্রয়োজনে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে আয়তনে বিশে^ ১৪৬তম ও জনসংখ্যার দিক দিয়ে একশততম স্থানে থাকা দেশ ইসরাইলের সাথে। ভারতের জনসংখ্যা ১৩০ কেটি আর ইসাইলের জনসংখ্যা ৮৫ লাখ। দেশে দেশে কি বিয়ে হয়? হ্যাঁ, তাই হয়েছে। ভূরাজনৈতিক স্বার্থ ও কূটনৈতিক স্বার্থ তাও সম্ভব করে। সে কারণেই আজ ভারত-ইসরাইল এ অবিশ^াস্য মিতালি এবং তা আখ্যায়িত হয়েছে বিবাহ হিসাবে। এটা করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু নিজেই। ৪ জুলাই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তিনদিনের সফরে ইসরাইলে পৌঁছার পর দু’দেশের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে ৭টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। নেতানিয়াহু খুশিতে উচ্ছ¡সিত হয়ে উভয় দেশের মধ্যকার এ নিবিড়তম সম্পর্ককে বৈবাহিক মর্যাদা প্রদান করে বলেন, ‘ ভারত ও ইসরাইলের মধ্যে এই বিবাহ স্বর্গে রচিত হয়েছিল, বাস্তবায়ন হল মর্ত্য’ে।
নরেন্দ্র মোদি ৪ জুলাই থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত তিনদিন ইসরাইল সফর করেন। দু’দেশের জন্যই এ এক ঐতিহাসিক ঘটনা। ভারতের গণমাধ্যমগুলো এ সফরকে ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী বলে আখ্যায়িত করেছে। কারণ, ভারতের সত্তর বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী ইসরাইল সফর করলেন। তবে এর আগে ইসরাইলের প্রেসিডেন্টের ভারত সফর ও ভারতের প্রেসিডেন্টের ইসরাইল সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে। বলা দরকার, আগে ভারত-ইসরাইল কোনো সম্পর্ক ছিল না। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা লাভের আগে ভারত ১৯০ বছর ছিল পরাধীন দেশ। এ সময়ে ভারতের নিজস্ব পরিচয়ে বিশে^র কোনো দেশের সাথে সম্পর্ক গড়ার কোনো সুযোগ ছিল না। অন্যদিকে ১৯৪৮ সালে ব্রিটেনের ষড়যন্ত্রে ‘ মধ্যপ্রাচ্যের বিষফোঁড়া ’ নামে কুখ্যাত ইসরাইল রাষ্ট্রের জন্ম হয়। প্রায় একচেটিয়াভাবে মুসলিম বিশ^ এবং বিশে^র আরো বহু ন্যায়ানুসারী দেশের সাথে অবস্থান নিয়ে এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম রাষ্ট্র ও বিশে^র বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারত তখন ‘অবৈধ রাষ্ট্র ’ ইসরাইলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেনি। পরবর্তীতে ভারত জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনে যোগদান করে এবং সোভিয়েত-মার্কিন ¯œায়ু যুদ্ধে বিশে^ যে মেরুকরণ ঘটে তাতে সোভিয়েত বলয়ে অবস্থান নেয়। অচিরেই ভারতের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারীতে পরিণত হয় সোভিয়েত ইউনিয়ন। ভারতের এ অবস্থানের কারণে মার্কিন বলয়ের সাথে তার বিরাট দূরত্ব তৈরি হয়। তাই যুক্তরাষ্ট্রের পোষ্যপুত্র ইসরাইলের সাথে তার কোনো সম্পর্ক তৈরি হয়নি। বরং তৃতীয় বিশ^ভুক্ত দেশগুলো তথা জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের সদস্য দেশগুলোর সাথে ভারতের মেলবন্ধন রচিত হয়। বিশে^র শান্তিকামী দেশগুলোর মধ্যে নেতৃস্থানীয় ভূমিকায় আসীন হয় ভারত।
কিন্তু সাম্প্রতিক ভূরাজনীতি গোটা বিশে^ই বহু দেশের অবস্থানের পরিবর্তন সাধন করেছে। বিশে^ ঘটেছে নয়া মেরুকরণ। আর তারই পরিণতিতে এক কালের শান্তিকামী দেশ, মহাত্মা গান্ধীর অহিংসা ব্রতের দেশ ভারত আজ নেমেছে পরাশক্তি হয়ে ওঠার প্রবল প্রতিযোগিতায়, তার মার্কিন বিরোধী ভূমিকা এখন শূন্যে বিলীন। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অধুনা পরম মিত্রতার বন্ধনে আবদ্ধ ভারত। ওবামা আমলে ঘনিষ্ঠতার পথ রচনার পর এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ডকে উষ্ণ আবেগে নিবিড় আলিঙ্গনে বেঁধে ফেলতে চাইছেন মোদি। তার প্রথম উদ্দেশ্য চিরশত্রæ পাকিস্তানকে আরো অধিক মাত্রায় বেকায়দায় ঠেলে দেয়া ও বিচ্ছিন্ন করে ফেলা এবং প্রতিদ্ব›দ্বী চীনের হুমকির মুখে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সামরিক সমর্থনের বন্ধন নিবিড়-গভীর করা। ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার পিছনেও কাজ করছে এ উদ্দেশ্যই।
ইসরাইল থেকে দীর্ঘকাল দূরে থাকার পর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পাকিস্তানের কম-বেশী প্রভাবের প্রেক্ষিতে দেশটির সাথে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু করে ভারত। বিশে^ অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে থাকা দেশ ইসরাইল প্রবল আগ্রহে এতে সাড়া দেয়। এ প্রেক্ষিতে ১৯৯২ সালে ইসরাইলের সাথে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। তারপর থেকেই ইসরাইলের উন্নত অস্ত্র ও প্রযুক্তি সহায়তা ভারতে পৌঁছতে শুরু করে। মুসলিম দেশগুলোর সাথে সম্পর্কের কথা বিবেচনা করে এতদিন এ ব্যাপারে অনেকটাই রাখঢাক অবস্থা রেখেছিল ভারত। কিন্তু কার্গিল যুদ্ধে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের সামরিক সহযোগিতার কথা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত পায়। তাছাড়া কাশ্মীরের স্বাধীনতার লড়াই দমনে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে ইসরাইলের প্রশিক্ষণ ও সহায়তা প্রদানের কথাও শোনা যায়। অতি সম্প্রতি পাকিস্তানের সাথে সম্পর্কের অবনতি ও চীনের সাথে প্রতিদ্ব›িদ্বতার চ্যালেঞ্জে নয়াদিল্লী ইসরাইলের সাথে সম্পর্কে আর রাখঢাক না করার সিদ্ধান্ত নেয়। এ প্রেক্ষাপটেই অনুষ্ঠিত হয় মোদির এ সফর ।
জানা গেছে, ইসরাইল সফরে গিয়ে আবেগ ও বন্ধুত্বের জোয়ারে উদ্বেল হয়ে উঠেছিলেন মোদি। নেতানিয়াহুর প্রাণঢালা অভ্যর্থনা মোদিকে আবেগ বিহŸল করেছে। জানা যায়, নেতানিয়াহু নিজে ও তার মন্ত্রিসভার সকল সদস্যকে নিয়ে বিমান বন্দরে মোদিকে বরণ করেন যা ইসরাইলের রাষ্ট্রাচারের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা। কারণ, একমাত্র মার্কিন প্রেসিডেন্টকেই এ সম্মান দেয় ইসরাইল। মোদি পরদিন নৈশভোজে ইসরাইলকে সুন্দর দেশ হিসেবে প্রশংসা নন্দিত করে বলেন যে এ দেশ সম্পর্কে তার ধারণাটা অন্য মাত্রায় পৌঁছেছে। সমালোচকরা দু’নেতার আবেগ-উচ্ছ¡াস লক্ষ্য করে বলেছেন, দু’নেতার মিলেছে ভালো। যে দেশে প্রায় প্রতিদিন ইসরাইলি দখলদারিত্বের প্রতিবাদকারী ফিলিস্তিনিদের গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে সে দেশ সুন্দর! কে না জানে যে এ দু’জনের হাতই নিরীহ ও স্বাধীনতাকামী মানুষের রক্তে রঞ্জিত। ইসরাইল গত ৬৯ বছর ধরে ফিলিস্তিনের মাটিতে অন্যের সাহায্যে আবাস গেড়ে তাদেরই হত্যা, তাদের ভূমি দখল ও নিপীড়ন করে চলেছে। ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা তথা স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অভ্যুদয়কে অস্ত্রবলে ঠেকিয়ে রেখেছে। মানবতার চরম অবমাননা ঘটে চলেছে তাদের হাতে। অন্যদিকে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির অনুসারী মোদির হাতে ২০০২ সালে গুজরাটের দাঙ্গায় নিরীহ, অসহায় মুসলিম হত্যার রক্ত লেগে আছে বলে অভিযোগ আছে। সে সাথে ২৮ বছর ধরে কাশ্মীরের মুসলমানদের স্বাধীনতার লড়াই সামরিক শক্তির জোরে দাবিয়ে রেখেছে ভারত। সেখানে প্রায় প্রতিদিনই স্বাধীনতাকামী মানুষকে গুলি করে হত্যা করছে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। মোদির আমলে কাশ্মীরে আরো কঠোর নীতি গ্রহণ করায় কাশ্মীরী হত্যার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন ইসরাইলের উন্নত অস্ত্র ও প্রযুক্তি সহায়তায় ও ইসরাইলি প্রশিক্ষণে সে স্বাধীনতা সংগ্রাম দমন ও স্বাধীনতাকামীদের হত্যার গতি আরো ত্বরান্বিত হবে। অথচ এই ভারতই এক সময় ফিলিস্তিনি হত্যা, নিপীড়নের ঘটনায় ইসরাইলের নিন্দায় সোচ্চার ছিল।
ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকাও ভারতীয় নেতার এ ইসরাইল সফরে উল্লসিত। নেতানিয়াহুর কথিত ভারত-ইসরাইল বিবাহভাষ্যকে বরিত করেছে তারাও। তাই দু’দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির কথা বলতে গিয়ে পত্রিকাটি একে “সাত পাকে বাঁধা দু’দেশের মধ্যে চুক্তি” বলে আখ্যায়িত করেছে। উল্লেখ্য, হিন্দু বিবাহ রীতিতে বর-কনেকে সাত পাক ঘুরতে হয়। জানা গেছে, মোদির এ সফরকালে ভারত ও ইসরাইলের মধ্যে সাতটি চুক্তি হয়েছে। এগুলো হলঃ ১.যৌথ শিল্প গবেষণা এবং প্রযুক্তির তহবিল ২.পানি সংরক্ষণ ৩. পানির ব্যবহার সংক্রান্ত সংস্কার ৪.কৃষিক্ষেত্রে আগামি তিন বছরের উন্নয়নক্ষেত্রে সহযোগিতা ৫.অ্যাটমিক ক্লক উৎপাদনে সহযোগিতা ৬. অপ্টিকাল লিঙ্কে সহযোগিতা ও ৭. উপগ্রহ নির্মাণক্ষেত্রে সহযোগিতা। এখানে সামরিক সহযোগিতা বিষয়ে কোনো চুক্তি নেই, কিন্তু বেশ আগে থেকেই দু’দেশের মধ্যে তা অব্যাহত রয়েছে। আনন্দবাজার পত্রিকা এ চুক্তি স্বাক্ষরের পর বলে, ‘এর আগে ইজরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ভারতকে যে সহযোগিতা করেছে, আজকের সিলমোহরের পরে সরকারি ভাবে তা বেশ কয়েক গুণ বাড়বে বলেই সূত্রের খবর। মূলত ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত এবং কাশ্মীরের ক্ষেত্রে ভারতীয় গোয়েন্দা এবং প্রতিরক্ষাকর্মীদের সঙ্গে এবার দেখা যাবে ইজরায়েলি প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ এবং মোসাদের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিও।’ পত্রিকাটি আরো বলে, ‘ সন্ত্রাস এবং নিরাপত্তা ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো নিয়ে দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে কথা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, সাইবার সন্ত্রাস, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যৌথ উৎপাদন, ইজরায়েলের উচ্চ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ভারতে হস্তান্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ সফরে ইসরাইলের আবেগকে উস্কে দিয়ে তাকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবহারের নিপুণ কৌশল গ্রহণ করেন মোদি। ২০০৮ সালে মুম্বাইয়ে পাকিস্তানি জঙ্গিদের সন্ত্রাসী হামলায় এক ইসরাইলি পর্যটক দম্পতি নিহত হন। তাদের শিশু সন্তান মোশে হোলৎসবার্গ প্রাণে রক্ষা পায়। মোদি তেলআবিবে এখন এগারো বছরে পড়া সেই বালক মোশের সাথে দেখা করলে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা শুভ শক্তিকে রক্ষার জন্য এক সাথে লড়ব।’ এর পরে দু’নেতা যে যৌথ বিবৃতি দেন তাতে নাম না করে সরাসরি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার ইঙ্গিত রয়েছে। সন্ত্রাসবাদ, সন্ত্রাসবাদী সংগঠন, তাদের নেটওয়ার্ক এবং যারা এই জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলোকে নিরাপদ আশ্রয় দেয়, তাদের আর্থিক সাহায্য করে সমর্থন জোগায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার উপরে দুই নেতাই জোর দেন। ভারতীয় বিশ্লেষকরা মনে করেন, এ যৌথ ঘোষণা পাকিস্তানকে চাপে ফেলবে। ইসলামাবাদও মনে করছে যে আঞ্চলিক কৌশলগত স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে এ সফর ।
পরিস্থিতি দৃষ্টে বোঝা যায় যে পাকিস্তানকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছেন মোদি। তার মেয়াদের তিন বছরে আরব দেশগুলোর সাথে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক অনেক জোরদার হয়েছে। কিছুদিন আগে তিনি সউদি আরব সফর করেন। এ সময় বাদশাহ সালমান মোদিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। ২০১৬ সালে সউদি আরবের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও প্রতিবেশী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত ভারতকে সাড়ে ৭শ’ কোটি ডলার ঋণ দেয়ার কথা ঘোষণা করে। সম্প্রতি ইরানের সাথে বিরোধিতার জের ধরে সউদি আরব ও ইরানের প্রবল শত্রæ ইসরাইলের মধ্যে সম্পর্ক রচিত হওয়ার সম্ভাবনার কথা বাতাসে ভাসছে। সর্বসম্প্রতি কাতার বিরোধকে কেন্দ্র করে ইরান দেশটির পক্ষে শক্ত অবস্থান নেয়ায় সউদি নেতৃত্বাধীন উপসাগরীয় দেশগুলো ইসরাইলের প্রতি আরো নমনীয় হয়ে উঠছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক নিবিড় করে এরই সুযোগ নিতে চাইছেন মোদি যা ভারতকে আরবদেশগুলোর অনেক কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারে। উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালে ইসরাইলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর আরবদেশগুলো ভারতের তীব্র সমালোচনা করেছিল। এদিকে ভারতীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, বিজেপির মূল শক্তি কট্টর হিন্দুবাদী রাষ্ট্রীয় সেবক সংঘ বা আর এস এস বহুদিন ধরে ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্থাপন চাইছিল। কারণ, তাদের মতে ইসরাইল হচ্ছে ইসলামের বিপরীত প্রতীক। তাদের সে প্রত্যাশা পূর্ণ হওয়ায় তারা এখন খুশি।
বিশে^র মুসলিম দেশগুলো আজ অনৈক্যের শিকার। পারস্পরিক শিথিল সম্পর্ক ও সমঝোতার অভাব তাদের দুর্বল করে রেখেছে। বিভিন্ন দেশের সংকীর্ণ স্বার্থ চিন্তা, পরনির্ভরশীলতা, অন্যের লেজুড়বৃত্তি, একনায়কতন্ত্র, গণতন্ত্রের অনুপস্থিতি, অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ, অভ্যন্তরীণ সংঘাত, ইসলামী উগ্রপন্থী গ্রæপগুলোর হঠকারি কার্যকলাপ ইত্যাদি কারণে মুসলিম বিশ^ আজ বিপর্যস্ত। বর্তমান বিশে^ মুসলিম দেশগুলো কোনো প্রভাব বি¯তারকারী শক্তি হিসেবে পরিগণিত নয়। মুসলিম বিশে^র এক সময়ের প্রভাবশালী সংগঠন ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসি আজ এক নামসর্বস্ব কাগুজে সংস্থায় পরিণত হয়েছে। কাশ্মীর, ফিলিস্তিন, মিয়ানমারসহ বিশে^র কোথাও মুসলিম স্বার্থরক্ষা বা বিপন্ন মুসলিমদের পাশে দাঁড়াতে এ সংস্থা কোনো ভূমিকা রাখতে অক্ষম। এ অবস্থায় মুসলমানদের অভিন্ন শত্রæ ইসরাইলের সাথে ভারতের এ মাখামাখি সম্পর্ক মুসলিম বিশে^র দুর্বলতাকেই আরো প্রকট করবে।

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।