Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২৪ জুলাই ২০১৭, ০৯ শ্রাবণ, ১৪২৪, ২৯ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী

ঘটনা অস্বীকার করে দায় এড়ানো যায় না

| প্রকাশের সময় : ১৪ জুলাই, ২০১৭, ১২:০০ এএম

কামরুল হাসান দর্পণ
বাংলাদেশে গোপন আটক ও গুম সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ গত ৬ জুলাই একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে যেসব তথ্য ও উপাত্ত তুলে ধরা হয়, তাতে শঙ্কিত না হয়ে উপায় নেই। যে কোনো সুস্থ্য মানুষ এসব তথ্য পড়লে শিউরে উঠবে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস তথ্য তুলে ধরে বলেন, ‘অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে। তারা যাকে যখন খুশি আটক করছে। তারাই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে আটক ব্যক্তিদের শাস্তি কী হবে, তারা দোষী না নির্দোষ। এমনকি তুলে আনা ব্যক্তিদের বেঁচে থাকার অধিকার আছে কি নেই, সেটাও তারাই ঠিক করছে।’ এমন অভিযোগ শুনলে কোনো সুস্থ মানুষের ঠিক থাকার কথা নয়। কারণ তার মনে হতে পারে, তাকেও যদি কখনো তুলে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন তারও জীবন-মরণের বিষয়টি নিরাপত্তা বাহিনী তথা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ইচ্ছা বা মর্জির উপর নির্ভর করবে। তারাই ঠিক করবেন তিনি বেঁচে থাকবেন কি থাকবেন না। এ ধরনের কথা শুনলে কার মাথা ঠিক থাকবে! হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এই প্রতিবেদনে অত্যন্ত ভয়াবহ এবং বিপজ্জনক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ৮২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ২০১৩ সাল থেকে শত শত মানুষকে বেআইনিভাবে আটক করে গোপন স্থানে আটকে রেখেছে। কেবল ২০১৬ সালেই অন্তত ৯০ জনকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তাদের মধ্যে কাউকে কাউকে অজ্ঞাত স্থানে আটক রাখার কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস রাখার পর আদালতে উপস্থাপন করা হয়। ২১ জনের লাশ উদ্ধার হয়। ৯ জনের এখন পর্যন্ত খোঁজ পাওয়া যায়নি। এই ৯০ জনের মধ্যে বিরোধী দলের তিন নেতার সন্তানও রয়েছে। ছয় মাস পর অজ্ঞাত স্থান থেকে একজন মুক্তি পেয়ে বের হন, বাকি দুজনের কোনো খোঁজ মেলেনি। আর ২০১৭ সালের প্রথম পাঁচ মাসে একইভাবে ৪৮ জনের নিখোঁজ হওয়ার খবর এসেছে। ২০১৬ সালের শুরু থেকে গুম হয়েছে এমন ব্যক্তিদের পরিবার এবং ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে, ২০১৩ সালের ২৮ নভেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৩ দিনে গুম হওয়া বিএনপির ১৯ নেতা-কর্মীর পরিবারের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর মধ্যে র‌্যাব ও ডিবি গুম ও হত্যার সঙ্গে জড়িত।
দুই.
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এ প্রতিবেদন নিয়ে দেশজুড়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের দেশের চিরায়ত সংস্কৃতি হচ্ছে, দেশের যে কোনো বিষয় নিয়ে দেশি বা বিদেশি সংস্থা যখন প্রতিবেদন প্রকাশ করে, তা যদি সরকার বা বিরোধী দলের পক্ষে যায়, তবে তা খুবই অভিনন্দনযোগ্য। বিপক্ষে গেলেই মিথ্যা, বানোয়াট, পক্ষপাতিত্বপূর্ণ বলে অভিযোগ করা হয়। এবারের হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন নিশ্চিতভাবেই সরকারের বিপক্ষে গেছে। স্বাভাবিকভাবেই সরকার এ নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন সঠিক নয়। তিনি প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, পালিয়ে বেড়ালে গুম বলি কী করে। ক্ষমতাসীন দলের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেছেন, হিউম্যান রাইটস ভাড়া করা সংগঠন। বিরোধী দল যেভাবে অভিযোগ করে সংস্থাটিও সেভাবেই প্রতিবেদন তৈরি করে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রতিবেদনের সমর্থনে বলেছেন, গুম অপহরণের ভয়ে দেশবাসী উৎকণ্ঠায় জীবনযাপন করছে। বাংলাদেশের মানুষের বেঁচে থাকা, নিরাপদে জীবনযাপন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে উক্ত আন্তর্জাতিক তদন্ত ছাড়া কোনো গত্যন্তর নেই। ক্ষমতাসীন দলের মহাসচিব এবং সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির গুম ও অপহরণ হওয়া নেতা-কর্মীদের তালিকা দেয়া হোক। আর বিএনপির আমলে কতজন গুম ও অপহৃত হয়েছে, তার তালিকা প্রকাশ করা হোক। বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না, প্রতিবেদনটি ক্ষমতাসীন দলের একেবারেই পছন্দ হয়নি এবং হওয়ারও কোনো কারণ নেই। অন্যদিকে যেহেতু প্রতিবেদনে বিএনপির নেতা-কর্মী নিখোঁজ হওয়ার তথ্য রয়েছে, তাই তাদের পছন্দ হয়েছে। তবে এ কথা তো সত্য যে, দেশে মানুষ গুম, অপহরণ, নিখোঁজ ও খুনের শিকার হচ্ছে। পত্র-পত্রিকায় এসব খবর নিয়মিতই প্রকাশিত হচ্ছে। এ সংবাদ কী করে অস্বীকার করা যায়! গুম ও অপহরণের শিকার বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা বেশি হয়েছে, এ সংবাদও বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে কথা বলেছেন তার প্রেক্ষিতে বলা যায়, বিরোধী দলের নেতা-কর্মী বলে নয়, যে কেউ গুম ও অপহরণের শিকার হলে বা নিখোঁজ হলে তাকে খুঁজে বের করার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপরই বর্তায়। একজন মানুষ নিরুদ্দেশ হয়ে থাকবে তাকে উদ্ধার করা যাবে না বা উদ্ধার করা যাচ্ছে না, এটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতা বলেই মানুষ ধরে নেবে। আর আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে অতি জটিল ও কঠিন কেসও যে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সুচারুভাবে সমাধান করতে পারে, তা সকলেরই জানা। বিশ্বব্যাপী আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দক্ষতার সুনাম রয়েছে। তবে যখন রক্ষক স্বয়ং ভক্ষক হয়ে উঠে, তখন এ দুনিয়ার কারো সাধ্য নেই তার হাত থেকে রেহাই পাবে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন থেকেই তা স্পষ্ট হয়। কারণ সেখানে স্পষ্টতই উল্লেখ করা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মানুষকে তুলে নিয়ে তার জীবন-মৃত্যুর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তারাই বিচার করছে তুলে নিয়ে যাওয়া ব্যক্তির কে বাঁচবে আর কে মরবে। এ অভিযোগ যখন একটি দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে উঠে, তখন সে দেশের মানুষ নিরাপদ ও স্বস্তিতে বসবাস করছে, তা কেউই বিশ্বাস করবে না। এ প্রতিবেদনে মনে হয়েছে, হিটলারের গেস্টাপো বাহিনীর মতো আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিরোধী মতের লোকজনকে তুলে নিয়ে নিখোঁজ করে দিচ্ছে। গ্যাস চেম্বারে ঢুকিয়ে মেরে ফেলছে। প্রশ্ন হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে যেহেতু গুম, খুন ও অপহরণের অভিযোগ উঠেছে, তা খতিয়ে দেখতে অসুবিধা কোথায়? অভিযোগ একেবারে উড়িয়ে দিয়ে কি মানুষের পারসেপশন বা ধারণা বদলানো যাবে? কেননা, সাধারণ মানুষ আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক শ্রেণীর সদস্যর আচার-আচরণ ও হিং¯্রতা সম্পর্কে ভালভাবেই জানে। তারা কী না করতে পারে, এ ধারণা রয়েছে। এ ধারণা যে শুধু এ সরকারের আমলে সৃষ্টি হয়েছে তা নয়, সব সরকারের আমলেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্পর্কে সাধারণ মানুষের এ ধারণা ছিল এবং আছে। পুলিশ সম্পর্কে তো রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং বলেছেন, ‘উহাদের লালায় বিষ রহিয়াছে। উহারা গাছের যে ডাল ধরে তা শুকাইয়া মরিয়া যায়।’ কাজেই আমাদের উপমহাদেশের পুলিশ সম্পর্কে প্রাচীণ কাল থেকেই এমন নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। আধুনিক কালে এসে পুলিশ যেমন এ ধারণা ভুল প্রমাণ করতে পারেনি, তেমনি মানুষের মধ্যে তা বদ্ধমূল হয়ে আছে। কাজেই পুলিশ করতে পারে না, এমন কাজ যে নাই, তা সাধারণ মানুষ ভাল করেই জানে। যারা সরকারে থাকে তারা আরও ভাল করেই জানে। কাজেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে যেহেতু অভিযোগ উঠেছে, তা ব্যঙ্গ-বিদ্রæপ বা সর্বৈব মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেয়া সুবিবেচনা প্রসূত হবে না। এসব ভয়ংকর অভিযোগ যদি খতিয়ে দেখা না হয়, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমর্যাদা তো বটেই সরকারেরও মযার্দা দেশে ও বিদেশে ¤øান হয়ে পড়বে।
তিন.
ক্ষমতাসীন দলের মহাসচিব এবং সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিএনপির কাছে গুম, খুন, অপহরণ ও নিখোঁজ হওয়ার যে তালিকা চেয়েছেন, বিএনপির উচিত সে তালিকা দেয়া। একই সঙ্গে বিএনপি আমলে যে গুম, খুন, অপহরণ ও নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে আওয়ামী লীগেরও উচিত সে তালিকা প্রকাশ করা। পারস্পরিক দোষারোপ না করে গুম-খুন ও অপহরণের মতো ভয়ংকর এ অপসংস্কৃতি বন্ধ করা প্রয়োজন। তবে বিএনপি গত মঙ্গলবার রাজধানী থেকে নিখোঁজ তার ২৫ নেতা-কর্মীর নাম এবং কবে কোথায় থেকে অপহৃত বা নিখোঁজ হয়েছে, তার একটি ক্ষুদ্র তালিকা দিয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের কে কবে কখন গুম, অপহরণ ও নিখোঁজ হয়েছেন, তার একটি পরিসংখ্যান রয়েছে। সংস্থাটি গুম-খুন, অপহরণ ও নিখোঁজ হওয়া পরিবারের সদস্যাদের সাথে কথা বলেই প্রতিবেদন তৈরি করেছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শী ১০০ ব্যক্তির সাথে তারা কথা বলেছে। যেহেতু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধেই এই গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, এ অভিযোগের দায় সরকারের উপরও বর্তায়। এ দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। এড়াতে হলে বিএনপির দেয়া তালিকা ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে উল্লেখিত গুম ও অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের ব্যাপারে খোঁজ দেয়ার দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। শুধু অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। এছাড়া গুম-খুনের শিকার পরিবারগুলোর আহাজারি আমরা দেখেছি। তারা প্রেস কনফারেন্স করে, মানববন্ধন করে স্বজনদের নিখোঁজ হওয়ার কথা বলেছে। তাদের খুঁজে বের করে দেয়ার জন্য স্বজনরা সরকারের প্রতি আকূল আবেদন করেছেন। এমন কথাও বলেছেন, অন্তত লাশটা যেন খুঁজে বের করে তাদের দেয়া হয়। এসবই পত্র-পত্রিকায় এসেছে। এসব নিখোঁজ ব্যক্তিদের ব্যাপারে তো সরকারের তরফ থেকে কিছু বলা হয়নি। এমনকি খুঁজে বের করার উদ্যোগও দেখা যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি আক্ষরিক অর্থে আন্তরিক হয়ে নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধান করতো, তবে তার পক্ষে অসম্ভব হতো না। নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারগুলো বলেছে, তারা বারবার র‌্যাব ও ডিবিসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষোর কাছে ধরনা দিয়েছে। কেউ কেউ জাতিসংঘের গুমবিষয়ক কর্মপরিষদের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। কেউ বাংলাদেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাছে অভিাযোগ করেছেন, এমনকি স্বজনের সন্ধান চেয়ে উচ্চ আদালতেও গিয়েছেন। তাদের এই তৎপরতা নিশ্চয়ই সরকার অজানা নয়। কাজেই সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর উচিত ছিল, এসব ঘটনা আমলে নিয়ে নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেয়া। আমরা তো সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো তৎপরতা দেখছি না। সরকারের চেয়ে শক্তিশালী কোনো শক্তি দুনিয়াতে আছে, এ কথা বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই। সরকার পারে না, এমন কিছু নেই। আর সরকারেরই দায়িত্ব দল মত নির্বিশেষে যে কোনো নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ প্রতিবেদনে যেসব ব্যক্তির তালিকা উল্লেখ করেছে, যদি এগুলো অসত্য হয়, তবে সরকারের উচিত সেগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে জনসম্মুখে উপস্থাপন করে জানানো যে প্রতিবেদনটি অসত্য। তা যদি না করা হয়, তবে মানুষ এ প্রতিবেদনকেই সত্য বলে ধরে নেবে। আর সত্য যদি না হয় তবে, ২০১৩ ও ২০১৫ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের গুমবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রæপ গুম, খুন ও অপহরণের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশে আসতে চাইলে সরকার কেনো সাড়া দেয়নি? গত বছরের মে মাস পর্যন্ত জাতিসংঘের গুমবিষয়ক কর্মপরিষদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ থেকে ৩৪টি অভিাযোগ জমা পড়ে। এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে সরকার নিজেই তো খতিয়ে দেখতে পারতো। কাজেই ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক বিএনপিকে যে তালিকা দেয়ার আহŸান জানিয়েছেন, তা যদি তারা না-ও দেয়, এই তালিকা ধরেই তো গুম ও অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের সন্ধান কার্যক্রম চালানো যেতে পারে। তাদের খুঁজে বের করে জনসম্মুখে হাজির করতে পারে। করা হচ্ছে না কেন?
চার.
গুম নিয়ে দুই মন্ত্রী দুই ধরনের কথা বলেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, সরকারকে বিব্রত করতে কেউ কেউ নিজেই নিখোঁজ থাকছেন। অন্যদিকে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস কমিটির কাছে স্বীকার করেছেন, বাংলাদেশে গুমের ঘটনা ঘটছে। তবে সংখ্যাটা খুবই নগণ্য। প্রশ্ন হচ্ছে, গুম ও অপহরণের ঘটনা নিয়ে এমন সাংঘর্ষিক কথা বলা হবে কেন? এ থেকে কি বোঝা যায় না, বিষয়টি নিয়ে সরকারের অবস্থান দ্বিমুখী? গুম, খুন, অপহরণ ও নিখোঁজের ঘটনা যে ঘটছে, তা কোনোভাবেই অস্বীকার কারার উপায় নেই এবং এই হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক্ষেত্রে উট পাখির মতো বালিতে মাথা গুজে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। দেশের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশিষ্টজনরাও গুম, খুন ও অপহরণের কথা বলছেন। এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার কথাও বলা হচ্ছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, ঘটনা যদি নাই ঘটত, তবে এ নিয়ে প্রতিবেদন বা সংবাদ প্রকাশের প্রয়োজন পড়ত না। সরকারের উচিত হবে প্রত্যেকটি গুম, খুন, অপহরণ ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে তার সুরাহা করা। সুশাসন নিশ্চিত করা এবং জনমনে সৃষ্ট আতঙ্ক দূর করার উদ্যোগ নেয়া।
darpan.journalist@gmail.com

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর