Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০১৭, ০৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী

২৫ ব্যাংকের আমানতের সুদ ৫ শতাংশের কম এভাবে চললে আমানত বিমুখ হবে গ্রাহক -বিশেষজ্ঞদের অভিমত

| প্রকাশের সময় : ১৪ জুলাই, ২০১৭, ১২:০০ এএম

অর্থনৈতিক রিপোর্টার : ব্যাংক খাতে বাড়ছে না আমানতের সুদহার। দেশের ৫৭টি তফসিলি ব্যাংকের মধ্যে ২৫টি ব্যাংকের আমানতের সুদহার ৫ শতাংশের নিচে। এর মধ্যে ১৩টি বেসরকারি ব্যাংক, ৮টি বিদেশি ব্যাংক এবং ৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক রয়েছে। অন্যান্য অধিকাংশ ব্যাংকের আমানতের সুদহারও ৫ শতাংশের কাছাকাছি রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত (২০১৬-১৭) অর্থবছরের মে মাস শেষে আমানতের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর গড় সুদহার ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ। বিদেশি ব্যাংকে আমানতের সুদহার সবচেয়ে কম। এসব ব্যাংকে আমানতের গড় সুদহার ১ দশমিক ৫৯ শতাংশ। বিশেষায়িত ব্যাংকের সুদহার অবশ্য ৫ শতাংশের উপরে রয়েছে। এছাড়া বেসরকারি ব্যাংকে আমানতের গড় সুদহার ৫ দশমিক ২১ শতাংশ। আমানতে ৫ শতাংশের কম সুদ দেওয়া ব্যাংকগুলো হলো- রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মধ্যে অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক এবং সোনালী ব্যাংক। বিদেশি ব্যাংকগুলোর মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড চার্টাড ব্যাংক, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, হাবিব ব্যাংক, সিটি ব্যাংক এনএ, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন, উরি ব্যাংক, এইচএসবিসি এবং ব্যাংক আলফালাহ লিমিটেড। বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক, দ্য সিটি ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, ইস্টার্ণ ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ট্রাস্ট ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক এবং আইসিবি ইসলামী ব্যাংক।
এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আমানতের সুদহার শুধু নিচেই নামেনি, মূল্যস্ফীতি থেকেও নিচে নেমে এসেছে। যা খুবই বিপজ্জনক। এতে আমানতকারীরা ব্যাংকের আমানত রাখার ক্ষেত্রে বিমুখ হবেন। যা ব্যাংকিং খাতের জন্য ভালো নয়। আর মানুষের হাতে পুঁজি আটকে গেলে পুরো অর্থনীতিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাদের মতে, পরিস্থিতির উন্নতি করতে না পারলে মানুষ বাড়ি-ঘর কেনার মত জায়গায় বিনিয়োগ করবে। কেউ ব্যাংকে আমানত রাখবে না।
অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত বলেছেন, আমানতে সুদ হার কমার কারণে ঋণেও সুদ হার কমছে। এক্ষেত্রে আমানতকারীরা সরকারী সঞ্চয়পত্রের দিকে যাচ্ছেন। বিশেষ করে যারা ব্যাংকে টাকা রেখে সংসার চালান। কারণ, বাণিজ্যিক ব্যাংক তো নিজের ক্ষতি করে কোনও আমানতকারীকে লাভ দেবে না। আর এই ধরনের আমানতকারীর সংখ্যাও খুব বেশি নয়। তিনি বলেন, সরকার ইচ্ছে করলে, যারা পেনশনভোগী, বিশেষ করে যাদের বয়স বেশি, তাদের একটি কাঠামোতে এনে বিশেষ বিবেচনায় বেশি সুদ দিয়ে সহযোগিতা করতে পারে।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টার প্রেস নেটওয়ার্ক-আইপিএনের গবেষণায়ও দেখা গেছে, তিন বছরের ব্যবধানে ব্যক্তি-পর্যায়ে আমানতে সুদ থেকে আয় অর্ধেকে নেমে গেছে। স¤প্রতি প্রকাশিত প্রতিষ্ঠানটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১২ সালে কোনও ব্যক্তি কোনও বাণিজ্যিক ব্যাংকে ১০ লাখ টাকা রাখলে, ব্যাংক তাকে প্রতি মাসে সুদ বাবদ ১০ হাজারেরও বেশি টাকা দিত। কিন্তু বর্তমানে ব্যাংক ১০ লাখ টাকার বিপরীতে প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকাও দিতে পারছে না। বিনিয়োগ পরিস্থিতি ভালো না থাকায় ব্যাংকের আয় কমে গেছে। যার ফলে ব্যাংকগুলো আমানতে সুদ কমাতে বাধ্য হয়েছে। আইপিএনের গবেষক আনোয়ারুল হক বলেন, মধ্যবিত্ত¡ শ্রেণির অনেকে আছেন, যারা ব্যাংকে টাকা রেখে সংসার পরিচালনা করেন। বিশেষ করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে অবসর নেওয়া অনেকেই ব্যাংকে টাকা রেখে তার বিপরীতে পাওয়া সুদের অর্থ দিয়ে সংসার চালান। বিনিয়োগ না থাকায় বর্তমানে ব্যাংকগুলোয় বিপুল অংকের টাকা ‘অলস’ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এ অবস্থায় ব্যাংক আমানতে সুদ হার কমিয়েছে। এর ফলে যেসব ব্যক্তি ব্যাংকের সুদের ওপরে নির্ভর করতেন, তারা এখন আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।