Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২৪ জুলাই ২০১৭, ০৯ শ্রাবণ, ১৪২৪, ২৯ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী

কেরানীগঞ্জে সাবরেজিস্ট্রার না থাকায় ভোগান্তি চরম

| প্রকাশের সময় : ১৭ জুলাই, ২০১৭, ১২:০০ এএম

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) উপজেলা সংবাদদাতা : ঢাকার কেরানীগঞ্জে গত চার মাস ধরে সাবরেজিস্ট্রার না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাবরেজিস্ট্রি অফিসে আসা শতশত মানুষ। অনেকেই তাদের প্রয়োজনে জমি ক্রয়-বিক্রয়ের পরে রেজিস্ট্রি করতে না পেরে তারাও চরম বিপাকে পড়েছে। এতে এই অফিসের বিভিন্ন কর্মকান্ডের সাথে ওতোপ্রতোভাবে জড়িত দলিল লেখক, নকলনবিসসহ শতাধিক মানুষ এখন বেকার হয়ে পড়েছে। থমকে গেছে সাবরেজিস্ট্রি অফিস ভিত্তিক সমস্ত অর্থনৈতিক কর্মকান্ড। একদিকে সরকার যেমন প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অন্যদিকে শতশত জমির দলিল রেজিস্ট্রি করার অপেক্ষায় দলিলের স্তুপ জমে মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌছে যাচ্ছে।
গতকাল (রোববার) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানানর সাবরেজিস্ট্রার ফজলার রহমান পদোন্নতি পেয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় তার পদটি দীর্ঘদিন যাবত শুন্য অবস্থায় পড়ে থাকে। পরে মানুষের ভোগান্তির কথা মাথায় রেখে দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানার সাবরেজিষ্টার আব্দুল বারী ২০ এপ্রিল থেকে সপ্তাহে দু‘দিন দুপুর দুইটা পর্যন্ত মডেল থানার সাবরেজিষ্ট্রি অফিসে জমি রেজিষ্ট্রি করতেন। ১২জুন সে অব্যহতি দিয়ে চলে যান। পরে নবাবগঞ্জ উপজেলার সাবরেজিষ্টার রেজাউল করীম বকশী সপ্তাহে দু‘দিন এই অফিসে জমি রেজিষ্ট্রি করতেন। কিন্তু তিনিও গত ৬ জুলাই অব্যহতি দিয়ে তার কর্মস্থল নবাবগঞ্জে চলে যান। ফলে সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের সমস্ত কর্মকান্ড থমকে গেছে। অলস সময় কাটাচ্ছে সবাই। অন্যদিকে দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানায় দীর্ঘ একমাস যাবত সাবরেজিষ্ট্রার না থাকায় সেখানেও দেখা দিয়েছে স্থবিরতা ও ভোগান্তি। কেরানীগঞ্জ মডেল থানা দলিল লেখক সমিতিরি সভাপতি মোঃ কামাল উদ্দিন বলেন কেরানীগঞ্জ মডেল থানা সাবরেজিষ্ট্রি অফিস থেকে সরকার প্রতিমাসে ৭/৮ কোটি টাকা রাজস্ব পেয়ে থাকে। এই গুরুত্বপূর্ন অফিসে সাবরেজিষ্টার না থাকায় আমরা এখন বেকার হয়ে পড়েছি। অন্যদিকে সরকার প্রতিমাসে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হাড়াচ্ছে এখান থেকে। বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতিরি যুগ্ন সম্পাদক নুরুল ইসলাম রুপালী জানান, দীর্ঘ চার মাস যাবত মডেল থানায় এবং একমাস যাবত দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানায় সাবরেজিষ্টার নেই। আবার পারটাইম যারা সাবরেজিষ্ট্রি অফিসে কাজ করতেন তারাও চলে যাওয়ায় মানুষের ভোগান্তি এখন চরমে পৌছে গিয়েছে। গত বুধবার এক আমেরিকা প্রবাসী জমি রেজিষ্ট্রি করতে কোনাখোলা রেজিষ্ট্রি অফিসে আসলেও সাবরেজিষ্টারের অভাবে তিনি জমি রেজিষ্ট্রি করতে পারেননি। অনেক প্রয়োজন থাকা সত্তে¡ও তিনি রেজিষ্ট্রি করতে না পেরে আবার আমেরিকায় চলে যান। দলিল লেখক হাজী মেঝবা উদ্দিন বাবুল জানান, অনেকেই রয়েছেন যারা জমি বিক্রয় করে তারা মেয়েকে বিবাহ দিবেন, আবার অনেকেই জমি বিক্রয় করে বিদেশে তার সন্তানকে পাঠাবেন, কেউ আবার জমি বিক্রয় করে তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসায় ব্যায় করবেন। কিন্তু সাবরেজিষ্টার না থাকায় এসব লোকেরাও চরম বিপাকে পড়েছে। এই গুরুত্বপূর্ন জায়গায় দীর্ঘদিন যাবত সাবরেজিষ্টার না থাকার কারন জিজ্ঞাসা করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, এই দুই থানায় গুরুত্বপুর্ন দুইটি পদে নিয়োগের জন্য প্রায় দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা দরকষাকষি হচ্ছে। আবার অনেকেই কোটি টাকা দিয়ে নিয়োগ নিলেও তার পুরো মেয়াদকাল শেষ করতে পারবে কিনা সে বিষয়ে কোন নিশ্চয়তা না পাওয়ার কারনেই এখানে সাবরেজিষ্টার নিয়োগে বিলম্ব হচ্ছে ।

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।