Inqilab Logo

মঙ্গলবার, ১৬ আগস্ট ২০২২, ০১ ভাদ্র ১৪২৯, ১৭ মুহাররম ১৪৪৪
শিরোনাম

ইবিতে কর্মঘণ্টা নিয়ে বিতর্ক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলনে যাওয়ার ইঙ্গিত

| প্রকাশের সময় : ৩০ জুলাই, ২০১৭, ১২:০০ এএম

ইবি থেকে আব্দুল্লাহ আল ফারুক : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৪ তম সিন্ডিকেটে ক্যাম্পাসের কর্মঘন্টা সকাল ৯ থেকে বিকাল সাড়ে ৪ টা পর্যন্ত করা হয়েছে। গত ৪ জুলাই সিন্ডিকেটে এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্তে ক্যাম্পাসে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষকরা চুপ থাকলেও অসন্তোষ বিরাজ করছে কর্মকর্তা-কর্মচারীরাদের মাঝে। যে কোনো সময় তারা বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানায়, গত চার জুলাই প্রায় ৫০ টি এজেন্ডা নিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৪ তম সিন্ডিকেট অনুষ্ঠিত হয়। সিন্ডিকেটে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু সিদ্ধান্তের মধ্যে ক্যাম্পাসের সময় সকাল ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত করা হয়। পাশকৃত কর্মঘন্টা নিয়ে শিক্ষকরা তেমন কোনো কথা না বললেও শুরু থেকে বিরোধীতা করে আসছিল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তারা ক্যাম্পাসের এ সময়সীমা পরিবর্তনের জন্য কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে কথাও বলেছেন। তাদের অভিযোগ সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানলেও মানছে না শিক্ষকরা। শিক্ষকরা অধিকাংশই ২টার গাড়ীতে ক্যাম্পাস ত্যাগ করছেন। বিগত দুই সপ্তাহ পর্যবেক্ষনে এর সত্যতাও মিলেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ক্যাম্পাস থেকে ২ টার গাড়ি ছেড়ে যাওয়ার সময় শিক্ষকদের গাড়ি পরিপূনর্ণ থাকলেও বিকাল সাড়ে ৪ টার সময় কোন গাড়িতে ৮জন আবার কোন গাড়িতে ১০ জনের বেশি শিক্ষক থাকেননা। তবে শিক্ষকদের যুক্তি তারা তাদের দায়িত্ব যথাযথো ভাবে পালন করেই ক্যাম্পাস ছেড়ে যাচ্ছেন। তবে বিরোধপূর্ণ এ সিদ্ধান্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পালন করতে হচ্ছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। সকাল ৯টায় এসে সাড়ে ৪ টায় যেতে হচ্ছে তাদের। এটা নিয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মধ্যে মনসÍাত্বিক দ্ব›েদ্বর সৃষ্টি হয়েছে।
এবিষয়ে কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি সামসুজ্জোহা বলেন ‘বর্তমান কর্মঘন্টা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৫ ভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারী অখুশি। কর্মকর্তাদের চাকরির বয়স ৬২ এবং কর্মঘন্টা বৃদ্ধির বিষয়ে আমরা সাধারণ সভা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি’র সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু তিনি আমাদের কোনো কথা রাখেননি। বাধ্য হয়ে আমরা বর্তমান কর্মঘন্টায় অফিস করছি। আমাদের দাবি চাকরির বয়স ৬২ এবং ক্যাম্পাসের কর্মঘন্টা সকাল ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩ টা পর্যন্ত করা হোক। শিক্ষকদের বিষয়ে আমি কোন মন্তব্য করতে চাই না। আমরা শুধুমাত্র আমাদের দাবি নিয়ে কথা বলেছি। আমাদের দাবি পুরোন না হলে আমরা আন্দোলনে যেতে বার্ধ্য হবো।’
শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমান বলেন,‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কর্মঘন্টা শিক্ষকরা মানছেনা সেটা ঠিক নয়। তারা তাদের রুটিন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে যদি ক্লাস-পরীক্ষা ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাহলে শিক্ষক সমিতির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারী বলেন,‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে সেশনজট মুক্ত এবং আর্ন্তজাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিনত করার জন্য বিজ্ঞ সিন্ডিকেট ক্যাম্পাসের কর্মঘন্টা সকাল ৯ টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪ টা পর্যন্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। যদি কোন শিক্ষক এবং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এই কর্মঘন্টা ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ