Inqilab Logo

বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৩ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

মীরসরাইয়ে শিক্ষক সংকটে প্রাথমিকে ভেঙে পড়েছে কার্যক্রম

প্রকাশের সময় : ১২ মার্চ, ২০১৬, ১২:০০ এএম

আমিনুল হক, মীরসরাই (চট্টগ্রাম) থেকে

মীরসরাই উপজেলায় সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক সংকটের কারণে ভেঙে পড়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। শিক্ষক ও শিক্ষা বিভাগের গাফেলতিতে দুর্গম এলাকার অনেক বিদ্যালয়ে ঠিক মতো হচ্ছে না ক্লাস। আবার অনেক স্থানে নেই শিক্ষক বা প্রধান শিক্ষক। যা উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থাকেই ঠেলে দিয়েছে হুমকির মুখে। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, উপজেলাতে ৭ জন শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) ও ২ জন সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তার পদ শূন্য কয়েক বছর যাবৎ। কর্মকর্তা সংকটের কারণে উপজেলার ১৯১তে বিদ্যালয়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে না। কর্র্মকর্তার পদ ছাড়াও ৫২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক। এ বিদ্যালয়গুলোতে সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। প্রাক-প্রাথমিকে ৯৯ জন আর সহকারী ৪০ জন শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে দীর্ঘদিন। শিক্ষক ও কর্মকর্তা সংকটের কারণে উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম যেন মুখ থুবড়ে পড়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় দীর্ঘ ৩ থেকে ৪ বছর যাবত ৯ জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদ শূন্য রয়েছে। ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত পর্যবেক্ষণ না থাকায় ঝিমিয়ে পড়েছে শিক্ষা কার্যক্রম। একজন সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে। উপজেলায় ১৯১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের উপস্থিতি ও শেখানো কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করার নিয়ম রয়েছে। বিদ্যালয়গুলোতে পর্যবেক্ষণ না থাকায় শিক্ষকরা নিজেদের ইচ্ছেমতো চালাচ্ছেন বিদ্যালয়ের কার্যক্রম। পর্যবেক্ষণ না করার ফলে উপজেলার শতাধিক কিন্ডারগার্ডেনগুলোও চলছে নিজেদের ইচ্ছে মতো। বিভিন্ন ফি’র নামে তারা অভিভাবকদের পকেট কাটছেন রীতিমত। মাঝে মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অবস্থিত বিদ্যালয়গুলো পর্যবেক্ষণ করা হলেও চরাঞ্চল ও মফস্বল এলাকায় একেবারে পর্যবেক্ষণ করা হয় না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের মধ্যে সাহেরখালী, হাইতকান্দি, মঘাদিয়া, মায়ানী, ইছাখালী, ওসমানপুর, হিঙ্গুলী, করেরহাটের পাহাড়ি এলাকার বিভিন্ন ইউনিয়নে অবস্থিত প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পর্যবেক্ষণের কোন ছোঁয়া নেই। ফলে ওই সকল বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিজেদের ইচ্ছে মতো ক্লাস নিয়ে থাকেন। তাই ওই সকল বিদ্যালয়ে ফলাফলও ভালো হয় না। মাঝে মধ্যে কয়েকটি বিদ্যালয়ের ফলাফল ভালো হলেও অধিকাংশ বিদ্যালয় কাক্সিক্ষত ফলাফল অর্জন করতে পারে না। তাই অর্ধ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী নিয়ে বিপাকে পড়েছেন অভিভাবকরা। শিক্ষা কর্মকর্তার পদ ছাড়াও উপজেলার ৫২টি বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন প্রাথমিক শিক্ষক না থাকায় ঝিমিয়ে পড়েছে বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম। বিদ্যালয়গুলো প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় প্রত্যেক বছর কমছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। বিদ্যালয়গুলোতে সহাকারী শিক্ষকেরা প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। ফলে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বের কারণে সহকারী শিক্ষকও তার পাঠদান ঠিকমত করতে পারেন না। আর সহকারী শিক্ষক পদে ৪০ জন, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষক পদে ৯৯ জনের পদ শূন্য রয়েছে। উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে জেলা শিক্ষা অফিসে শূন্য পদের জন্য আবেদন আবেদন করলেও পূরণ হচ্ছে না শূন্য পদগুলো। মীরসরাই সদরস্থ মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের গত কয়েক বছর ধরেই হচ্ছে না কসরত বা সুষ্ঠু শিক্ষা। নেই ভবন, নেই নিজেদের জমি, নেই শ্রেণিকক্ষ। শিক্ষা বিভাগ পরিচালনা কমিটি সবাই একের দায় অন্যকে দিয়েই বাঁচেন। সম্প্রতি হিঙ্গুলী ইউনিয়নের ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণিতে মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ২৫০ জন। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক রয়েছে মাত্র দুইজন। অনেক সময় বিদ্যালয়ের কাজে প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান ভূইয়া উপজেলায় আসলে একজন শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়ের পাঠদান চালাতে হয়। শিক্ষক না থাকার ফলে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যালয়টির। ফলে শিক্ষার্থীরা এদিক ওদিক ছোটাছুটি করছে। ২য় শ্রেণির শিক্ষার্র্থী জাহিদুল ইসলাম, সানজিদা, আলিমুল্লা জানান, তারা অনেক দূর থেকে বিদ্যালয়ে পাঠ গ্রহণ করতে আসেন। কিন্তু শিক্ষক না থাকায় ঠিক মতো তাদের পাঠ দান হয় না। ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান ভূইয়া জানান, শিক্ষক সংকটের কারণে বিদ্যালয়ে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। অনেক সময় একজন শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়ে পাঠদান করতে হয়। ফলে সকল শ্রেণিতে পাঠদান সম্ভব হয় না। বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি মীরসরাই উপজেলা শাখার সভাপতি মনজুর কাদের চৌধুরী বলেন, মীরসরাইয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যবেক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ কর্মকর্তা না থাকায় উপজেলার শিক্ষার মান ভালো হচ্ছে না। যদি পরিপূর্ণ কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয় তাহলে আরো উন্নতি হবে মীরসরাইয়ের প্রাথমিক শিক্ষা খাতে। এছাড়াও প্রাথমিক ও সহকারী শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় অন্যান্য শিক্ষকদের উপর কাজের চাপ বেড়ে গেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যালয়গুলোতে শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া প্রয়োজন। মীরসরাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম রহমান চৌধুরী বলেন, উপজেলাতে গত কয়েক বছর সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তার পদ শূন্য রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে সবকিছু প্রস্তুত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্মরতদের। ফলে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘিœত হচ্ছে। সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তার সংকটের কারণে বিদ্যালয়গুলো সময়মতো পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া উপজেলা ৫২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক, প্রাক-প্রাথমিকে ৯৯ জন এবং ৪০ জন সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। শিক্ষার মান উন্নয়নে বিদ্যালয়গুলোতে শূন্য পদ পূরণ করা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মীরসরাইয়ে শিক্ষক সংকটে প্রাথমিকে ভেঙে পড়েছে কার্যক্রম
আরও পড়ুন