Inqilab Logo

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯ আশ্বিন ১৪২৭, ০৬ সফর ১৪৪২ হিজরী

স্বর্ণ ব্যবহারে ক্যান্সার চিকিৎসা

| প্রকাশের সময় : ৮ আগস্ট, ২০১৭, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : স্বর্ণের ক্ষুদ্র কণা ব্যবহার করে ক্যান্সারের চিকিৎসায় বিপুল অগ্রগতি আনা সম্ভব বলে দাবি করেছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষকরা। স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দল বিজ্ঞানী দাবি করেছেন, স্বর্ণ ক্যান্সারের ওষুধের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে একটি জেব্রাফিশের ওপর এ সংক্রান্ত পরীক্ষানিরীক্ষা চালিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে সুনিশ্চিত ধারণা পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তবে এখনও মানবদেহে এর প্রভাব বিচার করে দেখা হয়নি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, রোগীর দেহে স্বর্ণ ব্যবহারের আগে আরও অনেক কাজ বাকী।
স্বর্ণ একটি নিরাপদ রাসায়নিক উপাদান। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্বর্ণের টুকরাগুলো মূলত ‘গোল্ড ন্যানোপার্টিকেল’ নামে পরিচিত। এডিনবার্গের বিজ্ঞানীরা এগুলোকে একটি কেমিক্যাল ডিভাইসের মধ্যে স্থাপন করেন। পরে সেই ডিভাইসটি একটি জেব্রাফিশের মস্তিষ্কে স্থাপন করা হয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জেব্রাফিশের মস্তিষ্কের মধ্যে স্বর্ণের টুকরা বসিয়ে তারা দেখেছেন সেটি ওষুধের কার্যকারিতার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। অবশ্য, এখন পর্যন্ত কোনও মানবদেহে এটি পরীক্ষা করে দেখেননি বিজ্ঞানীরা। তবে তারা আশা করছেন একদিন কেমোথেরাপির পাশ্বপ্রতিক্রিয়া কমাতে স্বর্ণের কণা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে।
টিউমার বা ক্যান্সার ধরা পড়ার পর এর চিকিৎসায় কেমোথেরাপি দেওয়ার সময় শরীরের অন্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু স্বর্ণের ছোট কণা ব্যবহার করা হলে তা হবে না বলে আশা করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের দাবি, এ পদ্ধতিতে সুস্থ টিস্যুগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত না করেই আক্রান্ত কোষগুলোকে ধ্বংস করে দেওয়া যাবে।
ইউনিভার্সিটি অব এডিনবার্গের ক্যান্সার রিসার্চ সেন্টারের গবেষক ড. আসিয়ের আনচিতি-ব্রোচেতা বলছেন, ‘আমরা স্বর্ণের নতুন বৈশিষ্ট্য আবিষ্কার করেছি যা আগে অজানা ছিল। আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে এই ধাতুটির মাধ্যমে মানুষের টিউমারের ভেতরে অত্যন্ত নিরাপদে ওষুধ প্রয়োগ করা যায়।’
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট ড. আসিয়েরকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, যদিও রোগীদের ওপর এটা প্রয়োগ করার আগে এটা নিয়ে আরো অনেক কাজ করার আছে। ড. আসিয়ের আরও বলেন, ‘আমরা আশা করছি, টিউমারের ভেতর সরাসরি কেমোথেরাপিকে সক্রিয় করার সক্ষমতাসম্পন্ন একই ধরনের এমন একটি ডিভাইস একদিন মানুষের মধ্যেও স্থাপন করা যাবে। পাশাপাশি কেমোথেরাপি দেওয়ার কারণে মানবদেহে যে খারাপ প্রভাব পড়ে তেও কমিয়ে দেবে এই ধাতুটি।’
যুক্তরাজ্যের ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট (সিআরইউকে) এবং ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড ফিজিক্যাল সাইন্স রিসার্চ কাউন্সিলের অর্থায়নে গবেষণাটি সম্পন্ন হয়েছে। এটির সমন্বয়ের করেছে স্পেনের ইউনিভার্সটি অব জ্যারাগোজার ন্যানোসাইন্স অব অ্যারাগোন ইনস্টিটিউট।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন