Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২০, ২০ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৩ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

ভারতে জম্মু-কাশ্মীরের অন্তর্ভুক্তি নিয়েই এবার বিতর্ক উঠবে -ওমর আব্দুল্লাহ

| প্রকাশের সময় : ৮ আগস্ট, ২০১৭, ১২:২০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা সংক্রান্ত বিতর্কে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থানের তীব্র নিন্দা করলেন সে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। প্রধান বিরোধী দল ন্যাশনাল কনফারেন্সের ওই নেতার মন্তব্য, ৩৫-এ ধারা নিয়ে বৃহত্তর বিতর্ক যদি হয়, তা হলে জম্মু-কাশ্মীরের ভারতভুক্তি নিয়েও বিতর্ক উঠবে। কেন্দ্রীয় সরকার তেমন বিতর্কের জন্য প্রস্তুত তো? প্রশ্ন ওমরের। শুধু বিরোধী নেতা ওমর নন, জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতিও বিষয়টি নিয়ে গত সপ্তাহে মুখ খুলেছিলেন। রাজ্য থেকে ৩৫-এ ধারা তুলে নেওয়া হলে উপত্যকায় ভারতের জাতীয় পতাকা তোলার মতো আর কেউ থাকবেন না, মন্তব্য করেছিলেন মেহবুবা।
ওমর আবদুল্লাহ গত রোববার ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘জম্মু-কাশ্মীরের ভারতভুক্তি এবং রাজ্যে ৩৫-এ ধারা বলবৎ থাকা একই মুদ্রার দু’টি পিঠের মতো’। ৩৫-এ ধারা বলবৎ রেখে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা অক্ষুণœ রাখা হবে কি না, তা নিয়ে যদি বিতর্ক শুরু করতে হয়, তা হলে ভারতে জম্মু-কাশ্মীরের অন্তর্ভুক্তি নিয়েও বিতর্ক শুরু করতে হবে, -মন্তব্য রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর। ওমর আরও বলেছেন, ‘জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অর্থ হল ভারতের সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীরের সংযুক্তিকরণকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দেওয়া’। জম্মু-কাশ্মীরের পূর্বতন মহারাজা হরি সিংহ যে চুক্তির মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে মিশিয়ে দেন নিজের রাজ্যকে, সেই চুক্তিতেই জম্মু-কাশ্মীরের জন্য বিশেষ মর্যাদার কথা ছিল বলে ওমর জানিয়েছেন। ৩৭০ ধারার মতো ৩৫-এ ধারাও তাই জম্মু-কাশ্মীরের জন্য অপরিহার্য বলে ওমরের দাবি।
১৯৫৬ সালে জম্মু-কাশ্মীরের যে সংবিধান গৃহীত হয়েছিল, সেই সংবিধানে নির্দিষ্ট করে জানানো হয়েছিল, জম্মু-কাশ্মীরের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে বিবেচিত হতে হলে শর্ত কী কী। সংবিধান অনুযায়ী ১৯৫৪ সালের ১৪ মে-তে যারা জম্মু-কাশ্মীরের প্রজা ছিলেন, তাদের সকলকে রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে ধরা হবে। এ ছাড়া, কেউ যদি ১০ বছর বা তারও বেশি সময় জম্মু-কাশ্মীরে থাকেন এবং বৈধ উপায়ে সে রাজ্যে স্থাবর সম্পত্তির মালিক হন, তা হলে তিনিও রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা বিবেচিত হবেন। ৩৫-এ ধারা অনুযায়ীই জম্মু-কাশ্মীরের জন্য এই বিশেষ ব্যবস্থা স্বীকৃতি পেয়েছে।
২০১৪ সালে একটি বেসরকারি সংস্থা জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৫-এ ধারা বাতিল করার আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন জমা দেয়। জম্মু-কাশ্মীর সরকার পাল্টা হলফনামা জমা দিয়ে এই রিট পিটিশন খারিজ করার দাবি তোলে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার কোনও পক্ষ নেয়নি। জম্মু-কাশ্মীর সরকার বার বার অনুরোধ করা সত্তে¡ও ৩৫-এ ধারা বহাল রাখার পক্ষে কেন্দ্র সওয়াল করেনি। বরং গত মাসে দেশের অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপাল সুপ্রিম কোর্টে জানান, বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক হওয়া উচিত। এবার তার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন ওমর আব্দুল্লাহ। ৩৫-এ ধারা বহাল থাকা উচিত কি না, তা নিয়ে বিতর্ক হলে, জম্মু-কাশ্মীর ভারতে থাকা উচিত কি না, তা নিয়েই বিতর্ক উঠে যাবে বলে মত ওমরের। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ