Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০৪ কার্তিক ১৪২৬, ২০ সফর ১৪৪১ হিজরী

যারা বর্তমান সংসদকে ইমম্যাচিউরড বলেন তারাই ইমম্যাচিউরড -তোফায়েল আহমেদ

| প্রকাশের সময় : ১০ আগস্ট, ২০১৭, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : যারা অনির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতায় আনতে চায় তারাই রাজনীতিবিদদের ছোট করা চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, রাজনীতিবিদদের ছোট করতে চায় কারা? যারা সামরিক শাসন চায়। রাজনীতিবিদদের ছোট করতে চায় কারা? যারা অনির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতায় আনতে চায়। তিনি আরও বলেন, যারা বর্তমান সংসদকে ইমম্যাচিউরড বলেন তারাই ইমম্যাচিউরড। যারা বর্তমানে বিচারকের আসনে বসেছেন তারা ইমম্যাচিউড। এই সংসদ নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার তাদের নেই। তিনি বলেন, বাংলাদেশে যখন সংবিধান প্রণয়ন হয় তাখন আমি সেই কমিটিতে ছিলাম। সংবিধানে অনকনটেস্ট(বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায়) নির্বচানের বৈধতা দেয়া আছে। একটি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচন বৈধ হলে একাধিক আসনেও বৈধ।
গতকাল বুধবার বিকালে রাজধানীর বিএমএ মিলনায়তনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। বাংলাদেশ মেডিকেল এ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে যখন সংবিধান প্রণয়ন হয় তখন আমি সেই কমিটিতে ছিলাম। এই বারের সংসদ নিয়ে প্রশ্ন তোলার ক্ষমতা কারো নেই। এই সংসদ ন্যায়ভাবে, গণতান্ত্রিকভাবে জনগনের ভোটে গঠিত হয়েছে। প্রশ্নে হচ্ছে আমাদের দেশেরে দুটি বড় রাজনৈতিক দল আছে। কিন্তু কোন দল যদি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ না করে এবং কোন প্রার্থী যদি বিনাপ্রতিদ্ব›িদ্বতায় নির্বাচত হয় তাহলে তো সংসদ সংবিধান পরিপন্থি নয়।
তিনি বলেন, নির্বানের পর সমস্ত বিশ্ব আমাদের স্বীকৃতি দিয়েছে। দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট বলে এই সংসদ ইনমেচিউড। এটা অত্যন্ত দু:খজনক।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ে প্রধান বিচারপতি বলেছেন কারও একক নেতৃত্বে এ দেশ স্বাধীন হয়নি। আমি প্রশ্ন করতে চাই এ দেশের স্বাধীনতার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু ছাড়া অন্য কোন নেতৃত্ব ছিল। তিনি বলেন, আজ যারা বিচারকের আসনে আছেন তারা একসময় আমাদের সঙ্গে কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন। আজ তারা সবাই ম্যাচিউড আর আমরা হলাম ইম- ম্যাচিউড। পৃথিবীর কোন আইনে এসব আছে। আমার কাছে পৃথিবীর সব আইনের বই আছে। আমারা বিশ^বিদ্যলয় থেকে লেখাপড়া করে এসেছি। আমরা সংবিধান প্রণয়েনে কাজ করেছে। অসংখ্য আইন প্রণয়ন করেছি। বর্তমান সংসদের অধীনেই বিচারকদের বেতন বৃদ্ধি হয়েছে, শতাধিক আইন প্রনয়ন হয়েছে। বর্তমান সংসদ সম্পূর্ণ সাংবিধানিক। সারা বিশে^র সংসদ এই সংসদকে বৈধতা দেয়। তাইতো ইন্টারপর্লামেন্টির এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাংলাদেশর একজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। আর একজন বিচারপতি বলেন, এই সংসদ ইম-ম্যাচিউড।
তিনি বলেন, পৃথিবীর সব দেশে সংসদ বিচারকদের ইমপিচ করে। ব্রিটেনের এক্ট অব সেটেলমেন্ট-১৯০১’ অনুসারে সংসদের হাতে এ ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। সংসদীয় গণতন্ত্রের সব দেশেই এই আইন কার্যকর। ব্রিটেন, ভারত, কানাডা, অস্ট্রেলিয়র মতো দেগুলোতেও সংসদ বিচারকদের ইমপিচ করে।
বিচারপতিদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, রাজনীতিবিদদের ছোট করতেই ষোড়শ সংশোধনীর রায়ে এসব অনাকাঙ্খিত বক্তব্য সংযুক্ত করা হয়েছে। একটি গোষ্টি সামরিক শাসনের পক্ষে এসব করছে। তারা বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানাতে চায়। ১৯৭৫ এর ১৫ আগষ্টের পর বঙ্গবন্ধুর রবেÍর ওপর দিয়ে বিচারপতি সায়েম রাষ্ট্রক্সমতা গ্রহণ করে। এরশাদ ক্ষমতা নেয়ার আগেও আরেকজন বিচারপতি ক্সমতায় আসে। আজ যে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কথা বলা হচ্ছে তাও সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের সৃষ্টি। পাকিস্তানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পাকিস্তানে সামরিক শাষকদের বিচার কখনো হয় না, বিচারপতিদের বিচার হয় না, শুধু রাজনীতিবিদদের বিচার করা হয়। যারা দেশের অমঙ্গল চায় তাদের পক্ষেই এ ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করা সম্ভব।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, জাতির কয়েকজন বেইমান যখন বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করে, চার জাতীয় নেতাকে হত্য করেছে, একটি কালো আইন করে হত্যাকারীদের নিরাপত্তা দিয়েছে তখন কোথায় ছিল আদালত। কোথায় ছিল সুপ্রিমকোর্ট, কোথায় ছিল বিচারপতিরা।
জাতীয় সংসদের সাবেক স্পীকার রাজ্জাক আলীর উদ্ধৃতি দিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিচারপতিদের হাত এতো লম্বা নয় যে, তারা সংসদে হাত দিতে পারে। এই সংসদ থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বচিত করা হয় আর রাষ্ট্রপতি বিচারপতি নির্বচান করে থাকেন। তাই সংসদ নিয়ে ধৃষ্ঠতা দেখানোর অধিকার কারও নেই। ২১ বছরে অনেক সরকার ক্ষমতায় এসছে। তারা কেউ সাহস পায়নি ৭১এর ঘতকদের বিচার করতে, যারা লুন্ঠন করেছে তাদের গায়ে হাত দিতে। কোন বিচারপতিও কালো আইনের বিরুদ্ধে কথা বলেনি। তখন কোথায় ছিলেন তারা।
বিএনপি প্রসঙ্গে নাসিম বলেন, বিএনপি নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের দাবি করছে। কিসের সহায়ক সরকার। বাংলাদেশের জনগণই সহায়ক সরকার। এসব কথা বলে লাভ নেই। সারা বিশে^র সংসদীয় গণতন্ত্রে যেভাবে নির্বাচন হয়ে বাংলাদেশেও সেভাবেই হবে। প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং জনগন আবারো আওয়ামী লীগকে পুণরয় জয়যুক্ত করবে।
সংগঠনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, বিএসএমএমইউ এর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম খান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, স্বাচিপ সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান, বিএমএ এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়–য়া প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: তোফায়েল আহমেদ


আরও
আরও পড়ুন