Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৭, ০৬ কার্তিক ১৪২৪, ৩০ মুহাররম ১৪৩৯ হিজরী

ইসলামী কর্মতৎপরতা

| প্রকাশের সময় : ১১ আগস্ট, ২০১৭, ১২:০০ এএম


পীর সাহেব চরমোনাই
ইয়াবাসহ সকল মাদকদ্রব্য বন্ধে সরকারের ব্যর্থতার নিন্দা জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই। আজ একটি জাতীয় দৈনিকে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি যুবসমাজের ভবিষ্যত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সম্প্রতি এক বিবৃতিতে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, দেশে দৈনিক ২০ লাখ ইয়াবা সেবন করা হয়- এ রিপোর্ট কত ভয়ঙ্কর; তা সরকারকে অনুধাবন করে দ্রæত কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। চরিত্রবিধ্বংসী অপসংস্কৃতির কারণে যুবসমাজ এমনিতেই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনিত। সেখানে আবার মাদকের এ আগ্রাসন কোনভাবে মেনে নেওয়া যায় না।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, যারা আমাদের আগামী প্রজন্মকে পরিকল্পিতভাবে মেধাহীন ও চরিত্রহীন করে দেশকে ধ্বংস করার চক্রান্তে মেতে উঠেছে তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। যুবকরা দেশের প্রাণশক্তি। আজকে যে বা যারা ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখে বা ক্ষমতায় যায় তারাই যুবসমাজকে তাদের অন্যায়ের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছে। তারাই যুবসমাজের হাতে তুলে দিচ্ছে মদ, গাঁজা, হিরোইন, ইয়াবা, অস্ত্রসহ যুবসমাজের চরিত্র বিনষ্টকারী সকল উপকরণ। যার ফলে আজ যুবসমাজ এক আতঙ্কের নাম হয়ে উঠছে। যুবসমাজ অন্যায় দমন করার পরির্বতে অন্যায়কে লালন করছে।
তিনি আরো বলেন, মিয়ানমার থেকে চোরাইপথে ব্যাপক হারে ইয়াবার অনুপ্রবেশ প্রশাসনের গোপন সহযোগীতা ছাড়া সম্ভব নয়। পত্রিকার বারবার রিপোর্ট এসেছে সরকারের সমর্থিত একটি দলের লোকেরাই মাদকব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তারা বিভিন্ন কলাকৌশলের মাদকের ব্যবসা পরিচালনা করে। দেশজুড়ে এক বিশাল জাল বিস্তার করে আছে এই মরণ নেশার ভয়াবহ সিন্ডিকেট। আন্তর্জাতিক অপরাধচক্র মাফিয়াদের সঙ্গে রয়েছে এদের শক্ত ও গভীর যোগাযোগ। শুধু শহরেই নয়, গ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে মাদক। তার বিষাক্ত ছোবল শেষ করে দিচ্ছে তারুণ্যের শক্তি ও অমিত সম্ভাবনা। এই অবস্থা চলতে থাকলে একটি সমাজ অন্ধকারের অতলগহŸরে হারিয়ে যেতে খুব বেশি সময় লাগবে না। দুঃখজনক হচ্ছে, মাঝে-মধ্যে ছোটখাটো মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকের চালান ধরা পড়লেও তাদের মূল কুশীলবরা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতাসীন সরকারের দলীয় ব্যক্তিবর্গ এসব সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত থাকায় তাদের টিকিটি পর্যন্ত স্পর্শ করতে পারে না আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। মাদকের ভয়াল থাবা থেকে দেশকে বাঁচাতে হলে মাদক সিন্ডিকেট যতই শক্তিশালী হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি জোর আহŸান জানাচ্ছি।
ইসলামী ঐক্যজোট
মসজিদুল আকসার প্রবেশপথে নিরাপত্তা চৌকি ও তল্লাশি গেট বসিয়ে মসজিদে আকসাকে ঘিরে রাখা, মুসলমানদেরকে জুমার নামাজ আদায়ে বাঁধা দেয়া, নিরীহ মুসলমানদের ওপর ইসরাইলের বর্বর হামলার প্রতিবাদে এবং ইসরাইলি দখলদারদের হাত থেকে মসজিদে আকসাকে মুক্ত করার দাবীতে ইসলামী ঐক্যজোটের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজধানীর বায়তুল মোকররম ও পল্টন এলাকা। এসময় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা অবিলম্বে মসজিদুল আকসার প্রবেশপথ খুলে দেয়ার ও হামলা বন্ধের আহবান জানান। এছাড়া ইসরাইলের বিরুদ্ধে বিশ্ব মুসলিমকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান নেতারা।
সম্প্রতি বায়তুল মোকররম উত্তর গেইটে ইসলামী ঐক্যজোট ঢাকা মহানগর আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী বলেন, ইসরাইলের জন্মই হয়েছে ইসলামশূন্য বিশ্ব গড়ার জন্য। স¤প্রতি মসজিদুল আকসায় প্রবেশপথে তারা নিরাপত্তা চৌকি ও তল্লশি গেট বসিয়ে মসজিদে আকসাকে যেভাবে ঘিরে রেখেছে এবং মুসলমানদেরকে জুমার নামাজ আদায়ে বাঁধা দিচ্ছে এবং মুসলমানদের যেভাবে হত্যা করছে, নির্যাতন নিপীড়ন করছে এর নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। তিনি ইসরাইলি দখলদারদের হাত থেকে মসজিদে আকসাকে মুক্ত করতে মুসলিম বিশ্বের নেতাদের সোচ্চার হওয়ার আহŸান জানান।
বিশেষ অতিথি ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতী ফয়জুল্লাহ বলেন, ইসরাইল মসজিদে আকসায় আগ্রাসন চালিয়ে মুসলমানদের হৃদয় রক্তাক্ত করছে। নির্বিঘেœ মুসলিমদেরকে আল-আকসাতে প্রবেশ করতে দিতে হবে। ইসরাইলের কোনো অধিকার নেই মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণ করার। কারণ মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি মসজিদসমূহে তাঁর নাম উচ্চারণ করতে বাধা দেয় তার চাইতে বড় যালেম আর কে? ওদের জন্য ইহকালে লাঞ্ছনা এবং পরকালে কঠিন শাস্তি রয়েছে’। তিনি বলেন, আল-আকসা মুসলিম উম্মাহর। আল আকসার পবিত্রতা পৃথিবীর সব মুসলিমের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। -প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।