Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৭, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী

শিশু ও নারী নির্যাতনসহ প্রতিটি অন্যায়ের চ‚ড়ান্ত শাস্তি ভোগ করতে বাধ্য মানুষ

| প্রকাশের সময় : ১২ আগস্ট, ২০১৭, ১২:০০ এএম

মোহাম্মদ আবদুল গফুর : দেশে কি শিশু ও নারী নির্যাতনের মহামারী শুরু হয়েছে? বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট পড়ে এমনটাই মনে হবে। শুধু শিশু ও নারী নির্যাতনের ঘটনাই নয়। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে সীমাহীন নৈরাজ্য। গত সাতদিনে পেয়াজের দাম ২০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৪০ টাকা। যে পত্রিকায় প্রথম পৃষ্ঠায় পেয়াজের এই অবিশ্বাস্য মূল্য বৃদ্ধির খবর ছাপা হয়েছে সেই পত্রিকায়ই প্রথম পৃষ্ঠায় আরেকটি খবরের শিরোনাম ছিল : ‘চাল নিয়ে খেলছে তিন সিন্ডিকেট’। ঐ একই পত্রিকায় প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত আরেকটি খবরের শিরোনাম ছিল : ‘রেলের জমি দখলে বেপরোয়া পাঁচ আওয়ামী লীগ নেতা।’
এসব খবর পড়ে মনে হবে দেশে বুঝি এখন কোন সরকার নেই। কিন্তু তাই বা হবে কেমন করে? দেশে তো এখন রয়েছে প্রাচীনতম রাজনৈতিক দলটির সরকার। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী এ সম্পর্কে প্রায়ই বলে থাকেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে তবেই দেশের মানুষ কিছু পায়। তবে কি বুঝতে হবে, আওয়ামী লীগ নেতারা পাওয়া মানেই দেশের মানুষদের পাওয়া?
সম্প্রতি ষোড়শ সংশোধনী সম্পর্কে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের যে রায় প্রকাশিত হয়েছে তাতে মন্ত্রিসভা স্বাভাবিক কারণেই ক্ষুব্ধ হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে এ রায়ের আপত্তিকর শব্দগুলো বাদ দেয়ার দাবি জানানো হবে। পক্ষান্তরে বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ষোড়শ সংশোধনী সম্পর্কে সর্বোচ্চ আদালতের রায় আওয়ামী লীগের অপকর্ম, অত্যাচার ও নির্যাতনের দলিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বলেছেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় পড়ে লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে গেছে। অন্য দিকে মন্ত্রীসভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য জনাব ওবায়দুল কাদের বিরোধী দলকে আদালতের এ রায়ে অতিরিক্ত খুশী না হতে আহŸান জানিয়ে বলেছেন, আদালত কাউকে ক্ষমতায় বসাবে এমন দিবাস্বপ্ন কঠোর বাস্তবের আঘাতে ভেঙ্গে যাবে।
উপরের এসব আলোচনা পর্যালোচনা থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, দেশে বর্তমান যে সরকার ক্ষমতাসীন রয়েছে তাদের উপর রাজনীতি সচেতন জনগণের অনেকেরই আস্থা নেই। তবে আস্থা না থাকলেও তাদের অন্য কোন উপায়ও নেই এই সরকারের শাসন মেনে চলা ছাড়া। তারা এমন এক অবস্থায় রয়েছে যে অবস্থা জনগণ যেমন সহজভাবে মেনে নিতে পারছে না, তেমনি পারছে এই চেপে-বসা ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে। এর কারণ দেশে চলছে এমন একটি সরকার যা জনগণের স্বাধীন ইচ্ছা মোতাবেক ক্ষমতাসীন হয়নি।
দেশের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের মনে থাকার কথা, স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পেছনে দীর্ঘ দিনের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের অবদান থাকলেও এবং স্বাধীন বাংলাদেশের চার রাষ্ট্রীয় মূলনীতির মধ্যে গণতন্ত্র সব চাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হলেও বাংলাদেশে কখনও গণতন্ত্র বাস্তবে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারেনি। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের আমলেই গণতন্ত্রের টুটি চেপে ধরে সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ঘোষণা করে দেশে একটি মাত্র সরকারী দল রেখে একদলীয় বাকশালী শাসনব্যবস্থা কায়েম করা হয়। পরবর্তীতে বহু দু:খজনক ঘটনার মধ্যদিয়ে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুন:প্রতিষ্ঠিত হলেও এক পর্যায়ে একটি নির্বাচিত সরকারকে সামরিক ক্যুর মাধ্যমে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে বসেন তদানীন্তন সেনা প্রধান জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। তখন সবাইকে অবাক করে দিয়ে ঐ ক্যুর প্রতি সমর্থন দিয়ে বসেন দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নেত্রী শেখ হাসিনা। এতে প্রমাণিত হয় একটি নির্বাচিত সরকারের চাইতে আওয়ামী লীগ নেত্রীর কাছে অধিক পছন্দনীয় মনে হয়েছিল সাময়িক ক্যুর মাধ্যমে ক্ষমতা দখলকারী জেনারেলের শাসন।
এরপর শুরু হয় ক্যুর মাধ্যমে ক্ষমতা দখলকারী জেনারেলের সুদীর্ঘ স্বৈরশাসন। দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি এবং অন্যান্য দল জেনারেল এরশাদের স্বৈর শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে দিলেও আওয়ামী লীগ বহুদিন পর্যন্ত এরশাদ বিরোধী সে আন্দোলনে যোগ দেয়নি। পরে অবশ্য এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগও এরশাদ বিরোধী যে আন্দোলনে যোগ দেয়। কিন্তু ততদিনে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া সে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে আপোষহীন নেত্রী হিসাবে জনগণের কাছে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলতে সক্ষম হন। আগেই বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগও এক পর্যায়ে স্বৈরচারী এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে। আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে দেশে গণতন্ত্রপুন:প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রশ্ন উঠলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দেশের দুই প্রধান দলই তদানীন্তন প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমদের নেতৃত্বাধীন নির্দলীয় তত্ত¡াবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রশ্নে একমত হয়।
যেমনটা আশা করা গিয়েছিল নির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়। আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর নিজস্ব ভোটকেন্দ্রে ভোট প্রদানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতাকালে এক পর্যায়ে বলেন, আমি সকল জেলার খবর নিয়েছি। নির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠু হয়েছে। আপনারা লক্ষ্য রাখবেন কেউ যেন ভোটে হেরে গিয়ে এর মধ্যে আবার কারচুপি আবিষ্কার না করে। ভোট গণনা শেষে যখন জানা গেল আওয়ামী লীগ নয়, নির্বাচনে জয়ী হয়েছে বিএনপি, শেখ হাসিনা অবলীলাক্রমে বলে ফেললেন, নির্বাচনে সূ² কারচুপি হয়েছে!
এরপর যর্থানিয়মে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হলেন এবং আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা হলেন সংসদে বিরোধী দলীয় নেত্রী। বেগম খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রীত্বের মেয়াদ শেষে যখন নতুন নির্বাচনের প্রশ্ন উঠলো, তখন প্রধানত : শেখ হাসিনার দাবীর মুখেই নির্দলীয় তত্ত¡াবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা সংবিধানে বিধিবদ্ধ হয়। এ পদ্ধতিতে দেশে পর পর বেশ কয়েকটি জাতীয় নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত¡াবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয় এবং তাতে পর পর দুই প্রধান দল নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে। এতে প্রমাণিত হয় বাংলাদেশের বিশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নির্দলয়ীয় তত্ত¡াবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাই গণতন্ত্রের নিরিখে সব চাইতে উপযোগী।
এরপর এক পর্যায়ে অতিরিক্ত ক্ষমতা-ক্ষুধার কারণে এই সুন্দর ব্যবস্থাটিকেও পচিয়ে ফেলা হয় এবং শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রীত্বের আমলে সংবিধান সংশোধন করে নির্দলীয় তত্ত¡াবধায়ক সরকারের বদলে দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দেয়া হলে অতীতের সমঝোতা লংঘনের অভিযোগে বিএনপি সে নির্বাচন বয়কট করে। দেশের একটি প্রধান দল নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়ায় নির্বাচন পরিণত হয়ে পড়ে একটি প্রহসনে। বিরোধী দল তো দূরের কথা, সরকারী দলের অনেক নেতা-কর্মীও ভোট দিতে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার গরজ অনুভব করেননি। কারণ তারা জানতেন, তাদের অনুপস্থিতিতেও তাদের ভোট প্রদানের ব্যবস্থা ঠিকই নিশ্চিত করা হবে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাকর্মীদের মাধ্যমে।
বাস্তবে হয়ও সেটাই। বিরোধী দলীয় ভোটারদের অনুপস্থিতির সুযোগে অল্পসংখ্যক সরকারী দলীয় নেতা কর্মী ইচ্ছামত ব্যালটপত্রে সীল মেরে সরকারী দলের প্রার্থীদের স্বপক্ষে প্রদত্ত ভোট অস্বাভাবিক পর্যায়ে বাড়িয়ে তুলতে সক্ষম হন, যদিও ভোট দানের নির্দিষ্ট সময়ে অধিকাংশ ভোট কেন্দ্র প্রায় ফাঁকা থেকে যায়। এ কারণে ভোটারদের অনুপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে জনগণ ভোটারবিহীন নির্বাচন আখ্যা দেয়। এই ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমেই বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হয়েছে।
বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষে পুনরায় দেশে আরেকটি জাতীয় নির্বাচনের সময় আসন্ন হয়ে উঠেছে। বিরোধী দলের দাবী নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হতে হবে সে নির্বাচন। কিন্তুু আওয়ামী সরকার কিছুতেই নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অতীতের মত নির্বাচন দিতে সাহস পাচ্ছে না। ফলে আগামী সংসদ নির্বাচন কতটা নিরপেক্ষ হবে, সে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
এতো গেল পরবর্তী নির্বাচন কোন্ পদ্ধতিতে হবে সে প্রসঙ্গ। এছাড়াও রয়েছে শিশু ও নারী নির্যাতনের অসংখ্য অভিযোগ। বিশেষ করে এসব অভিযোগ যদি সরকার দলীয় কোন লোকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত হয়, তার বিচার হবে না সেটাই ধরে নিতে বাধ্য হচ্ছে জনগণ বাস্তব পরিস্থিতির আলোকে। অথচ অতীতে যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তির জন্য আন্দোলন করেছেন তারা সবাই তা করেছেন দেশের জনগণের সর্বাঙ্গীন মুক্তির এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। দেশের সংবিধানে এখনও গণতন্ত্র একটি গুরত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসাবে বিরাজ করছে কাগজে কলমে।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে দেশের জনগণ কি এই দুর্ভাগ্য থেকে কোন দিনই মুক্তি পাবে না?
অথচ এ অবস্থা থেকে জাতিকে মুক্তি দেয়া যে খুব একটা কঠিন ব্যাপার তাও নয়। শুধু প্রয়োজন ক্ষমতাসীনদের মনোভাবের পরিবর্তন। যে কোন মূল্যে জনগণকে নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের স্বাধীন মতামত প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। সে পথে কোন অন্তরায় সৃষ্টি করা চলবে না। অবাধ নির্বাচন দিয়ে জনগণকে তাদের স্বাধীন পছন্দ মোতাবেক প্রার্থীদের স্বপক্ষে ভোট দানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হলে তার দ্বারা আখেরে সরকারী দলেরও লাভ হবে। সরকারী দল প্রকৃত পক্ষেই গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, এই ধারণা যদি জনগণের মধ্যে একবার দৃঢ়ভাবে স্থান পায় তাহলে প্রথমবার সরকারী দলের প্রার্থীরা পরাজিত হলেও পরবর্তীতে তারা জিততে পারবেন জনগণের মধ্যে তাদের সম্পর্কে ভাল ধারণা সৃষ্টির কারণে। কিন্তু তার পরিবর্তে তারা বর্তমানে যে কোন মূল্যে পুনরায় ক্ষমতায় যাবার জন্য যদি উম্মত্ত হয়ে ওঠেন, তবে তাদের সম্পর্কে এরকম ধারণা পাকা হওয়ারই কথা যে তারা আদৌ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন না বরং যে কোন মূল্যে তারা পুনরায় ক্ষমতায় যেয়ে তাদের দূর্নীতি ও শোষনের ধারা অব্যাহত রাখতে তারা দৃঢ় সংকল্প।
সাধারণ মানুষ নেতাদের মধ্যে মানবতাবোধ, আন্তরিকতা, সততা ও ত্যাগের দৃষ্টান্ত দেখতে চায়। এর বিপরীতে যারা ত্যাগ স্বীকারে অনিচ্ছুক, যারা শুধু নিজেদের স্বার্থ ছাড়া অন্য কিছুকেই গুরুত্ব দেয় না জনগণ তাদের পছন্দ করে না। নিতান্ত বাধ্য না হলে এমন নেতাদের তারা সমর্থন করে না। সুতরাং সাধারণ মানুষের যারা আন্তরিক সমর্থন পেতে চায়, তাদের উচিৎ জনগণের জন্য, দেশের জন্য, জাতির জন্য তাদের আন্তরিক ভালবাসা ও ত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা। এটা আপাতত কষ্টকর মনে হতে পারে। কিন্তুু পৃথিবীতে কোন ভাল কিছু অর্জন করতে ত্যাগ স্বীকারের কোন বিকল্প নেই।
এর বিপরীতে যারা ত্যাগ স্বীকার এবং সমাজ, মানুষ, দেশ ও জাতির উন্নতির জন্য নি:স্বার্থভাবে কাজ না করে শুধু যেন তেন প্রকারে তাদের সমর্থন আদায় করে নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির পথ বেছে নেয়, তাদের সে সুযোগ ক্ষণস্থায়ী হতে বাধ্য। সাধারণ মানুষ একদিন না একদিন তাদের সে দু’মুখো চরিত্র ধরে ফেলে তাদের বর্জন ও বিরোধিতার পথ বেছে নেয়।
তাছাড়া এ ধরণের দু’মুখো কপট না মুনাফিক মানুষদের প্রতি সর্বশক্তিমান আল্লাহ তায়ালার গজবও নেমে আসে অনিবার্য ধারায়। মানুষকে সাময়িকভাবে প্রতারণা করা কারোপক্ষে সম্ভব হলেও সর্বশক্তিমান আল্লাহ তো সকল মানুষের মনের খবর রাখেন। তাঁকে ফাঁকি দেয়া, প্রতারণা করা আসলেই তো সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষকে ফাঁকি দিতে কেউ সক্ষম হলেও সর্বদ্রষ্টা সর্বশক্তিমান আল্লাহতায়ালাকে ফাঁকি দেয়া কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। তাই কোন মানুষ অন্যদের যতই ফাঁকি দিক, সর্বশক্তিমান আল্লাহতায়ালার কাছে তার সকল ফাঁকি ধরা পড়তে এবং সেজন্য আল্লাহর গজব ভুগতে যে বাধ্য।

 


Show all comments
  • hasan ১৮ আগস্ট, ২০১৭, ৩:৪৩ পিএম says : 0
    thanks allah blessyou everybody have to red this cloum
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর