Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ০১ পৌষ ১৪২৪, ২৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী

সৈয়দপুর রেল কারখানায় তৈরি হবে যাত্রীবাহী রেল কোচ

| প্রকাশের সময় : ১৩ আগস্ট, ২০১৭, ১২:০০ এএম

নজির হোসেন নজু, সৈয়দপুর (নীলফামারী) থেকে: দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় এবার তৈরি হবে যাত্রীবাহী কোচ ও মালবাহী ওয়াগন। এজন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) চূড়ান্ত করা হয়েছে। সৈয়দপুর রেল কারখানার বিদ্যমান ওয়ার্কশপের সঙ্গে নতুন করে কোচ ওয়াগন তৈরির ওয়ার্কশপ নির্মাণ করা হবে। ভারতের ঋণে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা বছরে ৫৭০টি মিটারগেজ ও ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ ও ৪৩০টি পণ্যবাহী ওয়াগন মেরামতের সক্ষমতা রয়েছে। তবে কোচ-ওয়াগন চাহিদা বাড়ায় কারখানার মেরামত সক্ষমতা ছাড়িয়ে গেছে। মেরামতের অপেক্ষায় থাকা কোচ-ওয়াগনের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। পাশাপাশি ১৮৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত এ কারখানার বিভিন্ন যন্ত্রপাতির সক্ষমতা কমছে। এখানে প্রায় ১৫০ বছরের পুরনো মেশিনারী যন্ত্রপাতি শ্রমিক-কর্মচারীরা কাজ করছেন। বর্তমানে কারখানায় শ্রমিক-কর্মচারী ৩১৪১ জনের স্থলে রয়েছে ১২৪৩ জন। কারখানায় ৩৮ ভাগ জনবল নিয়ে কাজ চলছে দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায়।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, চাহিদা বাড়ায় গত তিন বছরে ভারত থেকে ২২০টি মিটার গেজ পণ্যবাহী ওয়াগন কেনা হয়েছে। আর ভারত থেকে ১২০টি ব্রডগেজ এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে ১০০টি মিটারগেজ ও ৫০টি ব্রডগেজ কোচ কেনা হয়েছে। আরও ৪০০টি মিটারগেজ ও ৫০টি ব্রডগেজ কোচ কেনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে আরও অনেক কোচ-ওয়াগন তৈরি ও মেরামত করা যাবে। এসব বিষয় সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় উঠে আসবে। পাশাপাশি ওয়ার্কশপে বিস্তারিত নকশা ও আউটলেটও প্রণয়ন করা হবে।
অন্যদিকে সৈয়দপুরে বিদ্যমান ওয়ার্কশপের ভেতরে পতিত জমিতে প্রস্তাবিত ওয়ার্কশপে বছরে ৬০টি কোচ তৈরি করা যাবে। এর মধ্যে রয়েছে ৪০টি মিটারগেজ ও ২০টি ব্রডগেজ কোচ। পরে এ সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে। এরই মধ্যে প্রকল্পটির বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে ভারত। বর্তমানে এর ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চলছে।
বর্তমান সরকারের আমলে রেলওয়ের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরত্ব দেওয়া হচ্ছে। এজন্য গত কয়েক বছরে ট্রেনের চাহিদা অনেক বেড়েছে। নতুন বেশকিছু রেলপথও নির্মাণ করা হচ্ছে। ফলে দিন দিন ট্রেনের টিকিটের চাহিদা বাড়ছে। ভবিষ্যতে রেলকে গতিশীল করার জন্য আরও অনেক বেশি কোচ-ওয়াগন প্রয়োজন হবে।
১৮৭০ সালে নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরে ২২২ একর জমির মধ্যে ১১০ একর জমির ওপর রেলওয়ে ওয়ার্কশপ প্রতিষ্ঠা করে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার। সেখানে ২৬টি শপ রয়েছে যেগুলোতে কোচের বেশকিছু সরঞ্জাম তৈরি করা হয়। ওয়ার্কশপের ভেতর আরও ১১২ একর জমি পতিত অবস্থায় রয়েছে। স্বাধীনতার আগে মেরামতের পাশাপাশি সীমিত এবং পরে কিছু কোচ তৈরি করা হয় সৈয়দপুরের ওয়ার্কশপে। তবে ১৯৯৩ সালে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া ১৯৪৭ সালে চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে আরেকটি ওয়ার্কশপ নির্মাণ করা হয়। দুটি ওয়ার্কশপেই কোচ ও ওয়াগনের মেরামতের কাজ চলে বলে চাহিদা মেটাতে আমদানিই একমাত্র ভরসা রেলওয়ের।
রেলওয়ে শ্রমিক লীগ কারখানা শাখার সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিন বলেন, বর্তমানে কারখানার সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে জনবল সংকট। দ্রæত জনবল নিয়োগ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। রেলমন্ত্রী কারখানা পরিদর্শনের সময় পরিত্যক্ত জায়গায় নতুন করে আরও উপ-কারখানা নির্মাণের প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।
রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত¡াবধায়ক (ডিএস) মুহাম্মদ কুদরত-ই খুদা বলেন, সরকার রেলকে সবচেয়ে বেশি গুরত্ব দিয়েছে। যাত্রী সাধারণের কথা বিবেচনায় নিয়ে রেলের কোচ নির্মাণ ও মেরামতে জোর দেওয়া হয়েছে। একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) চূড়ান্ত হয়েছে। প্রস্তাবনা বাস্তবায়িত হলে রেলওয়ে কারখানার আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে।

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।