Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট ২০১৭, ৭ ভাদ্র, ১৪২৪, ২৮ যিলকদ ১৪৩৮ হিজরী

বরিশালে ১৬৬ কোটি টাকায় ৩ সেতু নির্মাণকাজ সমাপ্তির পথে

বদলে যাবে গ্রামীণ জনপদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের চিত্র

| প্রকাশের সময় : ১৩ আগস্ট, ২০১৭, ১২:০০ এএম

নাছিম উল আলম ঃ গ্রামীন যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফ্তর বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১৬৬ কোটি টাকা ব্যায়ে ৩টি প্রী-স্ট্রেসড কংক্রিট গার্ডার টাইপ সেতু নির্মাণ করছে। নির্মানাধীন ৩টি সেতুর মধ্যে দুটি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার লক্ষে কাজ করছে অধিদফ্তর। ইতোমধ্যে সানুহার-ধামুরা-সাতলা সড়কের পিসি গার্ডার সেতু ও হারতা বাজার সংলগ্ন কঁচা নদীর ওপর সেতু দুটির নির্মাণ কাজ শতভাগ সমাপ্ত হয়েছে। বর্তমানে সংযোগ সড়কের কাজ চলছে।
অপরদিকে মুলাদী-নাজিরপুর-কুতুবপুর/মোল্লারহাট সড়কের আড়িয়াল খাঁ নদ-এর ওপর সেতুটির নির্মাণ কাজও প্রায় ৩৫ভাগ সম্পন্ন হয়েছে বলে এলজিইডি’র দায়িত্বশীল সূত্রে বলা হয়েছে। আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এ সেতুটিও যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
‘দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’ ও বৃহত্বর বরিশাল উন্নয়ন প্রকল্প’ এর আওতায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান-এলজিইডি সরকারী নিজস্ব তহবিলে গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীন জনপদে এসব সেতু নির্মাণ করছে। সানুহার-ধামুড়া-সতালা সড়কে প্রায় ৬৫কোটি টাকা ব্যায়ে ৫৬০মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণের ফলে বরিশাল, পিরোজপুর ও গোপালগঞ্জের প্রত্যন্ত বিল এলাকার সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। এ সেতুটি নির্মাণের ফলে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার সাথেও বরিশালে সড়ক যোগাযোগ সহজতর হবে। ‘মেসার্স এমবিইএল-এমসিসিসি জেভি’ নামের নির্মাণ প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে মূল সেতুটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছে। তবে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে ডিসেম্বরের মধ্যেই তা যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে।
‘বৃহত্তর বরিশাল উন্নয়ন প্রকল্প’ এর আওতায় ৩০কোটি ৫১লাখ টাকা ব্যয়ে হারতা বাজার সংলগ্ন কঁচা নদীর ওপর ২৮০মিটার পিসি গার্ডার ব্রীজটির নির্মাণ কাজও ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ‘মেসার্স এমসিও ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস’ নামের একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান মূল সেতুটির কাজ শেষ করে বর্তমানে সংযোগ সড়কের কাজ করছে। আগামী ডিসেম্বরে মধ্যে সংযোগ সড়কের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে সেতুটি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার কথা রয়েছে।
অপরদিকে ‘দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’র এর আওতায় মুলাদী-নাজিরপুর-কুতুবপুর/মোল্লারহাট সড়কের আড়িয়াল খাঁ নদ-এর ওপর ৪৩২মিটার দীর্ঘ নির্মাণাধীন সেতুটির কাজ ইতোমধ্যে ৩৫ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। প্রায় ৬৭কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষ এ সেতুটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে বরিশালের হিজলা, মুলাদী ও মেহেদিগঞ্জের সাথে ভোলা জেলার সড়ক যোগাযোগ সহজতর হবে। ‘প্রজেক্ট বিল্ডার্স লিমিটেড’ এ সেতুটির নির্মাণ কাজ করছে।
‘প্রী-স্ট্রেসড কংক্রীট গার্ডার’ টাইপ-এর এসব সেতুর নির্মাণ কাজের মানের ব্যপারে এলজিইডি নিবিড় তদারকি করছে বলে দায়িত্বশীল সূত্র দাবি করেছে। এসব সেতু নির্মাণের ফলে বরিশালের প্রত্যন্ত এলাকার সাথে জেলা ও উপজেলা সদরের সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। এসকল এলাকার নির্মাণাধীন সেতুগুলো গ্রামীন জনপদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখবে।
বর্তমানে শুধুমাত্র বরিশাল জেলাতেই স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের আওতায় গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার সড়ক ও সেতু সহ বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবয়নাধীন রয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে এসব অবকাঠামোর বেশীরভাগের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে বরিশালের পল্লী এলাকার উন্নয়নে তা বিশেষ অবদান রাখতে শুরু করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে এলজিইডি’র দায়িত্বশীল সূত্র।

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ