Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৭, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী

ছুটছে চট্টগ্রাম আবাহনী

| প্রকাশের সময় : ১৩ আগস্ট, ২০১৭, ১২:০০ এএম

স্পোর্টস রিপোর্টার : বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে টানা চার ম্যাচ জিতে পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের শীর্ষ স্থানটি ধরে রেখেছে চট্টগ্রাম আবাহনী। গতকাল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে তারা ৩-১ গোলে হারায় শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রকে। এই জয়ে চার ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে সবার উপরে বন্দর নগরীর দলটি।
ম্যাচের ১২ মিনিটে এগিয়ে যায় চট্টগ্রাম আবাহনী। জাহিদের মাপা কর্ণার বক্সে পেয়ে লাফিয়ে উঠে চমৎকার হেডে বল জালে পাঠান নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড ওলাউলে ওলাদিপু (১-০)। তবে এক গোল দিলেও প্রথমার্ধে আর তেমন জোড়ালো গোলের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেনি সাইফুল বারি টিটুর শিষ্যরা। ৪০ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে পোস্ট লক্ষ্য করে শট নেন ওলাদিপু। কিন্তু বল হেডে ক্লিয়ার করেন শেখ রাসেলের এক ডিফেন্ডার। প্রথমার্ধ এগিয়ে থেকেই বিশ্রামে যায় চট্টগ্রাম আবাহনী।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই অল আউট ফুটবল খেলতে শুরু করে গোল শোধে মরিয়া শেখ রাসেল। চাপ সামলে উঠতে না পেরে ৫১ মিনিটে আত্মঘাতি গোল করে বসে চট্টগ্রাম আবাহনী। শেখ রাসেলের একটি ক্রস হেড দিয়ে ক্লিয়ার করতে যান চট্টগ্রাম আবাহনীর নাইজেরিয়ান ডিফেন্ডার উদোকা এলিসন। বল চলে যেতে থাকে নিজেদের জালেই। লাফিয়ে উঠেও বল থামাতে গিয়েছিলেন গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানা। কিন্তু ততক্ষণে বল চলে গেছে চট্টগ্রাম আবাহনীরই জালে (১-১)। গোল পেয়ে এবার আরো চাপ সৃষ্টি করতে থাকে শেখ রাসেল। গতি বাড়িয়ে চট্টগ্রাম আবাহনীকে কোনঠাসা করে ফেলে তারা। ৬৩ মিনিটে বল নিয়ে একক প্রচেষ্টায় বল নিয়ে রাসেলের বক্সে ঢুকে পড়েন ওলাদিপু। কিন্তু বক্সে ঢুকে ভারসাম্য হারিয়ে ফিনিশিংটা ঠিক মতো দিতে পারেননি এই নাইজেরিয়ান। দৌড়ে এসে সামনে এগিয়ে বল নিজ আয়ত্বে নিয়ে নেন রাসেলের গোলরক্ষক জিয়াউর রহমান। ফলে দ্বিতীয় গোল আদায় করে নেয়ার সুযোগ হাতছাড়া হয় বন্দর নগরীর দলটির।
৬৭ মিনিটে রাসেলের বক্সের ভেতর জাহিদকে ফাউল করেন এক ডিফেন্ডার। পেনাল্টি আশা করেছিলো চট্টগ্রাম আবাহনী। কিন্তু রেফারি ফাউল না দেয়ায় গোলের সুযোগ আসেনি তাদের। ৬৮ মিনিটে বল নিয়ে দ্রæত গতিতে আবাহনীর অর্ধে ঢুকে পড়েন মেহবুব হাসান নয়ন। খুব বাজে ভাবে তাকে ট্যাকল করেন এলিসন উদোকা। তাকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারী। কিছুক্ষণ চিকিৎসা শেষে নয়নকে মাঠের বাইরে নিয়ে যান কোচ। এই সময়টাতে নিজেদের কিছুটা গুছিয়ে নেয় চট্টগ্রাম আবাহনী। ৭৩ মিনিটে ব্যবধান দিগুণ করে বন্দর নগরীর দলটি। ডি বক্সের ভেতরে ক্রসে দারুণ এক হেডে বল জালে জড়িয়ে দিয়ে নিজের এবং দলের দ্বিতীয় গোল আদায় করে নেন ওলাদিপু (২-১)। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য এবারো সম্পুর্ণ আনমার্ক অবস্থাতেই ছিলেন এই ফরোয়ার্ড। মূলত নিজেদের দায়িত্বটা ঠিক মত পালন করতে পারেনি রাসেলের ডিফেন্ডাররা। আর এই সুযোগটাই কাজে লাগান ওলাদিপু। তবে এই ম্যাচে তার হ্যট্রিক করার সুযোগটা আর হয়ে উঠেনি। কেননা গোলের কিছুক্ষণ পরই মাঠ থেকে ওলাদিপুকে তুলে নেন কোচ। ৭৯ মিনিটে ফাকা পোস্ট পেয়ে আরো এক গোল আদায় করে নেয় চট্টগ্রাম আবাহনী। সুসান্ত ত্রিপুরা চমৎকার বল বানিয়ে দেন। বল নিয়ে দুর্দান্ত গতিতে ছুটতে থাকেন তৌহিদুল আলম সবুজ। গোলরক্ষক জিয়াউর রহমানকে পেছনে ফেলে ফাঁকা পোস্টে বল ঠেলে দিয়ে সতীর্থদের সঙ্গে উৎসবে মাতেন সবুজ (৩-১)। আর এই গোলেই জয় নিশ্চিত হয় তাদের।

 

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর