Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট ২০১৭, ৭ ভাদ্র, ১৪২৪, ২৮ যিলকদ ১৪৩৮ হিজরী

ধেয়ে আসছে ভারতের পানি, তিস্তায় রেড অ্যালার্ট

| প্রকাশের সময় : ১৩ আগস্ট, ২০১৭, ১২:০০ এএম


ইনকিলাব ডেস্ক : তিস্তার উজানে ভারতে তিস্তার পানি বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারতের দৌমহনী থেকে পানি ধেয়ে আসছে বাংলাদেশের দিকে। এ অবস্থায় তিস্তার উজানে ভারতের অংশে ভারতীয় সেচ মন্ত্রণালয় গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। পাশাপাশি তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে বিশেষ সতর্কতা সঙ্কেত জারি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে তিস্তা অববাহিকার সব ইউপি চেয়ারম্যানের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে তিস্তায় বসবাসরতদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তিস্তার উজানে ভারতে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় সব ইউপি চেয়ারম্যানের মোবাইল ফোনে নদীতে বসবাসরতদের সরিয়ে আনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তিস্তায় বসবাসরতদের বাঁধসহ উঁচু স্থানে আশ্রয় নেয়ায় ইউপি চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
তিস্তার উজানে ভারতের গজলডোবা বাঁধের সব গেট খুলে দেয়ার গতকাল বিকেল থেকে দ্রæত বাড়তে শুরু করে তিস্তার পানি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারাজের সব (৪৪টি) জলকপাট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
একদিকে মুষলধারে বৃষ্টি অন্যদিকে তিস্তার পানি বৃদ্ধিতে চরম বিপাকে পড়েছে তিস্তার পাড়ের বন্যাদুর্গত এলাকার লোকজন। উজানের ঢলের পানি ঘোলা, বিভিন্ন গাছের পাতা ও কচুরিপানা থাকার কারণে এলাকাবাসীর ধারণা উজানে বন্যার পানি আসছে। তিস্তা নদীর উজানে বসবাস করা পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়ন ও পূর্ব খড়িবাড়ি গ্রামের বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে। সেই তিস্তা উপকূলীয় এলাকায় বসবাসরত বিভিন্ন গ্রামে মাইকিং করে রেড অ্যালার্ট সম্পর্কে বলা হয়েছে। পূর্ব খড়িবাড়ি গ্রামের মিরাজ উদ্দিন বলেন, পানির স্রোতের অবস্থা দেখে বুঝা যায় আশপাশের গ্রামগুলো সব ডুবে যাবে। সেই সঙ্গে বড় ধরনের বন্যা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পাউবো অফিসে সূত্রে জানা যায়, তিস্তার টানা কয়েকদিনে বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তায় বন্যা দেখা দিয়েছে। তিস্তার ব্যারেজের ৬০ কিলোমিটার উজানে ভারত গজলডোবা বাঁধটি ১৯৯৮ সালে নির্মাণ করেন। গজলডোবা বাঁধটির ৫৪টি গেটের মাধ্যমে উজানে বন্যা হলে সকল গেট খুলে দিলে ধেয়ে আসছে বন্যার পানি ও বাংলাদেশের অংশে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে এলাকায় বন্যা দেখা দেয়।
পাউবো অফিসে সূত্রে আরও জানা যায়, বর্ষার সময় ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের সৃষ্টি হলে গজলডোবার ৫৪টি জল কপাট খুলে দেয়। ফলে নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়।
সন্ধ্যা ৭টার দিকে কিসামত চরের আবুল কালাম জানান, দ্রæত গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে তিস্তার পানি। বিকেল থেকে তিস্তার পানি বৃদ্ধি থেকে মনে হচ্ছে বড় ধরনের বন্যা দেখা দেবে।
ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি শনিবার সকাল ৬টা থেকে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৪০) ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর শোঁ শোঁ শব্দ আর গর্জন তিস্তা অববাহিকা কাঁপিয়ে তুলেছে। অপরদিকে বুড়ি তিস্তা নদীটি ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই এলাকায় বাঁধ ভেঙে গেছে।
এছাড়া তিস্তা ব্যারাজ সেচ প্রকল্পের জলঢাকাস্থ দুন্দিবাড়ির অদূরে দিনাজপুর প্রধান সেচ ক্যানেলের ডানতীরের বাঁধ দুইটির বিভিন্ন স্থানে বিধ্বস্ত হয়েছে।

 


Show all comments
  • ‌মোঃরমজান অালী ১৩ আগস্ট, ২০১৭, ৫:১১ এএম says : 0
    Apnader news gulo very nice
    Total Reply(0) Reply
  • ১৩ আগস্ট, ২০১৭, ৬:০৭ এএম says : 0
    ভাই পানি কমছে
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ