Inqilab Logo

সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ৩০ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

তিলাই নদীর সুইস গেটের বাঁধ ভেঙ্গে ফুলবাড়ীতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

ফুলবাড়ী, দিনাজপুর সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৫ আগস্ট, ২০১৭, ২:৫১ পিএম

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে গত দুই তিন দিনের দফায় দফায় ভারী বর্ষণ এবং পরবর্তীতে তিলাই খাল ও শাখা যমুনা নদীর পানি বেড়ে যাওয়ার প্লাবিত হয়েছে এলাকায়। বন্যার পানির নিচে তলিয়ে গেছে কৃষকের সবজি ক্ষেত ও রোপা আমনের চারা। যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়েছে কয়েকটি এলাকার মানুষ । অনেকেই বাড়ি-ঘর ছেড়ে গবাদি পশুসহ ঠাঁই নিয়েছে বিভিন্ন স্কুল কলেজের ভবনগুলোতে।

সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখাযায়,উপজেলার এলুয়াড়ী,শিবনগর,বেতদিঘী ইউনিয়নের অনেক এলাকা প্লাবিত হয়ে পানি বন্দি হয়ে পড়েছে শতশত মানুষ। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়েছে বড়পুকুরিয়া খনি এলাকার পাতিগ্রাম,বাঁশপুকুর ও পাতরাপাড়াসহ প্রায় ১০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। এসব এলাকার সাথে শহরের যোগাযোগ একেবারে বিছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও তীব্র খাবার সংকটে পড়েছেন ওই এলাকার পানি বন্দি মানুষগুলো।

এদিকে পৌর শহরের ১নং ও ২নং ওয়ার্ডের বেশ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়ে পানি বন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক শত মানুষ।

পৌর কাউন্সিলর হারান দত্ত জানান, তিলাই খাল ও ছোট যমুনা নদীর পানি আদর্শ কলেজ ও ফায়ার সার্ভিস এর সামনের মূল সড়কের ব্রিজ বেয়ে সুজাপুর ১নং ওয়ার্ড এবং ২নং ওয়ার্ডের দাঁড়া দিয়ে পুনরায় ছোট যমুনা নদীতে নেমে যাবার উপায় কোন একসময় থাকলেও পানি নিষ্কাষনের জন্য তৈরী করা পুরাতন ওয়ার্ল্ড ভিশন অফিসের সামনের ব্রিজটি বন্ধ করে সেখানে ভবন নির্মাণ করায় পানি বন্দি হয়ে পড়েছে পৌর এলাকার ১ ও ২নং ওয়ার্ডের শতশত মানুষ। তিনি আরও জানান,তার এলাকায় ৫টি কাঁচা ঘর ও ১টি ইটের বাড়ি ভেসে গেছে। কয়েকটি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে ফুলবাড়ী দারুস সুন্নাহ্ মাদ্রাসা ও হীরা রাইচ মিলের চাতালে কিন্তু সে পরিবারগুলো এখনও সরকারীভাবে কোন ত্রান সহায়তা পাননি।

এবার বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত,সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার রাতভর ভারী বর্ষণ বিভিন্ন নদীর বাঁধ ভেঙ্গে ছোট যমুনা নদী ও তিলাই খাল পানি ভর্তি হয়ে পড়লে উপজেলার বিভিন্ন এলাকাসহ আশপাশের অঞ্চলগুলো প্লাবিত হলে,একইসাথে তলিয়ে গেছে কৃষকের সবজি ক্ষেত ও সদ্য রোপন করা আমন ধানের ক্ষেত,মাছের ঘের ও কাঁচা-পাকা বাড়ি-ঘর । এলাকার বেশীর ভাগ পুকুরগুলোর পাড় উপছে গিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হওয়ায় পুকুরের মাছ সব বের হয়ে গেছে। ফলে বানিজ্যিকভাবে চাষ করা এসব পুকুরের মালিকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন