Inqilab Logo

শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৮ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

ভূঞাপুরে বন্যায় সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত

টাঙ্গাইল জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৫ আগস্ট, ২০১৭, ৩:৪২ পিএম

প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে যমুনার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এতে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্ধী হয়ে পড়েছে। নিমজ্জিত হয়েছে সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন, বোনা আমন, আউশ,বীজতলা ও সবজি বাগান। বন্ধ হয়েগেছে অর্ধশতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

সরেজমিনে জানাযায়, যমুনার পানি অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে গাবসারা, অর্জুনা, গোবিন্দাসী, নিকরাইল ও অলোয়া ইউনিয়ন এবং পৌর এলাকার ১৫ হাজার বসতবাড়ী বন্যার পানিতে ডুবেগেছে। এতে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্ধী হয়ে পড়েছে ।নিমজ্জিত হয়েছে সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন, বোনা আমন, আউশ,বীজতলা ও সবজি বাগান। ক্লাশ রুমে পানি প্রবেশ করায় ৪২ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫টি উচ্চ বিদ্যালয় ও ৬ টি দাখিল মাদ্রাসা বন্ধ হয়ে গেছে।স্থগিত করা হয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চলমান দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা। প্রতিদিনই প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। নিমজ্জিত হচ্ছে ফসলি জমি।পুরো উপজেলাই বন্যা কবলিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।এদিকে বন্যার পানিতে বসতবাড়ী তলিয়ে যাওয়ায় অনেকেই ঘরের মধ্যে উচু বাঁশের মাচান পেতে পরিবার পরিজন নিয়ে দুর্বিসহ জীবন যাপন করছে। শত শত মানুষ নিজ ঘরবাড়ী ছেড়ে পরিবার-পরিজন ও গবাদিপশু নিয়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়ী, অন্যের উচু জমি ও বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে পৌছেনি কোন সাহায্য। এছাড়া ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক ঝুঁকিতে রয়েছে।আর এ সড়ক ভেঙে গেলে উত্তর টাঙ্গাইলের চারটি উপজেলা নতুন করে বন্যার পানিতে তলিয়ে যাবে।

গাবসারা ইউনিয়নের কালিপুর গ্রামের ফরিদা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন ‘বানের পানিতে ঘরবাড়ি ডুইবা গেছে। বিপদের মইধ্যে আছি। কেউ খোজ নিতে আসে নাই। ভোটের সময় আইলেই আমগর দাম বাইড়া যায়। অহন আমগো কোন দাম নাই।’

গাবসারা ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনির বলেন, ‘আমার ইউনিয়ন পুরোটাই পানির নীচে । এতে অর্ধলক্ষ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। অথচ সরকারীভাবে কোন সাহায্যই পাচ্ছে না ক্ষতিগ্রস্তরা।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, ‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।উচু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যাতে বন্যার্তরা আশ্রয় নিতে পারে।আটকে পড়াদের উদ্ধারে নৌকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে।পর্যাপ্ত শুকনা খাবারের ব্যবস্থা রাখা আছে।’



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ