Inqilab Logo

শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৭ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ভারতীয় বন্যাদুর্গতরা

বিবিসি বাংলা : | প্রকাশের সময় : ১৭ আগস্ট, ২০১৭, ১২:০০ এএম

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়া কয়েকশ’ মানুষ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। কোচবিহার জেলার অন্তত দুটি এলাকা থেকে বহু মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে ওপারে গেছেন বলে জানিয়েছেন ওই এলাকার থেকে নির্বাচিত পশ্চিমবঙ্গের এক মন্ত্রী। বাংলাদেশের লালমনিরহাট থেকে বিজিবির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী ভারতীয় গ্রামগুলো থেকে বন্যাক্রান্ত হয়ে ৫ থেকে ৬শ’ লোক এসেছিলেন। লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোরশেদ বলেন, যেহেতু তারা বিপদে পড়ে এসেছে, মানবিক কারণেই তাদেরকে ঢুকতে বাধা দেয়া হয়নি। তারা এখানে এসে নিজেদের ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন ঘর-বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল।
তিনি বলেন, সীমান্তের ওই এলাকাটি একটু অদ্ভুত। সীমান্তে বাংলাদেশের দুটি গ্রাম মোগলহাটা ও দুর্গাপুরের মধ্যবর্তী জায়গায় রয়েছে তিনটি ভারতীয় গ্রাম, যেগুলো ধরলা নদী দ্বারা ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন এবং বাংলাদেশের মূল ভূখন্ডের সাথে যুক্ত। কাঁটাতারও নেই সেখানে। ফলে বন্যাপ্লাবিত হওয়ার পর তারা আর ধরলা পাড়ি দিয়ে ভারতে যেতে পারেনি, তাই বাংলাদেশে চলে এসেছে। ভারত থেকেও একই রকম তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
ভারতীয় অংশের দিনহাটা মহকুমার জারিধরলা আর দরিবস গ্রামগুলি থেকে এবং তুফানগঞ্জ এলাকার চরবালাভূত এলাকার বন্যাদুর্গত মানুষদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি সেখানকার নদীগুলিতে প্রবল স্রোতের কারণে। নদীতে গত কয়েকদিনের বন্যার কারণে ব্যাপক স্রোত বইছে। ফলে বাংলাদেশের সীমান্ত লাগোয়া সেই জারিধরলা ও দরিবস গ্রাম পুরোটাই প্রায় ডুবে গেছে।
কোচবিহার থেকেই নির্বাচিত রাজ্যের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলছেন, ‘জারিধরলা আর দরিবস এলাকায় প্রায় হাজার ছয়েক মানুষ থাকেন। নদীতে এমন স্রোত যে, এত লোককে উদ্ধার করে নিয়ে আসা অসম্ভব। ত্রাণও পৌঁছনো যাচ্ছে না। সেজন্যই ওরা বাংলাদেশের দিকে চলে গেছে বলে জানতে পেরেছি’।
তিনি আরও জানান, তুফানগঞ্জ এলাকার চরবালাভূতেরও একই অবস্থা। হাজার চারেক মানুষ সেখানে পানিবন্দি হয়ে আছেন। তবে ঠিক কত জন সেখান থেকে বাংলাদেশের দিকে গেছেন, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
জারিধরলা আর দরিবস এলাকার মানুষ বাংলাদেশের মোগলহাটে বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
‘আমরা বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের কাছে কৃতজ্ঞ যে, আমাদের নাগরিকদের বিপদের দিনে তারা ত্রাণ দিয়ে সাহায্য করছেন,’ বিবিসি বাংলাকে বলেন মন্ত্রী মি. ঘোষ। তবে বিএসএফের সূত্রগুলি বলছে, ভারত থেকে বাংলাদেশের দিকে চলে গেছেন বন্যা কবলিত এলাকার মানুষ, এমন তথ্য বিজিবি তাদের জানায়নি এখনও। মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ অবশ্য বলছিলেন, আগেও বন্যার সময়ে ওই এলাকার মানুষ বাংলাদেশে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।
‘ওই অঞ্চলের মানুষকে অনেকবার বোঝানোর চেষ্টা করেছি যে, নদীর এপারে খাস জমি দিচ্ছি, সেখানে বসবাস করুন। ছাত্রছাত্রীদের হোস্টেল করে দিচ্ছি, সেখানে থেকে তারা পড়াশোনা করুক। তবে খুবই উর্বর জমিতে তারা কলা চাষ করেন। সেজন্যই নদীর এদিকে আসতে রাজী নন তারা কেউ,’ বলছিলেন মি. ঘোষ।
তবে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, বন্যার পানি কিছুটা হলেও কমতে শুরু করেছে। তাই যারা বাংলাদেশের দিকে চলে গিয়েছিলেন, এমন কিছু মানুষ আবারও ফিরতে শুরু করেছেন। বাংলাদেশে বিজিবির লে. ক. মোরশেদও বলছেন, যারা আশ্রয় নিতে এসেছিল, তাদের বেশীরভাগই ভারতে ফিরে গেছেন। এখন ওই এলাকায় বড়জোর ৫০-৬০টি ভারতীয় পরিবার রয়ে গেছে।



 

Show all comments
  • MD EMDAD ULLAH ১৭ আগস্ট, ২০১৭, ৭:১৪ পিএম says : 0
    এই নিয়োজটা আমাদের কাছে পৌছানোর জন্য দৈনিক ইনকিলাবকে জানাই আন্তরিক মোবারকবাদ।
    Total Reply(0) Reply
  • ১৭ আগস্ট, ২০১৭, ১০:৫৯ পিএম says : 0
    হা হা হা কি আজিব ভারতের মানুষ বিপদে পরে আসে,,,?? আর মায়েন মার তেকে আসা মানুষ গুলি কি এমনি এসে ছিল
    Total Reply(0) Reply
  • nur mohammad ১৮ আগস্ট, ২০১৭, ১২:৩৪ এএম says : 0
    বন্যার মত প্যাকৃতিক দুযোগে এখনো কোন সাহয্য পাই নি অনেক পরিবার আমাদের পশাসনকে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বন্যা

২১ মার্চ, ২০২১
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০
৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ