Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭, ০৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী

ভোটের মাঠে সমান সুযোগ নিশ্চিতের তাগিদ সাংবাদিকদের

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৩০ নভেম্বর, -০০০১, ১২:০০ এএম

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব দলের জন্য সমান সুযোগ তৈরির তাগিদ দিয়েছেন টিভি, অনলাইন ও রেডিওর সাংবাদিকরা।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের দ্বিতীয় দিনে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা এই কথা বলেন। সংলাপে ২৬ জন অংশ নিয়েছিলেন।

অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অনেকেই বলেছেন, ‘নির্বাচনী পরিবেশ তৈরিতে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। কে ভোটে অংশ নিল বা না নিল তা রাজনৈতিক বিষয়। সম্ভব হলে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একাধিকবার মত বিনিময় করা যেতে পারে।

যেসব দল ভোটে থাকবে তাদেরসহ সব প্রার্থীর জন্যে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি করতে হবে। পরিস্থিতি বুঝে প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকেও রাখতে হবে মাঠে। অযথা আগাম সেনাবাহিনী মোতায়েন নিয়ে ‘বিতর্ক’ থেকে বিরত থাকারও পরামর্শ এসেছে গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের কাছ থেকে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বাসস এর প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ জানান, নির্বাচন কমিশনকে সংবিধান, আইন-বিধি বিধান অনুযায়ী সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আইন প্রয়োগ ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখলে সবার প্রশংসা পাবে কমিশন।

তিনি জানান, ভোটের মাঠে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন নেই। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় যদি কমিশন ভোটের সময় তাদের মোতায়েনের প্রয়োজন মনে করে তাহলে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নিয়োজিত করবে।

তবে সেনা মোতায়েন নিয়ে ‘আগাম’ বিতর্ক তৈরি করায় ‘বিশেষ মহলের মতলব’ রয়েছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

একাত্তর টিভির প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু জানান, ভোটে সেনাবাহিনীর প্রয়োজন নেই। সেনাবাহিনীর ব্যবহার রাজনৈতিক কারণে হলে তা থেকে বিরত থাকতে হবে।

ভোটের দিন ইসির নিজস্ব ওয়েবে দ্রুত ও সঠিক ফলাফল প্রচার এবং দেশের ৪০ হাজার ভোট কেন্দ্রে টিভি চ্যানেলের ক্যামেরা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

মাছরাঙ্গা টিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক রেজোয়ানুল হক রাজা জানান, ভোটে যারা আসবে তাদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। ভোটে সেনাবাহিনী মোতায়েন নিয়ে টানাহেঁচড়া না করাই ভালো। সব দলের অংশগ্রহণের জন্য পরিবেশ তৈরি রাখতে হবে, তবে কে ভোটে এলো না এলো তা রাজনৈতিক বিষয়।

নিউজ টোয়েন্টিফোর এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক হাসনাইন খুরশিদ জানান, ইসির কাছে পর্যাপ্ত ক্ষমতা রয়েছে তার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। দলগুলোর আস্থা চূড়ান্তভাবে অর্জন সম্ভব হবে না; তবে জনগণের আস্থা অর্জনে সব পদক্ষেপ নিতে হবে।

প্রধান দুই দলের সঙ্গে ‘সিরিজ সংলাপে’এর প্রস্তাব দেন বাংলা ভিশনের হেড অব নিউজ মোস্তফা ফিরোজ। তিনি জানান, ভোটের মাঠে সেনাবাহিনী বা এলিট ফোর্স দিয়ে কোনো লাভ হবে না। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সমঝোতা হলে এসব বাহিনীরও দরকার পড়বে না।

সিরিজ সংলাপ, ৩০০ আসনে একাধিক দিনে ভোট ও ধর্মীয় দলগুলোর নিবন্ধন বাতিল করে গঠনতন্ত্র সংশোধন ও নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে হবে।

সংলাপে উপস্থিত ছিলেন আবুল কালাম আজাদ, খায়রুল আনোয়ার, জ ই মামুন, শাইখ সিরাজ, সৈয়দ আশিক রহমান, রাশেদ চৌধুরী, মোস্তফা ফিরোজ, তুষার আব্দুল্লাহ, খালেদ মহিউদ্দীন, রেজোয়ানুল হক রাজা, মোজাম্মেল বাবু, তালাত মামুন, সুকান্ত গুপ্ত অলক, ফাহিম আহমেদ, হাসনাইন খুরশিদ, মুস্তাফিজ রহমান, শরিফুল ইসলাম, মাহমুদুল করিম চঞ্চল, বিল্লাল হোসাইন বেলাল, সেলিম বাশার, আমির খসরু, সাখাওয়াত হোসেন বাদশা, মুরসালীন নোমানী ও এস এম হারুন-উর রশীদ।

সংলাপে যেসব সুপারিশ রয়েছে-সংলাপ শেষে ইসির সম্মেলন কক্ষে ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সার্বিক বিষয়ে একীভূত মতামতগুলো তুলে ধরেন।

১. সেনা মোতায়েনের পক্ষে-বিপক্ষে মত রয়েছে; অধিকাংশই ইসির ওপর ন্যস্ত করেছে

 


Show all comments
  • ১৭ আগস্ট, ২০১৭, ১১:১৭ পিএম says : 0
    সেনামোতায়েন করতে হবে
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ