Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৭ আশ্বিন ১৪২৪, ০১ মুহাররম ১৪৩৮ হিজরী
শিরোনাম

সাংবিধানিক সঙ্কটের শঙ্কা!

হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে আইনজীবীদের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৮ আগস্ট, ২০১৭, ১২:০০ এএম

রায় নিয়ে রাজনীতি না করার প্রধান বিচারপতির আহ্বানের পরও আওয়ামী লীগ-বিএনপির কথাযুদ্ধে উত্তপ্ত রাজনীতি


ষোড়শ সংশোধনী বাতিল রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে নীরব রাজনীতি সরব হয়ে ওঠেছে। রায়ের পর্যবেক্ষণের পক্ষে এবং বিপক্ষে অবস্থান নেয়া ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও মাঠের বিরোধী দল বিএনপির নেতাদের মধ্যে চলছে কথার লড়াই। এক পক্ষ কথার কামাল ছুড়লে অন্যপক্ষ জবাব দিচ্ছেন কথার মিসাইল ছুড়ে। প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা রায় নিয়ে রাজনীতি না করার অনুরোধ জানালেও রাজনীতি কার্যত গরম হয়ে গেছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠক, পরবর্তীতে বঙ্গভবনে গিয়ে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে নালিশ; দু’দিন পর বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, রাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল ও ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদকের বৈঠক গুঞ্জনে নতুন মাত্রা দিয়েছে। বিএনপি থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে- প্রধান বিচারপতির ওপর চাপ প্রয়োগ করে রায় পাল্টে নেয়ার চেষ্টা হচ্ছে। সাংবিধানিক পদ প্রধান বিচারপতির ওপর চাপ প্রয়োগকে বিচার বিভাগের জন্য অশনি সঙ্কেত মনে করছেন দেশের সংবিধান বিশেষজ্ঞরা। তাদের শঙ্কা- সর্বোচ্চ আদালতের একটি রায়কে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতি এবং প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের দাবিতে মন্ত্রীদের লাগামহীন কথাবার্তা দেশকে নতুন করে সঙ্কটে ফেলে দিতে পারে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ‘আদালত যতবার ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করবে, আমরা ততবার সংসদে বিল পাস করব। আমরা বিচারপতিদের চাকরি দেই। তারা সংসদের উপর পোদ্দারি করবে’ মন্তব্য, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের ঘোষণা ‘আবার সংসদে আইন করা হবে’ এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে লাগামহীনভাবে ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথাবার্তায় কোনো কোনো আইনজীবী শঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশে আবারো সাংবিধানিক সঙ্কট সৃষ্টি হতে পারে। আদালতের রায় নিয়ে মন্তব্য করা উচিত নয় অভিমত দিয়ে তারা বলেন, এ ধরনের রাজনৈতিক বিতর্কের কারণে অতীতে সংবিধানিক সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে। এটা বন্ধ হওয়া উচিত।
প্রবীণ রাজনীতিক সাবেক প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী গতকাল এই বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ‘রাষ্ট্রের ভেতর সরকার ও জাতীয় সংসদ জোট বেঁধে তৃতীয় অঙ্গ বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে যে লড়াই করছে, তা ভালো লক্ষণ নয়। এ ধরনের পরিস্থিতি ভবিষ্যতে কোনো অবৈধ অসংবিধানিক সরকার আসার প্রেক্ষাপট রচনা করতে পারে। এই বিরোধের সুযোগে যদি কোনো অসাংবিধানিক সরকার গঠনের প্রচেষ্টা হয়, তার জন্য কে দায়ী হবে?’ ষোড়শ সংশোধনী বাতিল নিয়ে উত্তেজনা প্রসঙ্গে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন বলেছেন, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল রায় ঐতিহাসিক। সর্বোচ্চ আদালতের রায়কে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। রায়ের পর্যবেক্ষণে রাষ্ট্র, নির্বাচন, গণতন্ত্র নিয়েও কথা এসেছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। সংবিধান কাগজে-কলমে নয়, কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন দেখতে চাই। সংবিধানের অনেক বিধানই আছে, যেগুলোকে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে না, কিংবা কার্যকর করা হচ্ছে না। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, সংবিধান দিয়ে বঙ্গবন্ধু হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট তৈরি করেছেন। সেই সুপ্রিম কোর্টের অনেক বিচারপতি বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার করতে বিব্রতবোধ করেছেন। আমাদের মনে রাখতে হবে, বঙ্গবন্ধুকে লাহোরে মারতে পারেনি। আমাদের মধ্যে মীর জাফর রয়েছে। তাকে ঢাকায় মারা হয়েছে।
সর্বোচ্চ আদালতের একটি রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে দেশের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। রাজনৈতিক অঙ্গন ও আদালতপাড়া সর্বত্রই অস্থিরতা। সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও বরেণ্য আইনজীবীরা রায়কে ঐতিহাসিক হিসেবে অবিহিত করছেন। তাদের সঙ্গে সুর মিলিয়েছে মাঠের বিরোধী দল বিএনপি। রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য দেয়ায় আইন কমিশনের চেয়ারম্যান পদ থেকে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন করছে বিএনপি। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন মন্ত্রী প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ দাবি করছেন। আইনমন্ত্রী রায়ের কিছু শব্দ এক্সপাঞ্জ করার প্রস্তাবের কথা বললেও আওয়ামী লীগপন্থী ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা কার্যত মুখোমুখি অবস্থানে।
সর্বোচ্চ আদালতপাড়া গতকালও ছিল উত্তপ্ত। আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবী হিসেবে পরিচিত বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ছিল মুখোমুখি অবস্থানে। আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরা ষোড়শ সংশোধনী বাতিল রায়কে ‘পেনড্রাইভ জাজমেন্ট’ হিসেবে অবিহিত করছেন। তারা বলছেন, পেনড্রাইভ থেকে কোনো ল্যাপটপ থেকে এই রায়ের উৎপত্তি হয়েছে সেটা আমাদের জানা আছে। একটি ইংরেজি দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক রায় লিখে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করছেন। অন্যদিকে বিএনপি আইনজীবীরা রায়কে যুগান্তকারী হিসেবে অবিহিত করেছেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম সর্বোচ্চ আদালতের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের তৎপরতা রাষ্ট্রদ্রোহীতার শামিল অবিহিত করে বলেছেন, রায় নিয়ে প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাৎ জাতিকে উদ্বিগ্ন করেছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে শঙ্কিত। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সকল ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তে ব্যর্থ হয়ে বিএনপির রাজনীতি এখন বেপরোয়া ড্রাইভারের মতো হয়ে গেছে। তারা মন খারাপ করে যে কোনো সময় একটা দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে। তাই সবাই সতর্ক থাকবেন, সজাগ থাকবেন। গত ১৫ আগস্ট ভোরে আরেকটা ১৫ আগস্ট, আরেকটা একুশে আগস্টের মতো জঙ্গিবাদী হত্যাযজ্ঞ ঘটানোর পরিকল্পনা পন্ড হওয়ায় বিএনপির মন খারাপ। শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা ছিল; ৫০০ লোক হত্যার পরিকল্পনা ছিল।
আদালতপাড়ায় রায়ের পক্ষে-বিপক্ষে সরকার সমর্থক ও বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের পাল্টাপাল্টি প্রতিবাদ সভা, বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। পৃথক পৃথভাবে সরকার সমর্থক ও বিএনপি আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে। সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ যে রায় দিয়েছে, তা বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের আকাক্সক্ষার প্রতিফলন হয়েছে। দেশের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্র ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আরো মজবুত করবে। ভবিষ্যতে যখন দেশে আইনের শাসন ফিরে আসবে, তখন মানুষের আশা আকাক্সক্ষা পূরণ করা সম্ভব হবে। যারা এই এ রায়ের বিরুদ্ধে কথা বলছে, তারা রায় পড়লে দেখবে; যেসব বিকৃত বক্তব্য তারা তুলে ধরছেন তার সাথে কোনো সম্পর্ক নেই। তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে রায়ের বিরুদ্ধে কথা বলছে। এই রায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পক্ষে গণতন্ত্রেরও পক্ষে। সাবেক প্রধান বিচারপতি হয়েও এ বি এম খায়রুল হক কী করে বর্তমান প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেন। তিনি সরকারের মুখপত্র হিসেবে কাজ করছেন। তিনি আসলে সরকারের দালাল। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, এই রায় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ রায় বা ঐতিহাসিক দলিল। সরকারের শেষ সময়ে ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে তাদের মাথাব্যথা শুরু হয়েছে। আগামী জাতীয় নির্বাচন হলে সেখানে তাদের পরাজয় অবসম্ভাবী। খায়রুল হক ত্রয়োদশ সংশোধনীর রায়ে অনেক অমূলক কথা বলেছেন। আপিল বিভাগের ফুলকোর্টে যে রায় দিয়ে ছিলেন ১৬ মাস পরে তা তিনি নিজে নিজে পরিবর্তন করেছেন। একজন বিচারপতি বলেছেন এটা তার বিচারিক অসততা। জনগণ ও আইনজীবীরা ভোট দিয়েছেন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্য। যারা এই রায়ের বিরুদ্ধে কথা বলছেন তাদেও বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করে আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে হবে।
সাবেক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, আপিল বিভাগের এই রায়ের পর বর্তমান সরকার অকার্যকর হয়ে পড়েছে। বর্তমান সংসদ বাতিল করে সরকারকে পদত্যাগ করে অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন দিতে হবে। আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, প্রধানমন্ত্রী আপিল বিভাগের রায় মানছেন না। মন্ত্রীরা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সমালোচনা করছেন। তাহলে জনগণ তা কি করে মানবে। আদালত অবমাননার দায়ে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের এমপি বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের সদস্য সচিব ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নুর তাপস বলেন, আজব যে রায় দেয়া হয়েছে, যে উক্তিগুলো দেয়া হয়েছে; আমি বলতে চাই- এটা হলো পেনড্রাইভ জাজমেন্ট। তার মানে কোথা থেকে কোন পেনড্রাইভ থেকে কোন ল্যাপটপ থেকে এই রায়ের উৎপত্তি হয়েছে সেটা আমাদের জানা আছে। এই ষড়যন্ত্রের মুখোশ আমরা উন্মোচন করব। সময় থাকতে আপনাদের (প্রধান বিচারপতি) যদি সম্মানবোধ থাকে তাহলে অবিলম্বে এই রায়ের অপ্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো অপসারণ করবেন এবং এই রায় বাতিল করবেন। সারাদেশব্যাপী এই আন্দোলন চলছে। ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের একটি জায়গায় যে উক্তি করা হয়েছে, তার একটি বক্তব্য আপনাদের সামনে তুলে ধরি। তাতে সংসদকে বলা হয়েছে- সংসদ নাকি ম্যাচিউরড না। উদাহরণ দিয়ে বলব ওনারা কেমন ম্যাচিউরড। তিন বছরেও একজন যুদ্ধাপরাধী তার রায়ের কপি হাতে পায় নাই। এটা হলো তাদের ম্যাচিউরিটি। প্রধান বিচারপতিও বলেছেন, ছয় মাসের মধ্যে রায় লিখে দিতে হবে। তাহলে একজন ভুক্তভোগি তার রায় পাওয়ার পরও ছয় মাস কী সুপ্রিম কোর্টের দুয়ারে ঘুরে বেড়াবে। এই হলো তাদের ম্যাচিউরিটি। তারা ম্যাচিউরিটি কথা বলে আজকে বিভিন্ন ক্লাবে সন্ধ্যার পর গেলে দেখা যায়, আমাদের এই জাজেরা তাদের বিভিন্ন কার্যকলাপে লিপ্ত। আমরা এর নিন্দা জানাই এবং লজ্জার বিষয় হলো- এজলাসে না বসে তারা ঢাকা ক্লাবে ঘুরে বেড়ায়। আরো কি করে সেটা আমি এখানে প্রকাশ করতে চাই না। জনগণ সেটা জানে। সুতরাং এই হলো তাদের ম্যাচিউরিটি। তারা বলে কিনা সংসদ নাকি ম্যাচিউরড না। আবদুল বাসেত মজুমদার বলেন, বাংলাদেশের আইনজীবীরা একত্রিত হয়েছে ষোড়শ সংশোধনী রায়ের বিরুদ্ধে। এ রায়ে আইনি কথার চেয়ে রাজনীতির কথা বেশি বলা হয়েছে। যে রায় আপনি (প্রধান বিচারপতি) দিয়েছেন এই রায়ের জনসাধারণের প্রত্যাশা প্রতিফলিত হয়নি। আমরা আশা করব, অনতিবিলম্বে এ রায়কে বাতিল করবেন। আওয়ামী প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন বলেন, রায়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সম্পর্ক যেভাবে কটুক্তি করা হয়েছে, সেটা কোনো দিন বাংলার মানুষ মেনে নেবে না। এই বাংলাদেশ এককভাবে বঙ্গবন্ধুই স্বাধীনতার ঘোষণা করে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়ে এ দেশকে স্বাধীন করতে ৩০ লক্ষ লোক প্রাণ দিয়েছে। সেই বঙ্গবন্ধু ও সংসদকে নিয়ে যেভাবে কথা বলা হয়েছে, সেটা সত্যিই দুঃখজনক। বাংলাদেশের সংসদ সবার উপরে। সংসদ নিয়ে এভাবে মন্তব্য করা অত্যন্ত অসৌজন্যমূলক। আমরা আইনজীবীরা এটা সহ্য করতে পারি না। অবিলম্বে এটা প্রত্যাহার করে নেয়া হোক। ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, ষোড়শ সংশোধনীর রায়ে ৯৬ অনুচ্ছেদ বাতিল করেছেন। সংসদের হাতে বিচারক অপসারণ ক্ষমতা থাকবে না সেই রায় দিয়েছেন, কিন্তু সেই রায়ের সঙ্গে ৪০০ পাতার যে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন সেটা আমরা মানি না, মানি না। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে যে উক্তি করেছেন পরবর্তীতে তার প্রতি প্রেম ভালোবাসা দেখিয়েছেন সেটা পূরণ করা যাবে না, যাবে না। আজকে অনেকে মুক্তিযুদ্ধের কথা বলছেন, তার প্রশংসায় পাগল হয়ে যাচ্ছেন, তাতে কিন্তু ওই অপরাধ ঢাকবে না, ঢাকবে না। আমাদের দাবি, সংসদ নিয়ে এবং বঙ্গবন্ধু নিয়ে পর্যবেক্ষণে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা বাতিল করতেই হবে। এটা নিয়ে কোনো আপোষ নাই। না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে, চলবে।

 


Show all comments
  • তামান্না ১৮ আগস্ট, ২০১৭, ২:৫৩ এএম says : 0
    একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে আমার প্রশ্ন: এগুলো আদালতের অবমাননা হচ্ছে না ?
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর