Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০১৭, ০৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী

উচ্চ আদালত ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে টানাপড়েন : কতিপয় অশুভ আলামত

| প্রকাশের সময় : ২১ আগস্ট, ২০১৭, ১২:০০ এএম

মোবায়েদুর রহমান : ষোড়শ সংশোধনী বাতিল নিয়ে যে আকাশ-পাতাল ঝড় উঠবে সেটি রাজনৈতিক পন্ডিত কেন, খোদ অনেক বড় বড় পলিটিশিয়ানই কল্পনা করতে পারেননি। এর আগে দেশে আরো চারটি সংশোধনী উচ্চ আদালত কর্তৃক বাতিল হয়েছে। তখন বাতিল রায়ের পক্ষে-বিপক্ষে এক ঘরানার সমর্থন এবং অপর ঘরানার মৃদু সমালোচনা সত্তে¡¡ও এবারের মতো এমন প্রলয়ঙ্করী ঝড় ওঠেনি। তাই ওয়াকিবহাল মহলের অনেকেই বিষয়টির গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। সরকারি দল কেন এই রায়টির বিরুদ্ধে ওভার রি-অ্যাক্ট করছে সেটার কারণ অনুসন্ধানেরও চেষ্টা চলছে। শিক্ষিত সচেতন মহলের একটি অংশ মনে করছেন, এই রায়টি নিয়ে এমন হুলুস্থ‚ল কর্মকান্ড না করলে সরকার পক্ষের এত বড় কি-ই বা ক্ষতি হতো? কিন্তু এখন যেভাবে পানি গড়াচ্ছে সেটা দেখে মনে হয়, এর শেষ কোথায় সেটি কোনো পক্ষই সঠিকভাবে অবগত নন।
দৃশ্যপটে আইন সচিব
ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের বিরুদ্ধে, বিশেষ করে তার পর্যবেক্ষণের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টির যে আহ্বান এসেছিল, সেটিতে সাড়া দিয়ে যে তৎপরতা শুরু হয়েছিল তার সর্বশেষ পদক্ষেপ হলো আইন সচিবের একটি বক্তৃতা। গত ১৭ অগাস্ট দৈনিক প্রথম আলোতে তার বক্তব্য ছাপা হয়েছে। শিরোনাম, ‘বড় গলায় কথা বলবেন না। কারো রায়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘জাতির জনককে অস্বীকার করা, তার একক নেতৃৃত্বকে অস্বীকার করা বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশকে অস্বীকার করার শামিল। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর আদালত কোনো সুয়োমোটো (স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে) মামলা করেনি।’
আইন সচিব আবুল সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক বলেন, ‘কোনো আদালতের রায়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়নি। কারো রায়েও হয়নি। আমার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা। ভাই মুক্তিযোদ্ধা। এক ভাই মুক্তিযুদ্ধে শহীদ। জাতির জনকের ডাকে তারা যুদ্ধে যান। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর জিয়াউর রহমান এ দেশটার সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে গেছেন।’
বাংলাদেশের প্রথম প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক একজন প্রধান বিচারপতি, এ কথা উল্লেখ করে জহিরুল হক বলেন, ‘বড় গলায় কথা বলবেন না। একজন প্রধান বিচারপতি হয়েছিলেন একজন প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক। বিচার বিভাগকে কলুষিত করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর আদালত কোনো সুয়োমোটো (স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে) মামলা করেননি। তখন কোথায় ছিলেন বড় বড় বক্তারা? যারা গণতন্ত্রের কথা বলেন, মুক্ত আলোচনার কথা বলেন।’
আইন সচিব আরো বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের দলটি যখন ক্ষমতায় থাকে, তখন জঙ্গি হামলা হয় না। তখন গণতন্ত্রের মুক্ত বিকাশের আলোচনা হয় না। তাদের মিছিল মিটিংয়ে কিন্তু কোনো বোমা হামলা হয় না। আমি এই পদে থেকে এ কথা বলা ঠিক নয়, এমন কথা অনেকে বলবেন। আমি তো বলব, অবশ্যই ঠিক। আমাদের মধ্যে শত্রæ ঢুকে পড়েছে, আমাদের সাবধান থাকতে হবে। জাতির জনককে অস্বীকার করা, তার একক নেতৃত্বকে অস্বীকার করা বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশকে অস্বীকার করার শামিল। এসব কিসের আলামত?’
আসলেই এসব কিসের আলামত?
যে প্রশ্ন দিয়ে আইন সচিব আবুল সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক তার বক্তব্য শেষ করেছেন, সেই প্রশ্নটিই এখন সচেতন মহল তাদের দিকে ছুঁড়ে দিচ্ছেন। কারণ দেশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আছে যাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দেয়া যায় না। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো দেশের বিচার বিভাগ, বিশেষ করে উচ্চ আদালত। আরেকটি হলো দেশের সশস্ত্রবাহিনী। উচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি বা বিচারপতিদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেয়াটা অধিকাংশ ক্ষেত্রে আদালত অবমাননার পর্যায়ে পড়ে। উন্নত দেশ বা অনুন্নত দেশ নির্বিশেষে এটি অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও সম্মানের সাথে মেনে চলা হয়। দেশের ওয়ার‌্যান্ট অব প্রিসিডেন্স অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বিচারপতির স্থান চতুর্থ। প্রথমে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট, তারপর প্রধানমন্ত্রী, তারপর জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং তারপর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি। প্রধান বিচারপতি শুধু একটি পদ ও পদবীই নয়, এটি একটি ইনস্টিটিউশন বা প্রতিষ্ঠান। অন্য দেশের ইতিহাসে নাই বা গেলাম। বাংলাদেশের ইতিহাসে দেখা যায় যে, সামরিক শাসন আমলে প্রধান বিচারপতিকে যেমন প্রেসিডেন্ট করা হয়েছে, তেমনি বেসামরিক শাসন আমলেও প্রধান বিচারপতিকে প্রেসিডেন্ট করা হয়েছে। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ যে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটান, সেখানেও ৬ নভেম্বর প্রধান বিচারপতি সায়েমকে প্রেসিডেন্ট করা হয়। আবার ১৯৯০ সালে প্রেসিডেন্ট এরশাদকে যখন পদত্যাগে বাধ্য করা হয়, তখন প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দিনকে প্রথমে ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং তার পর প্রেসিডেন্ট করা হয়। এমন সম্মানজনক মর্যাদায় যিনি অধিষ্ঠিত সেই প্রধান বিচারপতিকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রাপ্ত একজন আমলা (আইন সচিব) কোন দুঃসাহসে চোখ রাঙিয়ে কথা বলেন সেটি সত্যিই বোধগম্য নয়।
আইন কমিশন কি প্যারালাল সুপ্রিম কোর্ট?
আইন কমিশনের ফাংশন সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা দিয়েছেন ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন। কমিশন বিদ্যমান আইনসমূহের পর্যালোচনা করবেন এবং আইন কাঠামোকে যুক্তিযুক্ত ও যুগোপযোগী করার জন্য সরকারেরর কাছে সময় সময় সুপারিশ করবে। কিন্তু এখনকার আইন কমিশনের কার্যকলাপ এবং কথাবার্তা দেখে মনে হচ্ছে যে, তারা যেন সুপ্রিম কোর্টের গার্জিয়ান সেজেছে। যে ভাষায় এবং ভঙ্গিতে চেয়ারম্যান খায়রুল হক কথা বলছেন, সেটি দেখে মনে হয় যে তিনি যেন এখন দেশের সুপার চিফ জাস্টিস বনে গেছেন। তা না হলে প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের সাতজন বিচারপতি যে সর্বসম্মত রায় দিয়েছেন সেটিকে ভুল বা ভ্রমাত্মক বলার ধৃষ্টতা তিনি কিভাবে দেখান? তিনি কি মনে করেন যে, আইন কমিশন প্যারালাল বা সমান্তরাল সুপ্রিম কোর্ট?
তিনি বারবার প্রেস কনফারেন্স করেন। এই প্রেস কনফারেন্স করার অধিকার বা আওতা তিনি কোত্থেকে পেলেন? গত ১৭ অগাস্ট তিনি যে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছিলেন, সেখানে প্রিন্ট ও ইলেকট্র্রনিক মিডিয়ার প্রায় সকলেই হাজির হয়েছিলেন। কিন্তু খায়রুল হকের নির্দেশে মাত্র তিনটি পত্রিকা এবং একটি টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিকদেরকে রেখে বাকি সকলকেই বের করে দেয়া হয়। একজন পলিটিশিয়ান হয়তো সাংবাদিকদের মধ্যে পিক অ্যান্ড চুজ করতে পারেন। কিন্তু সরকার কর্তৃক নিযুক্ত, সরকারি কোষাগারের বেতন-ভাতা খাওয়া লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত একজন কর্মকর্তা কিভাবে সাংবাদিকদের মধ্যেও শ্রেণীভেদ করতে পারেন?
পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো নজির নাই যে, একজন সাবেক প্রধান বিচারপতি বর্তমান প্রধান বিচারপতি বা সিটিং চিফ জাস্টিসকে জ্ঞান দানের জন্য নসিহত করেন। তিনি যদি সাত জনের সর্বসম্মত রায়কেই ভুল বলেন, তাহলে তো অন্যেরা বলবেন যে; তার পঞ্চম সংশোধনীর রায় ভুল ছিল, সপ্তম সংশোধনীর রায় ভুল ছিল এবং ত্রয়োদশ সংশোধনীর রায়ও ভুল ছিল। এ ছাড়া তিনি আরো দুই-তিনটি পলিটিক্যাল বিষয়ের ওপরে রায় দিয়েছেন। সেগুলোকেও যদি তারই পদাঙ্ক অনুসরণ করে ভুল বলা হয়, তাহলে তিনি কি জবাব দেবেন?
গত ১৯ আগস্ট শনিবার সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক বলেছেন যে, বাবু এস কে সিনহা নাকি প্রধান বিচারপতি পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন? তার মতে প্রধান বিচারপতি ষোড়শ সংশোধনীর যে রায় লিখেছেন; সেটা নাকি তিনি বিরাগের বশবর্তী হয়ে লিখেছেন। আর বিরাগের বশবর্তী হয়ে লিখলে নাকি বিচারপতির শপথ ভঙ্গ হয়। বিচারপতির শপথ ভঙ্গ হলে তিনি আর বিচারপতি থাকতে পারেন না। তাই বাবু সিনহার বিচারপতি থাকার যোগ্যতা নেই।
দেখা যাচ্ছে যে, প্রধান বিচারপতি সিনহার পদত্যাগ বা অপসারণের দাবিতে দেশে আওয়ামী লীগ যে হৈ চৈ শুরু করেছে সেটার নেতৃত্ব দিচ্ছেন এ বি এম খায়রুল হক। তিনি প্রতিদিন একটি করে সভা-সমিতি করছেন এবং বর্তমান প্রধান বিচারপতি এবং অন্যান্য বিচারপতিদের বিরুদ্ধে বিষ উদ্গিরণ করছেন। অনুরাগ-বিরাগের কথা যদি ওঠে তাহলে বলতে হয় যে, খায়রুল হক অন্তত পাঁচটি মামলার রাজনৈতিক রায় দিয়েছেন যেগুলোর সবকটি বিরাগের বশবর্তী হয়ে করেছেন। এ কারণে তার সবগুলো রায় বাতিল হওয়া উচিত এবং তার অপসারণ পেছনের তারিখ থেকে কার্যকর হওয়া উচিত। অন্যদিকে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেছেন যে, এস কে সিনহাকে নাকি রাজনৈতিক বিবেচনায় হাইকোর্টের বিচারপতি পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। যদিও বাবু সিনহাকে আক্রমণ করার জন্য কামরুল ইসলাম এই কথা বলেছেন, কিন্তু খাদ্যমন্ত্রী কি জানেন যে; তিনি এ কথার মাধ্যমে জানিয়ে দিলেন যে, বর্তমান সরকার রাজনৈতিক বিবেচনায় বিচারপতি নিয়োগ দেয়।
১৭ আগস্টের ওই প্রেস কনফারেন্সে তিনি আইনের যত অপব্যাখ্যা দিয়েছেন, তার প্রত্যেকটি পয়েন্ট নিয়ে তাকে ধোলাই দেয়া যেত। কিন্তু এই ভাষ্যের কলেবর বৃদ্ধি পাবে বলে আমরা ওই প্রসঙ্গে আর যাব না। তবে ওই সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন যে, সংসদ এবং গণতন্ত্র সম্পর্কে বিচার বিভাগের নাকি কথা বলার এখতিয়ার নেই। তাই যদি হয় তাহলে তিনি পঞ্চম সংশোধনীর অধীনে গঠিত পার্লামেন্টের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বাতিল করেন কিভাবে? আসলে এটি হলো, ‘নিজের বেলায় আঁটি-শুটি পরের বেলায় দাঁত কপাটি’।
সুপ্রিম কোর্টের বিরুদ্ধে বিষোদগারের বন্যা
প্রথমে হাইকোর্ট যখন ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে, তখন জাতীয় সংসদে প্রধান বিচারপতি থেকে শুরু করে বিচারপতিগণকে পাইকারি হারে তুলাধুনা করা হয়। এরপর যখন সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের রায়কে বহাল রাখে, তখন মনে হয় যে ক্ষোভের বারুদাগারে জ্বলন্ত দিয়াশলাইয়ের কাঠি নিক্ষেপ করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতিসহ ওই সাত বিচারপতির প্রচন্ড সমালোচনায় মাঠে নামেন আওয়ামী লীগের সমস্ত সিনিয়র নেতা। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুুল মুহিত, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ, গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম প্রমুখ। এর পর মাঠে নামলেন এ বি এম খায়রুল হক এবং আইন সচিব জহিরুল হক।
চিফ জাস্টিসের বাসায় দলীয় নেতা কেন?
একটি খবর রাজনৈতিক মহলে এবং আংশিকভাবে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার বন্যা ছুটিয়েছে। সেটি হলো, প্রধান বিচারপতির সাথে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বৈঠক। সেতুমন্ত্রী স্বীকার করেছেন যে, প্রধান বিচারপতির সাথে তিনি ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের অবস্থান জানিয়েছেন। তিনি আরো বলেন যে, চিফ জাস্টিসের বাসভবনে আসার আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তিনি প্রধানমন্ত্রীর বার্তা নিয়ে প্রধান বিচারপতির কাছে গিয়েছিলেন। তিনি আরো জানান যে, আলোচনা আরো চলবে।
বঙ্গভবনে বৈঠক
এরপর জন্মাষ্টমীর দিনে বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদের সাথে আওয়ামী লীগের এবং সরকারের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের বৈঠক হয়। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের জেনারেল সেক্রেটারি ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা বিনিময় করার জন্য প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাও বঙ্গভবনে ছিলেন। কিন্তু তিনি সেখানে প্রেসিডেন্টের সাথে কোনো বৈঠক করেননি। এদিকে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের ব্যাপক তৎপরতার কারণে বাতাসে নানা ধরনের গুজব ভেসে বেড়াচ্ছে। উত্তর ভারতের একটি বহুল প্রচারিত পত্রিকার নাম ‘যুগশঙ্খ’। গত ১৮ আগস্ট শুক্রবার যুবশঙ্খ এক রিপোর্টে বলেছে যে, সরকার নাকি প্রধান বিচারপতিকে অপসারণের চেষ্টা করছে। কিন্তু যুবশঙ্খ জানিয়েছে যে, চাইলেও প্রধান বিচারপতিকে অপসারণ করা অথবা ইমপিচ (অভিশংসন) করার ক্ষমতা প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী কারো নেই। যুবশঙ্খের ওই রিপোর্টে আরো অনেক কথা বলা হয়েছে।
এসব ঘটনাবলির প্রেক্ষিতে দেশপ্রেমিক মহল মনে করেন যে, একদিকে বিচার বিভাগ এবং অন্যদিকে সংসদ ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যকার এই টানাপড়েনের অবসান হওয়া উচিত। এটি যত তাড়াতাড়ি হয়, ততই সবার জন্য মঙ্গল। অন্যথায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

 


Show all comments
  • সাইফুল ইসলাম সপণ ২১ আগস্ট, ২০১৭, ১০:৩৯ এএম says : 0
    অনেক দিন পর আপনার লেখা পড়লাম। খুব ভালো লাগলো
    Total Reply(0) Reply
  • Md Shahzaman Khan ২১ আগস্ট, ২০১৭, ১১:৫৪ এএম says : 0
    লেখাটা খুবই যৌক্তিক ও দিকনির্দেশনামুলক। সংশ্লিষ্ট সকলকে পড়ার অনুরোধ রইলো
    Total Reply(0) Reply
  • আজিজ ২১ আগস্ট, ২০১৭, ১১:৪৬ এএম says : 0
    পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো নজির নাই যে, একজন সাবেক প্রধান বিচারপতি বর্তমান প্রধান বিচারপতি বা সিটিং চিফ জাস্টিসকে জ্ঞান দানের জন্য নসিহত করেন।
    Total Reply(0) Reply
  • তারেক মাহমুদ ২১ আগস্ট, ২০১৭, ১১:৪৭ এএম says : 0
    একদিকে বিচার বিভাগ এবং অন্যদিকে সংসদ ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যকার এই টানাপড়েনের অবসান হওয়া উচিত। এটি যত তাড়াতাড়ি হয়, ততই সবার জন্য মঙ্গল।
    Total Reply(0) Reply
  • সাইফুল ২১ আগস্ট, ২০১৭, ১১:৫৪ এএম says : 0
    আমরা দেশে আর কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি দেখতে চাই না।
    Total Reply(0) Reply
  • মালেক ২১ আগস্ট, ২০১৭, ১১:৫৬ এএম says : 0
    সমালোকদের বলছি দয়া করে আপনারা আপনাদের সীমা অতিক্রম করবেন না।
    Total Reply(0) Reply
  • নিজাম ২১ আগস্ট, ২০১৭, ১১:৫৭ এএম says : 0
    দেশে এখন যা হচ্ছে তা কারোই কাম্য নয়
    Total Reply(0) Reply
  • Ali Akbar ২১ আগস্ট, ২০১৭, ১১:৫৭ এএম says : 0
    amar mote sokoler uchit adaloter ray mene nea
    Total Reply(0) Reply
  • রিপন ২১ আগস্ট, ২০১৭, ১১:৫৯ এএম says : 0
    উচ্চ আদালত ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে টানাপড়েন দেশের জন্য অশুভ আলামত
    Total Reply(0) Reply
  • Bulbul Ahamad ২১ আগস্ট, ২০১৭, ১২:০২ পিএম says : 0
    Ya Allah plz save our country
    Total Reply(0) Reply
  • SAIFUL ২১ আগস্ট, ২০১৭, ৯:০০ পিএম says : 0
    Sabak Bisar Pothi Khairul Hoq tar sima otikrom kora paltasa ja motao kammo noy,Bortoman Bisar pothika oddasso kora ato comments korar kono noitik odikar tar nai..
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর