Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৫ আশ্বিন ১৪২৪, ২৮ যিলহজ ১৪৩৮ হিজরী
শিরোনাম

ভারত-বাংলাদেশ রেল ট্রানজিট প্রস্তাব

চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করতে চায় ভারত

| প্রকাশের সময় : ২২ আগস্ট, ২০১৭, ১২:০০ এএম | আপডেট : ১০:৫৫ পিএম, ২১ আগস্ট, ২০১৭

মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, ছাগলনাইয়া (ফেনী) থেকে : ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের বিলোনিয়া থেকে ফেনী পর্যন্ত প্রস্তাবিত রেললাইন সংযোগ কাজ শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে। ইতিমধ্যে ভারতের অংশে কাজ শুরু করে দিয়েছে ভারত সরকার। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার প্রস্তাবিত রেললাইনের সমীক্ষার জন্য ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় অর্থ অনুমোদন দিয়েছে। গত শুক্রবার ভারতের রাজ্য মহাকরন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে ভারতের ত্রিপুরা থেকে প্রকাশিত একাধিক দৈনিক পত্রিকা সংবাদ শিরোনাম করেছে।ভারতের বিলোনিয়া প্রেসক্লাবের শিবরাজ চক্রবর্তী নামের এক সাংবাদিক জানান, আগরতা সাব্রুম রেললাইন যাচ্ছে ভারতের বিলোনিয়া হয়ে বাংলাদেশের পরশুরাম হয়ে ফেনী পর্যন্ত। যার দূরত্ব ২৫ কিলোমিটার। ফেনী পর্যন্ত ভারতীয় অর্থেই রেললাইন স্থাপন হচ্ছে বলে জানিয়েছে ত্রিপুরার শাসক। ভারতের অংশে কাজ শুরু হলেও বাংলাদেশের অংশে কোন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। ভারত-ফেনী সীমান্তে বিলোনিয়া স্থলবন্দরের পর এবার বিলোনিয়ায় রেল ট্রানজিট করতে যাচ্ছে ভারত। সম্প্রতি ভারত-বাংলাদেশ আন্তঃদেশীয় রেলওয়ে সংযোগ কমিটির বৈঠকে ফেনী বিলোনিয়া রেল রুটটি সংস্কার ও পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে ভারত এ সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে আগামী ২৮ আগস্ট ঢাকায় বাংলাদেশ ভারত উভয় দেশের যৌথ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ভারতের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিবেন ভারতের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব সমর জিৎ ভৌমিক। তবে বাংলাদেশের পক্ষে কে নেতৃত্ব দেবেন তা স্থানীয় প্রশাসন অবহিত নন। ওই বৈঠকে আগরতলা-আখাউড়া বিলোনিয়া-ফেনী রেল সংযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও সমঝোতা চুক্তি হবে বলে ভারতীয় গনমাধ্যম সুত্র নিশ্চিত করেছে। ভারতের বিলোনিয়ায় কর্মরত এক সাংবাদিক ও ত্রিপুরার গনমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আগরতলা, আখাউড়া ও বিলোনিয়া ইতিমধ্যে রেললাইন স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহন কাজ শুরু হয়েছে। জানা গেছে, আগরতলা ষ্টেশন থেকে বাংলাদেশের বিলোনিয়া সীমান্ত পর্যন্ত মোট ৬৭ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। ইতিমধ্যে ৪০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। জমির মালিকদের এই পর্যন্ত ২২ কোটি টাকা ক্ষতিপুরন পরিশোধ করা হয়েছে। ত্রিপুরার জেলা প্রশাসন আগামী সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে অধিগ্রহণকৃত জমি রেল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করবে। ভারতের বিলোনিয়া থেকে প্রকাশিত পত্রিকার প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ রয়েছে। ত্রিপুরার জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, আগরতলা আখাউড়া ষ্টেশানের দূরত্ব ১৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৫ কিলোমিটার ত্রিপুরা অংশে এই রেল সংযোগ স্থাপন হলে আশুগঞ্জ পোর্ট ও চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে আদান-প্রদান সহজ হবে। ভারতের ভাষ্য মতে, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে রেলপথে ফেনী হয়ে ভারতের সমগ্র উত্তর পূর্বাঞ্চলে পৌঁছানো সম্ভব হবে। ভারত বিলোনিয়া-ফেনী রেললাইন সংযোগের কাজ শুরু করেছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যম ও ত্রিপুরা সরকারী দপ্তর থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বিলোনিয়া স্থল বন্দর শ্রমিক কল্যান সমিতির সভাপতি মো: ইব্রাহিম জানিয়েছেন, বাংলাদেশের অংশে রেললাইন সংযোগ স্থাপনের জন্য ভারতে ইতিমধ্যে কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ভুটান ও চীন পরিবেষ্টিত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোয় চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য পরিবহন সহজ করার লক্ষে আখাউড়া-আগরতলার বিকল্প হিসেবে এ রেল রুট ব্যবহার করতে চায় ভারত। জানা গেছে, লোকসানের মুখে বন্ধ হওয়া ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। আটটি স্টেশনের অবকাঠামো, দরজা, জানালা, প্রভৃতি মালপত্রসহ সব অস্থাবর স¤পত্তি চুরি ও জবর দখল হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক জায়গা থেকে ইতোমধ্যেই লাইন, স্লিপার, স্টেশনের দরজা, জানালা প্রভৃতি স¤পদ চুরি হয়ে গেছে। এসব ঘটনায় ফেনীর রেলপথ পরিদর্শকের কার্যালয় থেকে বিগত বছরগুলোতে লাকসাম জিআরপি থানাসহ সংশ্লিষ্ট থানায় অন্তত আটটি চুরির মামলা হলেও রক্ষা করা যাচ্ছে না এসব মূল্যবান স¤পত্তি। পরিত্যক্ত রেলস্টেশনগুলোতে প্রতিনিয়ত বসছে মাদকের বেচাকেনা আর বখাটেদের আড্ডা। ১৯২৯ সালে নির্মিত ২৭ কিলোমিটারের এই রেলপথে বন্ধুয়ার দৌলতপুর, আনন্দপুর, মুন্সির হাটের পীরবক্স, নতুন মুন্সির হাট, ফুলগাজী, চিথলিয়া, পরশুরাম ও বিলোনিয়া নামে আটটি স্টেশন স্থাপন করা হয়েছিল। “এক সময় রেলপথটি ছিল এলাকার শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অর্থনৈতিক উন্নয়নের একমাত্র যোগাযোগমাধ্যম। স্বাধীনতার পর এর পাশে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। ধীরে ধীরে রেলের যাত্রী ও আয় কমতে থাকে। রেল যোগাযোগের সম্ভাবনা আছে বিলোনিয়া দিয়ে ফেনীর বিলোনিয়া সীমান্ত দিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের রেল যোগাযোগের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। একই সঙ্গে শুধু আশুগঞ্জ নয়, ঢাকার আশপাশের সব বন্দর ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করা হবে বলে তিনি জানান। সম্প্রতি ত্রিপুরায় সাংবাদিকদের হর্ষবর্ধন জানান, ত্রিপুরা ও বাংলাদেশের মধ্যে অনেক বড় কিছু হতে চলেছে। এসবের মধ্যে ফেনী সেতু, সড়ক ও রেল যোগাযোগ, ট্রান্সশিপমেন্ট, সীমান্ত সমস্যা সমাধান, সীমান্ত এলাকার পরিকাঠামো উন্নয়ন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা বিভিন্ন বন্দর ব্যবহারের সুযোগ, বাংলাদেশকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। ফেনী চেম্বার অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক প্রেসিডেন্ট আইনুল কবির শামীম বলেন, পরশুরামে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিলোনিয়া অংশে বিলোনিয়া স্থলবন্দর রয়েছে। এ বন্দর দিয়ে নিয়মিত বিভিন্ন জিনিসপত্র রপ্তানিও হচ্ছে। ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথটি পুনরায় চালু হলে যাতায়াত ব্যবস্থার সুবিধা বাড়ার পাশাপাশি ভারতের ত্রিপুরার সাথে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়বে। এতে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন বলেও জানান তিনি।

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর