Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭, ০৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
শিরোনাম

সব সরকারের আমলেই আমাকে টার্গেট করা হয়েছে -প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২২ আগস্ট, ২০১৭, ১২:০০ এএম

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সব সরকারের আমলেই আমাকে টার্গেট করে বোমা, গ্রেনেড হামলাএবং গুলির ঘটনা ঘটেছে।
আলোচনার একপর্যায়ে পানি সম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, ওনাদের (এরাশাদ সরকারে আমলে ) আমলেও চট্টগ্রামে জনসভায় গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছিল এবং ওই ঘটনায় বেশ কয়েকজন নিহত হন।
সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকের পর এক অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় তিনি একথা বলেন। মন্ত্রিপরিষদের একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১ আগস্টের আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেছিলেন, আরেকটি ১৫ আগস্টের ঘটনা ঘটবে। একথা বলার কিছুদিন পরই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। ২০০৪ সালের একুশে অগাস্টে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় শোক ও নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণ করেছে মন্ত্রিসভা। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) এন এম জিয়াউল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। সচিব বলেন, মন্ত্রিসভা বৈঠকে একুশে অগাস্ট নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং একটি শোক প্রস্তাব ও নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ শোক প্রাবের বিস্তারিত তৈরি করছে। ২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে দলীয় কার্যালয়ের সামনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত এবং কয়েকশ মানুষ আহত হন। সন্ত্রাস বিরোধী ওই সমাবেশে প্রধান অতিথি শেখ হাসিনার বক্তব্য শেষ হওয়া মাত্র গ্রেনেড হামলা ও গুলি শুরু হয়। এতে অল্পের জন্য শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও গ্রেনেডের প্রচন্ড শব্দে তার শ্রবণশক্তি নষ্ট হয়।
ইনকাম ট্যাক্স আইন ফেরত : ২১ আগস্টের ঘটনায় মন্ত্রিসভায় শোক ও নিন্দা প্রস্তাব গৃহীত
২০০৪ সালের একুশে আগস্টে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় শোক ও নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণ করেছে মন্ত্রিসভা। এছাড়া দ্য ইনকাম ট্যাক্স অ্যাক্ট ২০১৭ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন না দিয়ে তা আরও পর্যালোচনার জন্য ফেরত পাঠিয়েছে সরকার। গতকাল সোমবার রাজধানীর তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ শোক ও নিন্দা প্রস্তাব গৃহীত হয়।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) এনএম জিয়াউল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। সচিব বলেন, মন্ত্রিসভা বৈঠকে একুশে আগস্ট নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং একটি শোক প্রস্তাব ও নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ শোক প্রস্তাবের বিস্তারিত তৈরি করছে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে দলীয় কার্যালয়ের সামনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও মরহুম প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত এবং কয়েকশ’ মানুষ আহত হন। সন্ত্রাসবিরোধী ওই সমাবেশে প্রধান অতিথি শেখ হাসিনার বক্তব্য শেষ হওয়া মাত্র গ্রেনেড হামলা ও গুলি শুরু হয়। এতে অল্পের জন্য শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও গ্রেনেডের প্রচন্ড শব্দে তার শ্রবণশক্তি নষ্ট হয়।
দ্য ইনকাম ট্যাক্স অ্যাক্ট ২০১৭’ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন না দিয়ে তা আরও পর্যালোচনার জন্য ফেরত পাঠিয়েছে মন্ত্রিসভা। জিয়াউল আলম বলেন, প্রস্তাবটি আজকের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আলোচনা শেষে বিষয়টি বিস্তারিত পর্যালোচনাপূর্বক পরবর্তী যে কোনো বৈঠকে উপস্থাপন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। মন্ত্রিসভা কোন কোন বিষয়ে পর্যালোচনা করতে বলেছে সে বিষয়ে কিছু না জানিয়ে তিনি বলেন, কিছু পর্যবেক্ষণ আছে। তবে মন্ত্রিসভা কি পর্যবেক্ষণ দিয়েছে তাও বলেননি তিনি যেহেতু পর্যালোচনা করার জন্য বলা হয়েছে, পর্যালোচনার পরে এটা বলা যাবে। সব বিষয়ই পর্যালোচনা করার জন্য বলা হয়েছে। অর্ডিন্যান্স থেকে ইনকাম ট্যাক্স আইন করা হচ্ছে। জিয়াউল আলম বলেন, ঈদসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে সরকারি ছুটি বাড়ানোর বিষয়টি মন্ত্রিসভা বৈঠকের এজেন্ডায় না থাকায় এ বিষয়ে কোনো আলোচনায় হয়নি। সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়াতে আন্তর্জাতিক একটি জোটের যুক্ত হওয়ার কাঠামোগত একটি চুক্তিতে অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ। সচিব জানান, ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্ট অন দ্য এস্টাবিøশমেন্ট অব দ্য ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স শীর্ষক প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত দিয়েছে। সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়াতে আন্তর্জাতিক এই জোট নিজেদের সদস্য দেশগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে এবং যেকোনও ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে যেকোনও উদ্যোগ গ্রহণ করবে। সমমনা কয়েকটি রাষ্ট্র মিলে এই অ্যালায়েন্স গঠিত হবে। বাংলাদেশ এই অ্যালায়েন্সের অন্তর্ভুক্ত হতে আগ্রহী বলেই এটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জিয়াউল আলম বলেন, আন্তর্জাতিক জোট বা অ্যালায়েন্সের সুনির্দিষ্ট সাংগঠনিক কাঠামো থাকবে। এই কাঠামোর আওতায় একটি অ্যাসেম্বলি ও একটি সচিবালয় থাকবে। অ্যালায়েন্সের সদস্য দেশগুলো এই অ্যাসেম্বলির সদস্য হবে। জোটের যেকোনও সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে ভোটে। আর জোট সচিবালয়ের কাজ হবে এর গৃহীত সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন। সচিব বলেন, অ্যালায়েন্সে থাকতে হলে এর সদস্য দেশগুলোকে কোনও চাঁদা দিতে হবে না। তবে যেকোনও সদস্য রাষ্ট্র চাইলে অনুদান দিতে পারবে। এছাড়া, কোনও রাষ্ট্র অ্যালায়েন্স ছেড়ে যেতে চাইলে তিন মাসের নোটিশে সদস্যপদ প্রত্যাহার করতে পারবে।

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর