Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১, ১৩ শ্রাবণ ১৪২৮, ১৭ যিলহজ ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

রাজধানীর যত্রতত্র গরুর হাট : যানজটে নাকাল নগরবাসী

সায়ীদ আবদুল মালিক : | প্রকাশের সময় : ৩০ আগস্ট, ২০১৭, ১২:০০ এএম

যানজটে অচল ঢাকা। এক থেকে দেড় কিলোমিটার রাস্তা পার হতেই সময় লাগছে দুই থেকে তিন ঘণ্টারও বেশি। এতে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হবে শুক্রবার থেকে। ইতোমধ্যে ঈদের আনন্দ আপনজনদের নিয়ে উপভোগ করতে অনেকেই ছুটছেন নাড়ির টানে। এছাড়া কোরবানির অস্থায়ী হাটে স্রোতধারে পশু আসার কারণে সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। যা দুপুরের পরে চরম আকার ধারণ করে। দিনভর রাজধানীর প্রায় সব রাস্তায় যানবাহনের লম্বা লাইন দেখা গেছে। সকালে বিভিন্ন অফিস আদালতগামী ও বিকালে অফিস ফেরৎ মানুষ ও নানা প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হয়েই নগরবাসীকে পড়তে হয়েছে চরম দুর্ভোগে। সময়মত যানবাহ পাওয়া যায়নি। মাঝে মধ্যে দু’য়েকটি পাওয়া গেলেও দিতে হয়েছে অতিরিক্ত ভাড়া। বাধ্য হয়ে পায়ে হেঁটেই অনেককে যেতে হয়েছে নিজ নিজ গন্তব্যে।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাসা বাড়ি ও দোকানের সামনেসহ অলিগলিতে বসানো হয়েছে কোরবানির পশুর অস্থায়ী হাট। সিটি কর্পোরেশন থেকে বরাদ্দ নেওয়া ইজারাদাররা নির্ধারিত এলাকা অতিক্রম করে এসব হাট বসিয়েছেন। যে কারণে অসহনিয় যানজটে পড়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছাত্রীদের পড়তে হয়েছে চরম দুর্ভোগে। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা থাকার কারণে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদেরকে এ দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এনিয়ে অনেকেই শিক্ষা মন্ত্রীর উপর বিরক্ত হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যদি আরও দু’য়েক দিন আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হতো তাহলে কোমলমতি শিশুদের এতো দুর্ভোগ পোহাতে হতো না।
মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন, গুলিস্তান, প্রেসক্লাব, মৎসভবনের মোড়, শাহবাগ, রূপসী বাংলার মোড়, বাংলামোটর, কারওয়ানবাজার, ফার্মগেট ঘুরে দেখা যায় ভয়াবহ যানজটের চিত্র। গাড়ির চালক, যাত্রী ও সার্জেন্টের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক যানজট অচল হয়ে পড়ে। স্বাভাবিক দিনে যে রাস্তা ১০ মিনিটে যাওয়ার কথা সেখানে গতকাল লেগছে এক ঘণ্টা থেকে তিন ঘণ্টা।
ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘœ করতে ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে বিআরটিএ’র ভিজিলেন্স টিমের কার্যক্রম পরিদর্শনে এসে গতকাল মঙ্গলবার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, রাজধানীর যানজট নিরসনের দায়িত্ব আমার না, দুই সিটি কর্পোরেশনের। এর পরেও আমি দুই মেয়রের সঙ্গে কথা বলেছি এবং আবারও বলাবো। রাস্তা যানজটের কারণ হবে না বলে গণমাধ্যম কর্মীদের এ সময় আশ্বস্ত করেন তিনি।
সিএনজি ড্রাইভার খোকনের সাথে কথা হয় হাইকোর্টের সামনের রাস্তায়। তিনি আসছেন মহাখালী থেকে। খোকন বলেন, আজকের (গতকালের) মতো যানজট এ বছর আর দেখিনাই, মহাখালী থেকে এখানে আসতে আমার সময় লেগেছে প্রায় দুই ঘণ্টা। প্রতিটি সিগন্যালেই প্রচন্ড যানজট ঠেলে এ পর্যন্ত আসতে হয়েছে।
বাইকে করে সালেক আসছেন মোহাম্মদপুর থেকে। মিন্টো রোডে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, পেছনে তেমন যানজট না থাকলেও বাংলামোটর থেকে তার প্রায় আধাঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে।
ট্রাস্ট ট্রান্সপোর্টের যাত্রি প্রিন্স জানান, মিরপুর থেকে মৎস ভবন পর্যন্ত আসতে তার প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লেগেছে। প্রিন্স বলেন, আজকের যানজট তীব্র মনে হচ্ছে, এই রাস্তাটুকু আসতে আমার প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগলো। এখন দেখি গাড়ি বন্ধ হয়ে বসে আছে, যাওয়ার কোনো নামই নেই।
এদিকে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের কাজ ধীর গতিতে চলায় ওই পথে চলাচল করা যানবাহনকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়। নগরবাসীর এ ভোগন্তির শেষ কোথায় কেউ জানেনা। গাবতলী, এয়ারপোর্ট রোড দিয়ে ঢাকায় পবেশের সময় তীব্র যানজটে পড়ে হাজার হাজার যানবাহন। মহাখালী, মগবাজার, মালিবাগ এলাকায়ও একই অবস্থা। রামপুরা, কাকরাইল, বাড্ডা লিংক রোড, বনানীসহ বিভিন্ন সড়কের প্রতিটি পয়েন্টে ছিলো তীব্র যানজট। গাড়ির সারিও ছিলো দীর্ঘ।
ভুক্তভোগী পথচারীরা বলছেন, মঙ্গলবার সকাল থেকেই যানজট ছিলো। তবে সকাল সোয়া ১০টার পর থেকে এ জট আরও দীর্ঘ হতে থাকে। যা বিকেলর দিকে আরও তিব্র আকার ধারণ করে।
বাড্ডা-নতুন বাজার সড়কে কথা হয় মামুন নামের এক পথচারির সাথে। তিনি বলেন, সকালে হাতিরঝিল এলাকা থেকে বের হয়ে প্রতিটি রাস্তাই তীব্র যানজট দেখতে পাই। কুড়িল বিশ্ব রোড থেকে নতুন বাজার, নর্দা হয়ে বাড্ডা পর্যন্ত রাস্তায় গাড়ি চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে আছে।
একই অবস্থা রামপুরা রোডেরও। দীর্ঘক্ষণ গাড়ি থেমে থাকতে দেখা যায়। শাহবাগ মোড়ে তো যেন গাড়ি চলছেই না। পোস্তগোলা থেকে উত্তরার দিয়াবাড়িগামী রাইদা পরিবহনের যাত্রী আবদুল আলী বলেন, রামপুরা ব্রিজ থেকে নতুন বাজার পর্যন্ত আসতেই লেগেছে এক ঘণ্টা ১০ মিনিট সময়।
কাকরাইল থেকে ধানমন্ডি এলাকায় যেতে দেড় থেকে দুইঘণ্টা লেগে যায়। কাকরাইল থেকে ধানমন্ডি এলাকায় যেতে অন্যান্য দিন ২০ থেকে ২৫ মিনিট লাগলেও জটের কারণে গতকাল চারগুণ সময় লাগছে। শুধু এ সড়কেই নয়, যানজট ছিলো মিরপুর ১, ২, ১০ নম্বর কালশী এলাকাতেও গাড়ি চলছে ধীরগতিতে। মিরপুর-১ নম্বর থেকে কুড়িল বিশ্বরোডে আসতেও প্রতিটি গাড়িকে জটে পড়তে হয়েছে।
নগরীর ব্যস্ত সড়কগুলোর মতোই যানজটে স্থবির হয়ে পড়েছিল জনজীবনও। যাত্রাবাড়ি-টঙ্গী রুটে চলাচলকারী ছালছাবিল পরিবহনের যাত্রী একটি বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন অলি জানান, আধ ঘণ্টার পথ যদি ৩ ঘণ্টা ব্যয় হয়, তাহলে মানুষ সারাদিন কাজকর্ম করবে কিভাবে? সাতরাস্তার মোড় দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আবুল হোসেন সরদার। তিনি বলেন, এদেশ চলাচলের অযোগ্য হয়ে গেছে। যাওয়ার পথে ১৬০ টাকা রিকশা ভাড়া দিয়ে মতিঝিল গিয়েছি। এখন ফেরার সময় যানজটের কারণে গাড়িতে উঠে রাস্তায় বসে থাকতে আর ইচ্ছা হলো না। তাই বাধ্য হয়ে দিলকুশা থেকে পায়ে হেঁটে বনানী যাচ্ছি। এই ভোগান্তি শুধু আবুল হোসেন সরদারের নয়।
গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতকারী অধিকাংশ লোকজনকেই এই ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দিয়ে হেঁটে ধানমন্ডি যাচ্ছিলেন মতিঝিলের একটি বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তা মোহাম্মদ এয়াছিন হাওলাদার। তিনি বলেন, দিলকুশা থেকে বাসে উঠে গুলিস্তান আসতে সময় লেগেছে এক ঘণ্টা। অথচ এই পথ হেঁটে আসতে সময় লাগে ১০ মিনিট। তাই সময় বাঁচাতে হেঁটেই যাচ্ছি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: যানজট

১৯ জুলাই, ২০২১
১৮ জুলাই, ২০২১

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ