Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ০৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

ডায়াবেটিস এবং যক্ষ্মা

| প্রকাশের সময় : ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

ডায়াবেটিস আমাদের দেশে খুব পরিচিত এক অসুখ। এখন প্রায় প্রতি ঘরে ঘরে ডায়াবেটিস । বাংলাদেশে য²ারও অনেক রোগী দেখা যায় । ডায়াবেটিস ও য²া দুটিই জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা। কায়িক পরিশ্রম না করা, খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, বংশগত ও অন্যান্য নানা কারণে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস আরও বাড়বে । অন্যদিকে য²া একটি জীবাণুঘটিত রোগ।এক ধরণের ব্যকটেরিয়া দিয়ে রোগটি হয়। নাম মাইকোব্যকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিস। পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়ার পরও য²া রোগ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি।প্রতিদিনই য²া রোগে কেউ না কেউ আক্রান্ত হচ্ছে এবং কেউ না কেউ মারা যাচ্ছে। 

সা¤প্রতিককালে বিশ্বব্যাপী য²া রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে গেছে। এর জন্য বিভিন্ন কারণ দায়ী । ডায়াবেটিস হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় । রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে য²ার জীবাণু আক্রমণ করে বসে।ডায়াবেটিস য²ার ঝুঁকি তিন গুণ বাড়িয়ে দেয়। সাধারণ মানুষের চেয়ে ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে য²ার প্রকোপ অনেক বেশি। ডায়াবেটিস য²ার চিকিৎসাকে অকার্যকর করতে পারে। আবার য²া ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বাধা সৃষ্টি করে। ডায়াবেটিস একটি এমন রোগ, যা দ্বারা শরীরের বেশিরভাগ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আবার য²া রোগও অনেক সময় শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসার সময় অতিরিক্ত সাবধানতা দরকার হয়।
য²া ও ডায়াবেটিস একসাথে থাকলে নানা রকম সমস্যা হয়। কোনো রোগীর য²ার ফলে বুকে বা পেটে পানি জমলে তাকে য²া রোগের ওষুধের সঙ্গে স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ দিতে হয়, যা রক্তে শর্করার বা চিনিরপরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। এ ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য স্বাভাবিক প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ইনসুলিন প্রয়োজন হতে পারে। আবার যেসব ডায়াবেটিস রোগী দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসে ভুগছেন তাদের বেলায় কিডনির কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। ক্রনিক কিডনি ডিজিজ হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে যেসব য²ার ওষুধ কিডনি দ্বারা শরীর থেকে নির্গমন হয়, সেগুলোর মাত্রা কমিয়ে দিতে হতে পারে।কিডনি ডিজিজ থাকলে আবার ইনসুলিন কম দিতে হয়। সেক্ষেত্রে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হয়।
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা অনেক কমে যায়। সে কারণে তার য²ার জীবাণুতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। দুটিই বিপদজনক রোগ। কোন ব্যক্তির ডায়াবেটিস যদি নিয়ন্ত্রণে না থাকে, তাহলে য²ার ওষুধ তার শরীরে ঠিকমতো কাজ করে না। আবার য²ার ওষুধ কিছু ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসের ওষুধের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। দক্ষ চিকিৎসকের অধীনে তাই এসব রোগীর চিকিৎসা করতে হয়।
ডায়াবেটিস এবং য²া দুটি রোগই অত্যন্ত ক্ষতিকর।ডায়াবেটিস চিরজীবনের অসুখ ।য²া আবার ছয় থেকে নয় মাস ওষুধ খেলে সম্পূর্ণ ভাল হয়ে যায় । তবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ না করা হলে য²া রোগের সঠিক চিকিৎসা কোনভাবেই সম্ভব নয়। এ দুই রোগে একসাথে আক্রান্ত হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। সঠিক চিকিৎসা নিতে হবে। তাহলেই ভালো থাকা সম্ভব হবে।

ষ ডাঃ মোঃ ফজলুল কবির পাভেল



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর