Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

বৃহত্তর খুলনাঞ্চলে সীমান্তের ১৬ রুটে আসছে মশলা মাদক শাড়ি কাপড়

| প্রকাশের সময় : ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

আবু হেনা মুক্তি : বৃহত্তর খুলনাঞ্চলের ভারতীয় সীমান্তের চিহ্নিত ১৬টি রুট দিয়ে আসছে মশলা মাদক দ্রব্য আর শাড়ী কাপড়। এবার চোরাই পথে কিছু গরুও আসতে শুরু করেছে। তাই ভারতীয় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নজর গরুর দিকে। চোরাচালান সিন্ডিকেট চক্র সেই সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছে। দিনে রাতে ট্রাকে-ট্রেনে, বাসে, পিকআপে ভারতীয় পণ্য ঢুকছে সর্বত্র। খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার বিপনী বিতানগুলোতে এখন শেষ মুহুর্তে ভারতীয় পণ্যে ছয়লাব। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাই পথে আনা জিরা, গরম মশলা, আদা, রসুন স্থল বন্দরের কাছ থেকে পরিবহন হলেও এ যেন দেখার কেউ নেই। ঈদের বিশেষ চমক যুব সমাজের হাতে পৌছে যাচ্ছে ফেনসিডিল আর ইয়াবা। খুলনা বেনাপোল কমিউটার ট্রেন দিয়ে প্রতিদিন সকাল বিকাল চোরাকারবারীরা চকলেট সামগ্রী, চিপস, হরলিক্স আর কসমেটিক্স, থ্রিপিচ, জুতা প্রসাধনী আনছে প্রতিনিয়ত।
অপরদিকে, সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে খুলনা ও সীমান্ত অঞ্চলের চোরাচালান সিন্ডিকেট প্রতিনিয়ত শাড়ি কাপড় ও মাদকদ্রব্য চোরাচালান করছে। জানা গেছে, পুলিশের কতিপয় কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে চলছে এই বানিজ্য। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করে একটি চক্র একের পর এক কালোবাজারী করলেও কেন তাদের আইনে সোপার্দ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা যাচ্ছে না তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। বর্তমান সরকার চোরাচালান রোধে অত্যন্ত আন্তরিক। অথচ ফাঁক ফোকর দিয়ে প্রতিনিয়ত খুলনাঞ্চলে চোরাচালান চলছে। সামান্য কিছু অর্থের বিনিময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কতিপয় সদস্য বেমালুম চেপে যাচ্ছে। বøাকিং রুট ওপেন করে দিচ্ছে।
সূত্রমতে, এবার ঈদুল ফিতরের পরে স্থল পথে স্মাগলিং কিছুটা কম হয়। তবে সারা বছর নৌ পথে সক্রিয় থাকে। কিন্তু সর্বনাশা ফেনসিডিল আর ইয়াবা গাজার চালান সারাবছরই অপ্রতিরোধ্য। র‌্যাব পুলিশ কোষ্টগার্ড বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে স্মাগলিং পণ্য আটক করলেও ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে চোরাকারবারীরা মরিয়া হয়ে উঠেছে। দফায় দফায় অভিযান ও উদ্ধার স্বত্তেও শাড়ী কাপড় মশলা ও মাদক চোরাচালান কোনভাবেই রোধ করা যাচ্ছেনা। নানা কলা কৌশলে ভিন্ন ভিন্ন রুটে চোরাচালান চলছেই। অভিযানের কারণে সুচতুর চোরাকারবারীরা প্রতিনিয়ত রুট পরিবর্তন করছে। কিন্তু গোয়েন্দারাও সজাগ। তাই কখনও তিন কোটি আবার কখনও সাত কোটি টাকার মাল ধরা পড়ার পরেও চোরাকারবারীরা বেসামাল। তাদের কর্মকান্ড থেমে থাকছেনা। সাতক্ষীরা সীমান্তের ১৬টি রুট দিয়ে নিয়মিত খুলনাঞ্চলে ভারতীয় শাড়ি, থ্রিপিচ ও কাপড় চোপড় এবং গরম মসলা সহ বিভিন্ন মালামাল আসছে। নগরীর বিপনী বিতানগুলোতে ভারতীয় শাড়ি কাপড় আর মসলায় সয়লাব। অসাধু ব্যবসায়ীদের ষ্টকে রয়েছে কোটি কোটি টাকার চোরাচালানী পণ্য। অপরদিকে ঈদকে সামনে রেখেই কথিত ফিলিংসের জন্য ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাজা, হেরোইন আর বাংলা মদ ঢুকছে। রাজনৈতিক আশ্রয়ে ভদ্র বেশি কালোবাজারীরা এখন কোটি টাকার মালিক। অথচ মাদকের থাবায় যুব স¤প্রদায় এখন চরম বিপথগামী। সকল অপরাধ কর্মকান্ডের মূল মন্ত্রই হচ্ছে মাদক। হত্যা, ধর্ষন, চাঁদাবাজি দস্যুতা সহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডের পেছনে মাদকের কানেকশন রয়েছে।
সূত্রমতে, সা¤প্রতিককালে খুলনাসহ তৎসংলগ্ন এলাকায় অবৈধ ভারতীয় কাপড়ের চোরাচালানী বৃদ্ধি পাওয়ায় বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা এলাকাসমূহে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন কর্তৃক টহল জোরদার করা হয়েছে। চলছে র‌্যাবের টহল। কিন্তু পবিত্র ঈদ উপলক্ষে চোরাচালানীর আনাগোনা ও কার্যক্রম তুলনামূলক বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের অপারেশন কর্মকর্তা জানান, একটি চক্র অবৈধ ভারতীয় পণ্য চোরাচালানী করে আসছে। চোরাচালানী বন্ধে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়। এদিকে, প্রতিবছর কোরবানীর ২০ দিন আগে থেকে চোরাচালানী ঘাট দিয়ে ব্যাপক হারে ভারতীয় গরু পাচার হয়। এবারও কিছু গরু আসছে। এবারও অসাধু ব্যবসায়ীরা ভারতীয় ব্যবসায়ীদের কাছে চামড়া দিতে গোপনে আতাত করলেও সে বিষয়ে দৃশ্যত কোন আগাম ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। আদৌ হবে কি না তা জনগনের বোধগম্য নয়।
এদিকে ঢাকায় ফেনসিডিল সাপ্লাই হয় মূলত খুলনা সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট থেকে। এক শ্রেনীর মাদক ব্যবসায়ী বিভিন্ন সংস্থাকে ম্যানেজ করে এ কারবার সারা বছরই করে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এখানে যেন স্বাক্ষী গোপাল। নারকোটিক্সের অনেক কর্মকর্তা কর্মচারীরা এর সাথে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। এর সাথে রয়েছে রাজনৈতিক সেল্টার। ঈদকে পুজি করে চক্রটি তাই আরো বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। খুলনাঞ্চলের সব শ্রেনী পেশার মানুষের মধ্যে ইয়াবার বিষ বাষ্প ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে তরুন যুবক যুবতীরা ইয়াবা সেবনে বেশি আসক্ত।

 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ