Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭, ১১ সফর ১৪৪২ হিজরী

ধুনটে এবার নারী বিউটিশিয়ানসহ প্রভাষককে পেটালেন মেয়র

বগুড়া ব্যুরো : | প্রকাশের সময় : ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় এবার নারী বিউটিশিয়ান সহ এক প্রভাষককে জনসম্মূখে পিটিয়ে আবারও আলোচিত হলেন আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক পৌরসভার মেয়র এজিএম বাদশাহ্। সোমবার বিকালে ধুনট পৌর এলাকার অফিসারপাড়া এলাকায় মেয়র বাহিনীর গণধোলাই থেকে ওই নারী বিউটিশিয়ান সহ তিনজনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর আগে দলিল সম্পাদনে সরকারী ফি চাওয়ায় ধুনট সাব রেজিষ্ট্রার প্রফুল্ল চন্দ্রকে অফিস কক্ষে পিটিয়ে আলোচিত হয়েছিলেন তিনি।
থানা পুলিশ ও স্থানীয়সূত্রে জানাগেছে, ধুনট উপজেলার বাকশাপাড়া গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে লিটন মিয়ার সাথে গত ৭বছর আগে চান্দারপাড়া গ্রামের সিরাজুল হকের মেয়ে শারমিন আকতার ছবির বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে এক কণ্যা সন্তান রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবত লিটন মিয়া প্রবাসে থাকায় এবং ভরনপোষন না দেওয়ায় শারমিন আকতার তিন মাস আগে তাকে ডিভোর্স দেয়। জীবিকার তাগিদে শারমিন আকতার পৌর এলাকার অফিসারপাড়া এলাকায় সাথি বিউটি পার্লার’ নামে পার্লার খুলে ব্যবসা করছেন। সোমবার বিকালে লিটন মিয়ার বড় ভাই গোসাইবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রফিকুল ইসলাম ধুনট অফিসার পাড়া এলাকায় শারমিন আকতারের ভাড়া বাসা থেকে সব আসবাবপত্র বের করার চেষ্টা করে। এসময় শারমিন আকতার ও তার চাচাতো ভাই আফজাল হোসেন মেমোরিয়াল ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক আবু সালাম তুহিন ও তার ভাই তুষার মেম্বার রফিকুলকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে উভয়ের পক্ষের মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে রফিকুল পৌর মেয়রকে বিষয়টি অবগত করলে তিনি ছুটে যান ঘটনাস্থলে। সেখানে গিয়ে উভয়পক্ষের কথা শোনার আগেই পৌর মেয়র এজিএম বাদশাহ্ উত্তেজিত হয়ে প্রভাষক তুহিন ও তার ভাই তুষারকে জুতা খুলে মারধর করতে থাকে। এসময় বাধা দিতে গেলে বিউটিশিয়ান শারমিন আকতারকে রাস্তার ওপরই জনসম্মূখে পেটাতে থাকেন মেয়র ও মেয়র পত্মীই। শুধু মেয়র ও মেয়র পত্মীই তাদেরকে পিটিয়ে ক্ষান্ত হয়নি তার বাহিনী দিয়েও তাদেরকে গণধোলাই দেওয়া হয়েছে। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত দুই পুলিশ অফিসার তাদেরকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন।
বিউটিশিয়ান শারমিন আকতার বলেন, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে মেয়রকে বিচার দিয়েছিলাম। কিন্তু মেয়র কোন বিচার না করে আমার ঘর থেকে আসবাবপত্র বের করে নিয়ে যাওয়ার হুকুম দিয়েছেন। আর এতে বাধা দেওয়ায় তিনি ও তার স্ত্রী সহ তার বাহিনী আমাদেরকে জনসম্মূখে বেদম মারপিট করেছে। আমরা এঘটনার বিচার চাই। তবে এবিষয়ে পৌরসভার মেয়র এজিএম বাদশাহ্র মোবাইলফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এবিষয়ে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এঘটনার কয়েক মাস আগেও দলিল সম্পাদনে সরকারী ফি চাওয়ায় ধুনট সাব রেজিষ্ট্রার প্রফুল্ল চন্দ্রকে তার কার্যালয়ে বেদম মারধর করেছিলেন পৌর মেয়র এজিএম বাদশাহ্ ও তার বাহিনী। যার কারনে এক টানা দুই সপ্তাহ্ দলিল সম্পাদন বন্ধ ছিল। এঘটনাতেও তিনি সারাদেশে আলোচিত হয়েছিলেন। এবারও তিনি এক নারী বিউটিশিয়ান ও প্রভাষকসহ তিনজনকে পিটিয়ে আবারও আলোচিত হলেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ