Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৯ আশ্বিন ১৪২৬, ২৪ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

মাওলানা জালাল উদ্দীন রূমী [রহ.]

কাব্যানুবাদ : রূহুল আমীন খান | প্রকাশের সময় : ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

বঞ্চিত হয় প্রেমিক যদি প্রেম থেকে তার বাঞ্ছিতার
পালক হারায় পঙ্খী তখন, ওড়ার তাকত রয়না আর।

কেমনে রবে চেতন আমার পেছন কিবা সম্মুখের
সামনে-পিছে না থাকলে ওই নূরের জ্যোতি মাশুকের।

ও নূর সদা-সর্বদাই বেষ্টিত যার- নিকট-দূর
উপর ও নিচ সর্বদিকে নূরই কেবল তাহার নূর।
প্রেম তো চাহে ছড়িয়ে পড়–ক প্রেম-বাখানি সর্ব ঠাঁই
স্বচ্ছ ছবি ভাসার লাগি মুকুর খানা স্বচ্ছ চাই।

প্রতিচ্ছবি ভাসছে না যে দর্পনে কি কারণ এর ?
জমে আছে ময়লা-কালি মুখটাতেই দর্পণের।

স্বচ্ছ ফটিক ঝক্্ঝকে যে আরশি তাহার এমনি শান
খোদায়ী রবি-রস্মিতে তা’ উদ্ভাসিত দীপ্তিমান।

যাও তুমি যাও অগ্রে করো হৃদ-মুকুরের ময়লা দূর
অনুধাবন করবে তবে খোদার মহাদীপ্ত নূর।

বাদশা ও বাঁদীর প্রেম কাহিনী
প্রাচীনকালে ছিলেন এক প্রতাপশালী দ্বীনদার বাদশাহ। একদা তিনি বের হলেন শিকারে। অরণ্য, উপাত্যকায় বেড়ালেন শিকার খুঁজে। পথিমধ্যে দেখতে পেলেন তিনি অন্যান্য সুন্দরী তন্বি তরুণী এক দাসীকে। পড়ে গেলন তার প্রেমে। বহু মূল্যে খরিদ করে তাকে নিয়ে এলেন সঙ্গে করে। শাহী মহলে পৌঁছেই দাসী আক্রান্ত হলো কঠিন রোগে। অস্থির হয়ে পড়লেন বাদশাহ তার এ অবস্থা দেখে। ডেকে পাঠালেন দেশের সেরা সেরা হাকিম-চিকিৎসকদের। অর্পণ করলেন তাদের ওপর দাসীকে সুস্থ করে তোলার দায়িত্ব। প্রাণপণ চেষ্টা করে যেতে লাগলেন ভিষকগণ। ফল হলোনা কিছুই। ক্রমেই দাসীর অবস্থা অবনতির দিকে যেতে লাগল। বাদশাহ দিশেহারা হয়ে পড়লেন তাদের ব্যর্থতায়। অবশেষে তিনি আল্লাহর সাহায্য লাভের আশায় মসজিদে ছুটে গিয়ে মেহরাবে আছড়ে পড়লেন। মন প্রাণ সপে দিলেন প্রার্থনায়। চোখের পানিতে সিক্ত হয়ে আল্লাহর হুযুরে কাতর ফরিয়াদ জানাতে জানাতে ঘুমিয়ে পড়লেন তিনি মসজিদের মেহরাবেই। এ অবস্থায় স্বপ্নে দেখতে পেলেন- জ্যোতির্ময় চেহরার এক ওলী আল্লাহকে। তিনি বললেন, অধীর হয়োনা বৎস! কাল প্রভাতেই তোমার শাহী মহলের দরওয়াজায় উপস্থিত হবেন এক অভিজ্ঞ হাকিম। খোদা প্রেরিত সেই হাকিমের চিকিৎসায় পূর্ণ আরোগ্য লাভ করবে ঐ দাসী। পূর্ণ হবে তোমার মনোবাঞ্ছা।
সে মতে পরদিন প্রভাতেই সাক্ষাৎ মিলল গায়বী হাকিমের। পরমানন্দে সসম্মানে তাকে জানালেন খোশ আমদেদ। খুলে বললেন তাঁর কাছে সব বৃত্তান্ত এবং আবেদন জানালেন দাসীকে সুস্থ করে তোলার। গায়বী হাকিম দায়িত্ব নিলেন। শুরু করলেন চিকিৎসা। তিনি বুঝতে পারলেন দাসীর এ রোগ দেহের নয়, মনের। সুকৌশলে তিনি দাসীর কাছ থেকে জেনে নিলেন তার মনের সেই খবর। খোরাসানের বাজারে আছে এক স্বর্ণকার। তার প্রেমেই সে অধীর আকুল, তার বিরহানলে দগ্ধিত হচ্ছে সে। হয়ে যাচ্ছে পুড়ে পুড়ে খাক। গায়বী হাকিম বাদশাকে দিয়ে সেই স্বর্ণকারকে নিয়ে এলেন রাজদরবারে। লোভী স্বর্ণকার অযাচিত রাজ সম্মানে হলো আত্মহারা। তাকে করে দেয়া হল তার পুরানা প্রয়য়িনী দাসীর সাথে মিলনের অবারিত সুযোগ। দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর অকল্পনীয় ভাবে মিলন হল প্রেমিক যুগলের। উভয়ে আনন্দে আত্মহারা। নিমজ্জিত হল তারা পুলক প্লাবনে। স্বাভাবিক হয়ে উঠল দাসীর অবস্থা। সুস্থ হয়ে গেল সে।
এবার গায়বী হাকিম আগালেন মূল লক্ষ্যে। খোরাসানী স্বর্ণকারকে পান করিয়ে দিলেন বিষাক্ত শরবত। বিষক্রিয়ায় ক্রমে রুগ্ন হয়ে পড়ল স্বর্ণকার। দেহকান্তি, শক্তিবল নিঃশেষ হয়ে গেল তার। এই ভগ্নদেহ, অসুস্থ কঙ্কালের প্রতি দাসীর অনুরাগ ও অকর্ষণও নিঃশেষ হয়ে গেল চির তরে। অবশেষে মৃত হল খোরাসানী লোভী স্বর্ণকারের। দুশ্চিন্তা মুক্ত হলেন বাদশাহ্। দাসী হল তার প্রতি অনুরক্ত পূর্ণ হলো শাহের মনস্কামনা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন