Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৯ আশ্বিন ১৪২৪, ০৩ মুহাররম ১৪৩৮ হিজরী

ইসলামী কর্মতৎপরতা

| প্রকাশের সময় : ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতী সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম পীর চরমোনাই বলেছেন, বন্যা ও নদী ভাঙ্গনে স্বর্বস্ব হারানো মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সকল নেতা-কর্মীকে সাধ্যানুযায়ী ত্রাণ তহবিলে দান করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পূনর্বাসন কাজে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা বেচে থাকতে একজন মানুষও যেন খাদ্যাভাবে মারা না যায়। সর্বসান্ত হারানো মানুষগুলো যেন তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে মাথা গুজার ঠাই পায় সে পরিকল্পনা মাথায় রেখেই কাজ করতে হবে। খাদ্য-দ্রব্য, বস্ত্র, ঔষধ, ও ঘর-দুয়ার মেরামত করার প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রও দিতে হবে। বেচে থাকার মানুষিক শক্তি যেন তাদের হারিয়ে না যায়।
সম্প্রতি রাজধানীর ভাটারাস্থ একটি মিলনায়তনে নগর উত্তর কর্তৃক কেন্দ্রীয় ত্রাণ তহবিলে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পীর সাহেব চরমোনাই এ কথা বলেন। নগর উত্তর সভাপতি অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নগর উত্তর সেক্রেটারী মুহাঃ মোশাররফ হোসেন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল ইসলাম নাঈম, মুফতী মাছউদুর রহমান, একে এম নাজমুল হক, ডাঃ মজিবুর রহমান, এডঃ শওকত আলী হাওলাদার, আবুল হোসেন প্রমুখ।
পীর সাহেব চরমোনাই আরো বলেন, এ বছরের বন্যায় সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নিরব ভূমিকা ও অব্যবস্থাপনার কারণে মানুষের জান-মালের ক্ষতি হয়েছে আগের তুলনায় অনেক বেশি। সরকার ত্রাণ তহবিল গঠনের নামে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে কোটি কোটি টাকা উত্তোলন করলেও তার সিকি ভাগ বন্যা কবলিত এলাকায় পৌঁছেনি। সঠিক তদারকি না থাকার দরুন রক্ষক ভক্ষকে পরিণত হয়েছে। দলীয় এমপি-মন্ত্রীরা ত্রাণ তৎপরতার নামে পিকনিক আর ফটো সেশন করছে। তিনি আরো বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি দেখে দেশে কোন সরকার আছে বলে মনে হচ্ছে না। যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল দশা, বন্যার্ত মানুষের বর্ণনাতীত দুঃখ কষ্টেও শাসক গোষ্ঠি পূর্ণমাত্রায় বেখবর। এ পরিস্থিতি উত্তোরণে সরকারী কোনো ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। বন্যায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের জীবিকা নির্বাহের সম্পূর্ণ খরচ সরকারকে বহন করতে হবে। তা না হলে সময়মত জনগণ ক্ষমতসীনদেরকে এর জবাব দিতে ভুল করবে না।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম
বাংলাদেশের সভাপতি আল্লামা শায়েখ আব্দুল মুমিন শায়খে ইমামবাড়ী ও মহাসচিব আল্লামা নূর হোছাইন কাসেমী এক যৌথ বিবৃতিতে মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরীহ মুসলমানদের উপর নির্যাতন ও তাদের ঘর-বাড়ি জালিয়ে দেওয়ার তিব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মায়ানমার সরকার রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান না করে কয়েকদিন পরপর রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর অমানুষিক নির্যাতন ও তাদের ঘর-বাড়ি জালিয়ে বারবার মানবাধিকার লঙ্গন করছে। অথচ জাতিসংঘ বাস্তবধর্মী কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। জমিয়ত নেতৃদ্বয় রাখাইন রাজ্যে মুসলিম নিধন বন্ধ করতে এবং রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে মায়ানমার সরকারের প্রতি বাংলাদেশ সরকারকে চাপ সৃষ্টি করতে আহবান জানান।
ইসলামী ঐক্য আন্দোলন
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর সাম্প্রতিক হত্যা যজ্ঞ এর নিন্দা জানিয়ে ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের আমির ড. মওলাানা মুহাম্মদ ঈসা শাহেদী এক বিবৃতি প্রদান করেছেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন-মিয়ানমারের রাখাইন (সাবেক আরাকান) রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর নতুন করে যে অত্যাচার,নিপীড়ন, অগ্নিসংযোগ ও নিধনযজ্ঞ চলানো হচ্ছে তার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিবাদ জানানোর জন্য আমরা দেশের সর্বস্তরের জনগণ ও সরকারের প্রতি দাবী জানাচ্ছি। তিনি বলেন, আমরা ভেবে অবাক হই যে, মিয়ানমানের সরকার, সেনাবাহিনী ও মগদস্যুরা মিলে রাখাইন রাজ্যের আদি জাতিগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের বংশ নিপাত করার জন্য যে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে তার বিরুদ্ধে মিয়ানমারের একটি প্রাণীও কীভাবে প্রতিবাদ না করে পারছে? মিয়ানমার কি তাহলে আক্ষরিক অর্থে মগেরমুল্লুক এবং সেখানে মানবতা, বিবেক ও সভ্যতার অপমৃত্যু হয়েছে। রোহিঙ্গাদের উপর এই নির্যাতন চালানো হচ্ছে মুসলমান হওয়া এবং বাঙ্গালী হওয়ার অজুহাত খাড়া করে। আমরা মনেকরি, এ ব্যাপারে বাংলাদেশে এবং সারাবিশে^ বসবাসরত বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের জোরদার প্রতিবাদ জানানোর বিরাট নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে।
-প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।