Inqilab Logo

শনিবার, ২১ মে ২০২২, ০৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

রেললাইনে মৃত্যু রুখতে হবে

| প্রকাশের সময় : ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১২:০০ এএম


রেল লাইনে কাটা পড়ে বা ট্রেনের ধাক্কা খেয়ে নিহত হওয়া মানুষের সংখ্যা দিন দিন আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। সারা দেশে গত ৭ মাসে রেললাইনে মৃত্যু হয়েছে ৫৭০ জনের। পরিস্থিতি এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে, যে গড়ে প্রতিদিন ২ জনের মৃত্যু হচ্ছে। মৃত্যুর তিনটি কারণ রেলপুলিশ উল্লেখ করেছে। রেললাইনে বসে আড্ডা দেয়া, কানে ইয়ারফোন লাগিয়ে বা মোবাইলে কথা বলতে বলতে হাঁটা এবং ট্রেন আসতে দেখেও দ্রæত পার হওয়ার চেষ্টা করা। দেশের তিনটি এলাকায় এই মৃত্যুর ঘটনা সবচেয়ে বেশি। এলাকা তিনটি হচ্ছে, ঢাকার তেজগাঁও থেকে বিমানবন্দর স্টেশন, চট্টগ্রামের মিরসরাই থেকে সীতাকুÐ এবং নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা। রেলওয়ে পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত পূর্বাঞ্চলের রেললাইনে আড্ডা ও হাঁটার সময় মৃত্যু হয়েছে ১৬৫ জনের। ট্রেন আসছে দেখার পরও দ্রæত পার হতে গিয়ে ২২০ জন এবং কানে ইয়ারফোন লাগিয়ে রেললাইন ধরে হাঁটার সময় মারা গেছে ২৬ জন । অত্মহত্যা, ছাদ থেকে পড়ে যাওয়াসহ অন্যান্য কারণে মারা গেছে ২৮ জন। দেখা যাচ্ছে, এসব মৃত্যুর মূল কারণই হচ্ছে, অসচেতনতা। অসচেতনতার কারণে এভাবে বেঘোরে প্রাণ হারানো অত্যন্ত দুঃখজনক।
রাজধানীর ভেতর যে রেললাইন রয়েছে, এ রেললাইন ধরে অনেক মানুষকে হেঁটে যেতে দেখা যায়। তারা মূলত যানজট এড়াতে ও সময় বাঁচাতে এ পথে হেঁটে চলে। রেললাইনের আশপাশের এলাকার মানুষও অনেক সময় অবসর কাটাতে বা আড্ডা দিতে রেললাইনের উপর বসে। অনেকে কানে ইয়ারফোন লাগিয়ে হেঁটে চলে। গত বছর বুয়েটের এক ছাত্র কানে ইয়ারফোন লাগিয়ে তেজগাঁও রেললাইন ধরে হাঁটতে গিয়ে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে। বলা যায়, এ মৃত্যু অসতর্কতার অনিবার্য পরিণতি। দেখা যাচ্ছে, এ ধরনের মৃত্যু বারবার ঘটা সত্তে¡ও মানুষের মধ্যে সচেতনতাবোধ জাগ্রত হচ্ছে না। এর কারণ হচ্ছে, যারা রেললাইন ধরে হাঁটে বা বসে আড্ডা দেয়, তাদের মানসিকতাই থাকে, যখন ট্রেন আসবে, তখন দেখা যাবে। ট্রেন কখন আসবে বা যাবে, এ সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা থাকে না। এমনকি ট্রেন আসতে দেখেও তাদের মধ্যে গড়িমসি ভাব পরিলক্ষিত হয়। তারা মনে করে, ট্রেন ধীর গতিতে আসছে, কাজেই যে কোনো সময় সরে যাওয়া যাবে। এই মানসিকতাই তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। এই অসচেতনতা শুধু পথচারী বা যারা আড্ডা দেয় তাদের মধ্যেই নয়, রেলক্রসিংগুলোতে বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের মধ্যেও দেখা যায়। সিগন্যাল পড়লেও অনেক চালকের মধ্যে দ্রæত রেলক্রসিং পার হওয়ার প্রবণতা রয়েছে। এই প্রবণতার কারণে ভয়াবহ দুর্ঘটনাও ইতোমধ্যে ঘটেছে। রেলক্রসিংয়ে কর্তব্যরত রেলের কর্মচারিদেরও গাফিলতি রয়েছে। তারা সময়মতো ক্রসিংয়ের উপর দিয়ে যানবাহন ও পথচারিদের যথাসময়ে সতর্ক করে না। এতে দুর্ঘটনাও ঘটেছে। শহর বা লোকালয়ের মধ্য দিয়ে যেসব রেললাইন রয়েছে, সেসব এলাকায় রেললাইনকে কেন্দ্র করে বাজার, বস্তি ও বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে উঠতে দেখা যায়। এমনকি রেললাইনের উপর বাজারও বসে। এসব অবৈধ বাজার ও স্থাপনা উচ্ছেদ বা সরিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে রেল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে উচ্ছেদ অভিযান চালালেও, কিছুদিন পর দেখা যায়, তা পুনরায় দখল হয়ে গেছে। ফলে লোকালয়ের ভেতর দিয়ে যাওয়া রেললাইনকে কোনোভাবেই বিপদমুক্ত করা যাচ্ছে না।
রেললাইন কেন্দ্রিক মৃত্যুর ঘটনা করতে বা তা থেকে পরিত্রাণে জনসচেতনতার বিকল্প নেই। পাশাপাশি রেল কর্তৃপক্ষেরও দায়িত্ব রয়েছে। লোকালয়ের ভেতর দিয়ে যাওয়া রেললাইনকে নিরাপদ করতে রেল কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ভূমিকা পালন করতে হবে। মাঝে মাঝে রেললাইনের উপর বসে আড্ডারতদের ধরে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিলে তাতে খুব একটা লাভ হচ্ছে না। এ ব্যাপারে আরও জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট এলাকাকে ‘সংরক্ষিত এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করা যায় কিনা, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করা যেতে পারে। জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রতিনিয়ত লিফলেট, প্রচারপত্র, মাইকিং কার্যক্রম চালানো দরকার। রেল কখন আসবে এবং কখন যাবে, এরকম একটা সময়সূচি সংশ্লিষ্ট এলাকায় স্পষ্ট করে টানিয়ে দেয়া প্রয়োজন। সম্ভব হলে ঐসব এলাকার রেললাইনের দুই পাশে কাঁটাতারের বেড়া দেয়া যেতে পারে। যারা রেললাইন ধরে যাতায়াত করে, তাদের এ সময়টাতে মোবাইলে কথা বলা বা ইয়ারফোন কানে লাগিয়ে চলাচল বন্ধ করা উচিত। তাদের বুঝতে হবে, এতে পুরো মনোযোগ মোবাইলে বা ইয়ারফোনে নিবদ্ধ থাকে। আশপাশে কী হচ্ছে, তা খেয়াল থাকে না। এই বেখেয়ালের জন্য প্রাণহানির আশঙ্কা প্রবল এবং ইতোমধ্যে অনেককে প্রাণ দিতে হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: রেললাইন

২ ডিসেম্বর, ২০২১
৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
১৮ নভেম্বর, ২০২০
২৩ অক্টোবর, ২০২০
৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

আরও
আরও পড়ুন