Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩ আশ্বিন ১৪২৬, ১৮ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

আশুলিয়ায় উদ্ধার ৩৫ টুকরো লাশের পরিচয় মিলেছে, আটক ৩

| প্রকাশের সময় : ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার সাভার ও ঝিনাইদহ জেলা সংবাদদাতা : ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় একটি ভাড়া বাড়িতে ড্রামের ভিতর থেকে উদ্ধার ৩৫ টুকরা লাশের পরিচয় মিলেছে। এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে তিন জনকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত তাসলিমা বেগম (২৭) ঝিনাইদাহ জেলার সদর থানার নৈহাটি বড়পাতা গ্রামের তক্কেল মন্ডলের মেয়ে। সে আশুলিয়ার হা-মীম গ্রæপের নেক্সট কালেশন নামে পোশাক কারখানার শ্রমিক।
শনিবার ভোরে আশুলিয়া থানার একদল পুলিশ ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাগডাঙ্গা গ্রামের স্কুলপাড়া থেকে হেলাল উদ্দীন জোয়ারদারের ছেলে আকরাম হোসেন ও তার ভাই আলীনুর এবং আক্তার হোসেন ওরফে কালু মোল্লার ছেলে মুকুল হোসেনকে আটক করে। এ সময় আলীবর রহমান নামে আরেকজনকে পুলিশ নিয়ে গেলেও শনিবার সন্ধ্যায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। তাসলিমার তৃতীয় স্বামী মজিবর রহমানকে পুলিশ এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি। তিনি ভারতে পালিয়ে যেতে পারেন বলে এলাকাবাসি ধারণা করছে। মজিবরকে গ্রেফতার করতে পারলে তাসলিমাকে ৩৮ টুকরো করে হত্যার রহস্য উন্মোচন হতো বলে পুলিশ মনে করছে।
পহেলা সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) রাতে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার প্রবাসী মাসুদ মিয়ার ভাড়া দেয়া বাসার একটি কক্ষ থেকে ড্রামে ভর্তি লাশের টুকরোগুলো উদ্ধার হওয়ার এক সপ্তাহ পর শনিবার বিকালে পুলিশ নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।
আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মলয় কুমার সাহা জানান, গত শুক্রবার রাতে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার প্রবাসী মাসুদ মিয়ার ভাড়া দেয়া বাসার তালাবদ্ধ একটি কক্ষ থেকে দুগর্ন্ধ বের হলে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেয়। পরে রাতে তালা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে ড্রামের ভিতর থেকে অর্ধগলিত ৩৫ টুকরা নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছোড়াসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে।
এরপর থেকে লাশের পরিচয় সনাক্তের জন্য ও ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। পরে শুক্রবার রাতে ঝিনাইদহ সদর থানা এলাকা থেকে আকরাম হোসেন ও তার ভাই আলীনুর এবং মুকুল হোসেনকে আটক করা হয়।
আটক মুকুল নিহতের স্বামী আব্দুল মজিদের বন্ধু। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মুকুল খুনের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এছাড়া ঘটনার সময় সে ছাড়াও নিহতের স্বামী মজিদসহ আরও একজন অংশে নেয়।
তবে পুলিশ আরো কিছু তথ্য পেয়েছে, যা তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করছে না।
আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল আউয়াল জানান, ঘটনার মুল হুতা আব্দুল মজিদ ও তার আরেক সহযোগীকে আটকের চেষ্টা চলছে। মজিদ আটক হলে এ নির্মম হত্যাকান্ডের কারন উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ