Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ২৫ নভেম্বর ২০১৭, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
শিরোনাম

অনেক দিন পর প্রধানমন্ত্রীর শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে -মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

অনেক দিন পরে হলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় জাতীয় সংসদে নিন্দা না জানানোয় সরকারের সমালোচনা করে দলটি। গতকাল (মঙ্গলবার) দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১০ কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে এই আলোচনার আয়োজন করে যুবদল।
সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী আজকে (গতকাল মঙ্গলবার) কক্সবাজারে গেছেন, উখিয়ায় সফর করেছেন এবং তিনি একটি বিরাট বহর নিয়ে গেছেন। আমরা এখন পর্যন্ত যা খবর পেয়েছি তিনি সেখানে কিছু ত্রাণ বিতরণ করেছেন। আমরা শুনে অন্তত: এইটুকু খুশি হলাম যে এতোদিনে বোধদয় হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী আসলেন, তুরস্কের ফাস্ট লেডি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী আসলেন এবং আজকে (গতকাল) প্রথম জাতিসংঘ থেকে একটা বড় মানবাধিকার টিম আসছেন তারা সেখানে যাবেন। অর্থাৎ সারা বিশ্ব যখন সোচ্চার হচ্ছে, জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল যখন চিঠি দিয়েছেন নিরাপত্তা পরিষদকে যে অবিলম্বে এই গণহত্যা বন্ধ করতে হবে এবং মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তখন আপনি (প্রধানমন্ত্রী) আজকে গেলেন উখিয়াতে।
জাতীয় সংসদে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিষয়ে নিন্দা না জানানোয় সরকারের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, পার্লামেন্টে কালকে আপনারা (সরকার) প্রস্তাব নিয়েছেন যে, মিয়ানমারকে চাপ দিতে হবে রোহিঙ্গাদেরকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু মিয়ানমারকে নিন্দা জানান নাই। তারা যে এভাবে গণহত্যা করছে, সুপরিকল্পিতভাবে একটি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার জন্য কাজ করছে তার জন্য কোনো নিন্দা জানান নাই, গণহত্যার জন্য কেনো নিন্দা জানান নাই। আমরা আজকে এই সভা থেকে নিন্দা জানাচ্ছি যে আপনারা যারা এই প্রস্তাব (নিন্দা প্রস্তাব) নিতে সাহস করে নাই। এটা পরিস্কার, জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন তার প্রধান তিনি বলেছেন যে সুস্পষ্টভাবে মিয়ানমারে গণহত্যা চলছে এবং জাতিধবংস করার নিধনে যেটাকে ইফক্লিজিং বলে সেটার কাজ করে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা প্রশ্নে সরকার এখনো দ্বিধা-দ্ব›েদ্ব আছে বলেও উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল।
প্রধানমন্ত্রীর উখিয়ার রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবির পরিদর্শনে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার আগে কী বলেছেন? এর আগে বলেছেন যে, আমাদের দেখতে হবে যে এখানে সন্ত্রাসী আছে কিনা, এখানে দেখতে হবে যে কারা আসছে? এখনো আপনারা দ্বিধান্বিত হয়ে আছেন। সীমান্তে মাইন পোতা নিয়ে সরকার নিশ্চুপ মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, মিয়ানমার সীমান্তে মাইন পোতা ও বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনা সরকারের নিরব ভুমিকা পালন করছে। আজকে মিয়ানমার যখন তিন লাখ শরনার্থীকে আমাদের দেশে ঠেলে দিয়েছে তখন তো আমার দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব আক্রান্ত হয়েছে। তাদের হেলিকপ্টারগুলো ঘুরছে, সীমান্তের পাশেই তাদের সেনাবাহিনীরা মাইন বসাচ্ছে। সেগুলো সম্পর্কে আপনারা একটা কথাও বলছেন না। বিএনপি সরকারের আমলে রোহিঙ্গা সমস্যা মোকাবিলার বিষয়টি তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, আমার এখনো মনে আছে, ১৯৯২ সালে এভাবে রোহিঙ্গারা আসছিলো আমাদের দেশে, তাদের (মিয়ানমার) দেশে উপদ্রুপ হচ্ছিল। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছিলেন সীমান্তে এবং তিনি বলেছিলেন যে তোমরা যদি এভাবে এগুতে থাকো তাহলে এই সেনাবাহিনী নিয়ে আমি তোমাদেরকে বাঁধা দিতে বাধ্য হবে। তারা (মিয়ানমার সরকার) কিন্তু মেনে নিয়েছিলো, এই রোহিঙ্গাদের ফেরতও নিয়েছিলো। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়ে ৭৮ সালে রোহিঙ্গারা এভাবে আসছিলো, তখন একটা চুক্তি করে তাদের ফিরিয়ে নিয়েছিলো। সেই চুক্তির মধ্যে বলা আছে যে, ভবিষ্যতে যেকেনো এরকম সমস্যা হলে বসতে হবে, কথা বলতে হবে এবং এই সমস্যাগুলো সমাধান করতে হবে। আপনার সেগুলো করতে চান না। সীমান্তে যৌথ অভিযানের প্রস্তাব প্রসঙ্গে দলটির মহাসচিব বলেন, আপনরাই এটা নিয়ে রাজনীতি করতে চান বলেই আপনারা (সরকার) আজকে একটা প্রস্তাব দিচ্ছেন কী? মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষীবাহিনী ও বাংলাদেশের বিজিবি (বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড) যৌথভাবে টহল দিয়ে অভিযান চালাবে। কার বিরুদ্ধে অভিযান চালাবে? যাদেরকে হত্যা করা হচ্ছে, যাদেরকে ধর্ষণ করা হচ্ছে, যাদের শিশুদের মেরে ফেলা হচ্ছে, যাদের গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে সেখানে বিজিবি থাকবে? আমরা ঠিক বুঝতে পারি না। এটা তারা কী বলতে চান। এটা হচ্ছে যেটা আমি বলেছি যে, পুরোপুরি নতজানু হয়ে গেলে, নিজস্ব কোনো স্বকীয়তা না থাকলে অন্যের ওপরে ভর করে যখন চলতে থাকে তখন এই ধরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ হয়। আমরা খুব পরিস্কার ভাষায় জানাতে চাই, আমরা মিয়ানমারের গণহত্যাকে সম্পূর্ণভাবে নিন্দা জানাই, ধিক্কার জানাই। মিয়ানমার সরকারকে বলছি তারা যেন অবিলম্বে গণহত্যা বন্ধ করে। শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অংকসান সূচীর নেতৃত্বে সরকারের আমলেই এই ধরণে গণহত্যার ঘটনাকে ‘লজ্জা’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ফখরুল। বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ওপর বর্তমান সরকারের দমনপীড়নের বিরুদ্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবানও জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা নির্বাচন নির্বাচন বলে খুব ঢোল বাজাচ্ছেন। নির্বাচন এই দেশে আমরাও চাই। কারণ, ২০১৪ সালে আপনারা যে নির্বাচন করেছেন তা এ দেশের মানুষ গ্রহণ করেনি। জোর করে ক্ষমতা দখল করে বসে আছেন। আর সামনে যখন নির্বাচনের সময় আসছে তখন আপনারা নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন কথা বলতে শুরু করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের কথা খুব স্পষ্ট যে, আপনারা সংবিধান পরিবর্তন করেছেন। সংবিধান থেকে তত্ত¡াবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাদ দিয়ে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করেছেন। এক সময় এ দেশের মানুষ আপনাদের দেয়া তত্ত¡াবধায়ক প্রস্তাব মেনে নিয়েছিল। তিনবার সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার পর শুধু ক্ষমতায় থাকার জন্য গোটা বাংলাদেশকে অশান্তি, অস্থিতিশীলতা ও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। তাই আজ যত সংঘাত সমস্যা তৈরি হচ্ছে তার মূলে রয়েছে নির্বাচন। সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আশা করি আপনাদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। সহায়ক সরকারের যে প্রস্তাব খালেদা জিয়া দেবেন সেই প্রস্তাব মোতাবেক একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন। ৫ জানুয়ারির মতো আর কোন নির্বাচন এদেশে হতে দেয়া হবেনা। সহায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন দিতে হবে। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মাধ্যমেই আমরা পেয়েছি এই সংসদীয় গণতন্ত্র। আর এই জন্যই তাঁর উপর সরকারের এত রাগ।
যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরবের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, বরকতউল্লাহ বুলু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, যুব দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা সালাউদ্দিন টুকু, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করীম
বাদরু, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান, যুবদলের গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মাহবুবুল হাসান ভূঁইয়া পিংকু, মহানগর উত্তরের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোওলা শাহিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 


Show all comments
  • জেরিন ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১১:৩০ এএম says : 0
    অন্যকে দোষারপ নয় সবাই সম্মিলিতভাবে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করতে হবে।
    Total Reply(0) Reply
  • আরমান ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ৩:৪৯ পিএম says : 0
    মিয়ানমার সীমান্তে মাইন পোতা ও বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনা সরকারের নিরব ভুমিকা পালন করছে। এটা খুবই দু:খজনক।
    Total Reply(0) Reply
  • ইমরান ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ৩:৪৭ পিএম says : 0
    রোহিঙ্গাদের দেখতে যাওয়ায় সরকার প্রধানকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ