Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৭, ০৮ কার্তিক ১৪২৪, ০২ সফর ১৪৩৯ হিজরী
শিরোনাম

আগামী ডিসেম্বরে বিজয় দিবস ভাতা চালু করছে সরকার

| প্রকাশের সময় : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

পঞ্চায়েত হাবিব : মহান বিজয় দিবস যেন সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয় এজন্য বৈশাখী ভাতার মতো বিজয় দিবস ভাতা চালু করছে সরকার। এ ভাতা প্রচলনের বিষয়ে মতামত চেয়ে সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে অর্থ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে চিঠিও পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব মঈনউল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষাক্রমে বিজয় দিবস ভাতা প্রচলনের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম মোজাম্মেল হক ইনকিলাবকে বলেন, আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি যাতে বিজয় দিবসের ভাতা চালু হয়। তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো এখনো এবিষয়ে কোনো কিছু বলেনি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম ইনকিলাবকে বলেন, বিজয় দিবসের ভাতা প্রচলনের জন্য কাজ চলছে। কবে কার্যকর হবে সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন ইনকিলাবকে বলেন, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিজয় দিবস ভাতা প্রচলন সংক্রান্ত একটি চিঠি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এসেছে। আমরা এ বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছি। এটা চালু করলে পজেটিভ হবে না নেগেটিভ হবে এটা আগে জানতে হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নেব। অর্থ সচিব আরো বলেন, এবিষয়টি দেশের স্বাধীনতার সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ ধরণের বিশেষ ভাতা চালুর মতো চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি কিছুটা সময় সাপেক্ষও বটে। তবে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করলে বলতে পারব কবে থেকে এটা কার্যকর হতে পারে। এবিষয়ে চ‚ড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। শিগগির আলোচনা করব। জনপ্রশান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খান বলেন, বিজয় দিবসের ভাতা চালু করার জন্য আলোচনা চলছে। তবে আমি এবিষয়ে বিস্তারিত জানি না।
মন্ত্রিপরিষদ ভিবাগ সূত্রে জানা গেছে, মহান বিজয় দিবস যেন সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়। সর্বত্র এটা প্রতিভাত হয় যে, আজকের দিনটি বিজয় দিবস। এজন্য বৈশাখী ভাতার মতো বিজয় দিবসের বিশেষ ভাতা চালু করতে চাচ্ছে সরকার। কারণ, এখন শুধু সকালে কিছু প্যারেড, তারপরে কিছু অনুষ্ঠান, বিকালে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মাধ্যমে দিনটি শেষ হয়ে যায়। বিশেষ এই ভাতা চালু করা হলে ঈদ, পূজা ও বাংলা নববর্ষের মতো দিনটি উৎসবমুখর পরিবেশে কাটবে। এতে নতুন লাল সবুজের বর্ণিল পোশাক পড়ার একটা ব্যাপার থাকবে। এখন যেমন ঈদ-পূজা উপলক্ষে মানুষ বন্ধুবান্ধব, আত্মীযস্বজন, সহকর্মীর বাড়িতে বেড়াতে যাই, এরকম একটি ব্যাপার যেন ঘটে। যেটা আমাদের সবাইকে এক সূত্রে আবদ্ধ করতে পারে।
জনপ্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, দেশের ১৩ লাখ ৮২ হাজার ৩৯৩ জন সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারির জন্য বিজয় দিবসের বিশেষ ভাতা চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করা হচ্ছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই এই ভাতা চালু করার সম্ভাবনা রয়েছে।
সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, বিজয় দিবসের ভাতা চালুু হলে ভালো হবে। যেসব কর্মকর্তারা পাবেন তারা খুশি হবে। যদি হয় তাহলে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্যও হওয়া উচিত। তারা যেন বাদ না পড়ে। কারণ, আমরাও দীর্ঘকাল সরকারকে সেবা করেছি।
উল্লেখ্য, এর আগে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে বিভিন্ন জেলার ডিসিরা এ প্রস্তাবটি দিয়েছিলেন। এর আলোকে গত ৩১ মে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার ‘বিজয় দিবস ভাতা’ চালুর প্রস্তাব করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। ওই চিঠিতে বিজয় দিবস ভাতা চালুর যৌক্তিকতা তুলে ধরার চেষ্টা করেন তিনি। ওই চিঠির প্রেক্ষিতে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ সম্প্রতি এবিষয়ে মতামত চেয়ে অর্থ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো এবিষয়ে কাজ করছে।

 


Show all comments
  • মো মহসিন ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ৩:০৯ পিএম says : 3
    সরকারের এই উদ্দ্যেগ কে স্বাগতম জানায়
    Total Reply(1) Reply
    • সাঈদ ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ৩:২৬ পিএম says : 0
      বাজেটে সংকুলান হলে ভাতাটি চালু করাই স্রেয়। এখানে জাতীয়তাবোধ ও জাতীয় সংহতি সংশ্লিষ্ট।
  • Adil Shah ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ২:৫০ পিএম says : 3
    সরকারের এই মহান উদ্যোগকে স্বাগতম|
    Total Reply(0) Reply
  • দেলোয়ার আহমদ মাছুম ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ২:৫০ পিএম says : 0
    বেসরকারি এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের কি ভাগ্যে আছে ভাতা?
    Total Reply(0) Reply
  • Jahid ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ২:৪৯ পিএম says : 1
    আরো যদি কোন ভাতা থাকে তাও চালু করেন ।কারণ এ এমন এক নিয়ম চালু হয়েছে যে সব সুবিধা সরকারি চাকরিজীবি পাচ্ছে কিন্তু দেশে যে আরও বেসরকারি চাকরিজীবি আছে তারা এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তার দিকে মোটেও খেয়াল আছে কি না মনে হয় না ।
    Total Reply(0) Reply
  • মুশফিকুর ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১:১২ পিএম says : 2
    বিজয় দিবস বাংলাদেশ নামক দেশটির একটি স্মরনীয় দিন। তাই দিনটির তাৎপয উপলদ্ধি করা বাংলাদেশ নামক দেশটির সকল জনগনের উচিত। সম্পতি দেশটি খুব এগিয়ে যাচ্ছে।হয়ত এটাই তার পতিফলন।ধন্যবাদ দেশটির পধানমন্তীকে। আরো অশেষ ধন্যবাদ জানাই এই পরীকল্পনা কারিদের।
    Total Reply(0) Reply
  • শাহিন ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ২:১৯ পিএম says : 4
    শিরোনাম আর মূল খবর এক নয়।।শিরোনামে আগামী ডিসেম্বরে আসার ঘোষনা দিলেন অথচ মূল খবর বলছে এখনো নিশ্চিত নয়।। এগুলো ঠি নয়।।।
    Total Reply(0) Reply
  • মো: মকবুল হোসেন ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ৭:৫৬ পিএম says : 1
    16ই ডিসেম্বর বাংগালি জাতির অনেক কষ্টের ও সাধনার তাই দিবস যথাযোগ্য পালনে ভাতা দেওয়া ভাল
    Total Reply(0) Reply
  • হীরক লিংকন ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ৭:৫৯ পিএম says : 1
    সময়ের দাবী। তবে এক্ষেত্রে ভাতা সকল কর্মচারীর সমহারে নয় বরং সমান হওয়া উচিত।
    Total Reply(0) Reply
  • শাহ পরান ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ৮:৫৬ পিএম says : 1
    খুব ভাল উদ্যোগ।
    Total Reply(0) Reply
  • H,A,SATTAR ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১:২৬ পিএম says : 0
    Protita ta Bangladeshi manuser jonya bijoy diboser vata proyojon karon desta amader sobayr sudhu matro sorkari kormochari dher na,
    Total Reply(0) Reply
  • Md.Ershadur Rahman Chowdhury ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ৯:৫৯ পিএম says : 0
    Best idea,must include retired person, who serve his golden period for country.
    Total Reply(0) Reply
  • সায়মন আহাম্মেদ ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১১:৫৪ এএম says : 0
    সরকারি চাকুরি জিবিরাই কি শুধু এই দেশের সন্তান। সরকারি চাকুবি জিবিদের জন্য কি শুধু এই দেশ চলে। সরকারি চাকুরি জিবিরাই কি শুধু বাংলাদেশের ভোট দেয়। সরকারি চাকুরি জিবিরাই কি শুধু জাতীয় সংঙ্গীত গান গায়। বেসরকারি চাকুরি জিবিরা কি অপরাধ করেছে। যারা পড়াশোনা করে চাকরির জন্য হন্য হয়ে ঘুরছে তারা কি দোষ করছে। যারা দিন মজুর তারা কি অপরাধ করছে। যদি কোনো ভাতা চালু করেন তাহলে দেশের সকল জনগনের কথা চিন্তা করে চালু করবেন। আর তেলুয়া মাথায তেল না দিয়ে যাদের মাথায় তেল নাই তাদের মাথায তেল দেওয়ার ব্যাবস্থা করুন। তাহলেই এই সরকার চিরস্থায়ী ভাবে থাকতে পারবে। মুক্তিযোদ্ধাদের দিচ্ছেন ঠিক আছে কিন্তু যাদের বেতন ডাবল করে দিছেন তাদের কথা না ভেবে সাধারন জনগনের কথা ভাবুন আর বেকারদের কথা ভাবুন তাহলেই এইদেশের উন্নতি সাধন হবে। কোন ভুল কথা বললে ক্ষমা করে দিবেন।
    Total Reply(0) Reply
  • মোঃ হাফিজুর রহমান ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১:১৩ পিএম says : 0
    এই মহৎ কাজকে স্বাগত জানাই পাশাপাশি বেসরকারী চাকুরিজীবীরা ও যেন এর আওতায় চলে আসতে পারে সেই উদ্বোগ সরকার কেই নিতে হবে কান এইটা একটা সার্বজনীন উৎসব আমরা চাই না এই উৎসব এর আনন্দ থেকে কেউ বঞ্চিত হোক
    Total Reply(0) Reply
  • Aminul ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ২:৪২ পিএম says : 2
    It's really a good news.
    Total Reply(0) Reply
  • রিমন আহমদ চৌধুরী ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১০:৫৪ পিএম says : 3
    বিশ্বজয়ী বঙ্গকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার এই মহতি উদ্দ্যোগ কে স্বাগত জানাই।
    Total Reply(0) Reply
  • এ,কে,এম,নূরুন্নবী ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ৮:৩৮ এএম says : 0
    সরকারি বেসরকারি ও অবসর প্রাপ্তদেরকে ঈদের মত বোনাস দোওয়া উচিৎ। ৫% অথবা ১০% বোনাস দেয়া না দেয়ার সমান। তাই সরকারকে অনুরোধ করব যদি সম্ভব হয় তবে ঈদের মত বোনাস দিন।তা না হলে বোনাস দেয়ার প্রয়োজন নেই।
    Total Reply(0) Reply
  • মনিরুল আলম ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১০:২২ পিএম says : 0
    মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অসংখ্য ধন্যবাদ ।দয়া করে সরকারী বেসরকারী সবার দিকে লক্ষ্য রাখবেন ।
    Total Reply(0) Reply
  • Mahmud Billah ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ৩:১১ পিএম says : 0
    বার বার shorkari kormokortar বেতন ভাতা না বাড়িয়ে লক্ষ লক্ষ বেকারের কর্মসংস্থানের বেবস্থা করা houk.
    Total Reply(0) Reply
  • Mohammed Abdul Hadi Chowdhury ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ২:১৪ এএম says : 0
    Dear all, Please note that the proposal of "Bijoy Dibosh" allowance will be effective because- proposal of the govt. employee, for the govt. employee, by the govt. employee. The decision of ‘cabinet of ministry’ or any other body or office will be due to system only. If, we have to pay "Bijoy Dibosh" or "Boishakhi" allowance then why not for all citizen of Bangladesh. Or these two dibosh (day) for govt. employee only. Here, I like say that I have seen one school had paid "Boishakhi" allowance by arranging an urgent meeting of managing committee. So far, I know from my experience such proposal raised by a vested people to pocket some more money. If, such proposal rose from the view of patriotism or from the spirit of liberation war then it was supposed to be for every citizen of the country. In other word, if patriotism or the spirit of liberation war really work behind the proposal of such allowance then it was supposed to be proposed to stop crime, ensure democracy etc. (to mean it). If, it could not be for all (সার্বজনীন) by paying a certain people only. So, I sincerely request honorable prime minister to stop both allowance or pay to every citizen.
    Total Reply(0) Reply
  • ফরহাদ আহম্মেদ ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ৬:৪২ পিএম says : 0
    বেসরকারী শিক্ষকদের কি দেওয়া হবে ?
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।