Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২১, ০৯ মাঘ ১৪২৭, ০৯ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

গুলি করার পর নড়ে উঠলেই গলা কেটে হত্যা করা হয়

সেনাবাহিনীর বর্বর নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন রোহিঙ্গা যুবক আজিজ

ইনকিলাব ডেস্ক: | প্রকাশের সময় : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার কারণে কয়েক লাখ মানুষ বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। আব্দুল আজিজ মিয়ানমারের সেনাবাহিনী কর্তৃক নির্যাতনের শিকার হন। বিবিসি বাংলার কাছে বর্ণনা করেছেন সেখানকার পরিস্থিতি এবং নির্যাতনের কথা। আব্দুল আজিজের কথা হবহু বর্ণনা করা হল। সেদিন ছিল বুধবার। বিকেলে আসরের নামাজ পড়তে বের হয়েছি। সেসময় আমাকে ধরে নিয়ে যায় সেনাবাহিনী। আমার বাড়ি রাখাইনের গারোতো বিলে। বাড়ি থেকে চোখ বেঁধে নিয়ে যায়, কোথায় নিয়ে যাচ্ছে কিছ্ইু বুঝে উঠতে পারছিলাম না। চোখ খুললে বুঝতে পারলাম আমাকে একটা গ্যারানের টেরায় যাকে বলা হয় গোয়াল ঘরে নিয়ে রাখা হয়েছে। দেখলাম ঘরভর্তি মানুষ। আমার মতই তাদেরকেও ধরে নিয়ে আসা হয়েছে। সেখানে আমাদেরকে নিয়ে গরুর রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে। যখন বেঁধে রেখেছিল তখন দুইজন পাহারা দিয়েছে, কারোর বের হওয়ার সুযোগ ছিল না। প্রচÐ মারধোর করে আমাকে। তারা মিয়ানমারে ভাষায় বলছিলো ‘লো কালা’ অর্থাৎ তোরা আমাদের দেশি না, তোরা বাঙ্গালি, তোরা ওখানেই চলে যা। আমার সামনে কয়েকজনকে গলা কেটে হত্যা করছে আবার কাউকে কাউকে গুলি করে মেরেছে। বিবিসি বাংলার ফারহানা পারভীনের সাথে তিনি এসব কথা বলেন। গুলি করার পর তখনো যদি সে নড়তে থাকে তাহলে তাকে গলা কেটে হত্যা করে। পাহারাদাররা যখন দরজা থেকে সরে গেছে তখন তাদের অবস্থান দেখে আমি পালিয়ে আসি। আমাকে ধরে নিয়ে গেছিলো আসরের সময় আর আমি পালিয়ে আসি এশার সময়। আমি যখন ওইখান থেকে বের হয়ে আসি তখন যাদেরকে তখনো হত্যা করেনি তাদের সবার হাত পা বাঁধা ছিল। এর পর কি করেছে আমি জানি না। আমি যখন এসেছি তখনো ঐখানে অনেক মানুষ ছিল, শুধু ছিল পুরুষ মুসলিম, কোন মহিলা ছিল না। আমি যখন বাড়ি ফিরে আসি তখন দেখি আমার ঘর আগে যেরকম ছিল সেরকম আর নেই। আমার বাড়ি বোমা মেরে জ্বালিয়ে দিয়েছে নাকি ম্যাচের আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছে সেটা আমি জানি না, কিন্তু আমার প্রতিবেশীরা বলেছে বোমা মেরে জ্বালিয়ে দিয়েছে। এর পর থেকে আমার মা বাবার সাথে দেখা হয়নি। ওখানে মুসলিমের কোনো দাম নাই, খাবার পানি দেয় না। ভয়ে আতঙ্কে আমার গলা শুকিয়ে আসছিল। বন্দি অবস্থায় দুই আড়াই ঘণ্টা ছিলাম তখন অন্যদের জিজ্ঞাসা করেছি এখানে কোনো খাবার পানি দেয় কিনা, তারা বলেছে কোনো খাবার বা পানি দেয় না। ঐখানে আমার মতো যুবক যারা ছিল তাদেরকে আগেই ধরে নিয়ে গেছে, তাদেরকে মেরে ফেলেছে, কেটে ফেলেছে। এর পরে ওখানে বেঁধে রাখা কতগুলো আছে। ওখানে যুদ্ধ করছে এমন কোনো রোহিঙ্গা আমরা পাইনি। ওখানে যুদ্ধ করার মতো লোক আছে বলে আমার মনে হয় না। বিবিসি।



 

Show all comments
  • masum munsi ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১২:১৯ পিএম says : 0
    মোনে করছিলাম ওরা শান্তি প্রিয়, এখন দেখছি ওরা ইবলিশ শয়তানকেও হারমানাইছে
    Total Reply(0) Reply
  • নিজাম ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১২:২০ পিএম says : 0
    মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বর্বরতা ইতিহাসের সকল বর্বরতাকে হার মানাবে।
    Total Reply(0) Reply
  • Md Polash ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১:১৭ পিএম says : 0
    হে আললাহ তুমি মুসলিম দের রক্ষা কর
    Total Reply(0) Reply
  • মনির ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১:২৭ পিএম says : 0
    লাখ লাখ রোহিঙ্গা রাষ্ট্রহীন থাকবে! এটা তো মানবতাবাদি বিশ্বের জন্য চরম অপমানকর বিষয়।
    Total Reply(0) Reply
  • Fatima ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১:৩১ পিএম says : 0
    Ya Allah , tumi tader sahajjo koro,tumi chara ei mojlum manush gula boro oshohay.
    Total Reply(0) Reply
  • Montaha Akter Mim ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১:৪৫ পিএম says : 0
    হে আল্লাহ সকল মুসলিম কে হেফাজ করুন। আর ইহুদীদের হেদায়ত দান করুন।
    Total Reply(0) Reply
  • নাহিদা সুলতানা ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১:৫৫ পিএম says : 0
    কি বলবো দুঃখের কথা, আজোও গেলো মনের ব্যথা হে আল্লাহ তুমি একমাত্র পারো ফিরাউনের মতো সুচি কে পানিতে চুবাইয়া মারতে।
    Total Reply(0) Reply
  • সম্রাট ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১:৫৬ পিএম says : 0
    হায় মানবতা তোমাকে আমি খুজে ফিরি ওমরের সেই শাসনকাল। কবে আসবে তুমি
    Total Reply(0) Reply
  • ইকবাল ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১১:২৩ পিএম says : 0
    ভারতের সহযোগিতা কি সুচির সাথে?
    Total Reply(0) Reply
  • saleem ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১০:০৫ পিএম says : 0
    Insha Allah, ALLAH WILL KILL ALL ...... VERY NEAR
    Total Reply(0) Reply
  • শাহীন ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১:১৪ এএম says : 0
    অবাক হই মুসলিম বিশ্বের চরম মৌনতা দেখে। আজও পর্যন্ত মুসলিম দেশগুলোর কোনো জোরালো ভূমিকা দেখতে পেলাম না। ইসরাইলের একজন ইহুদী মারা গেলে আমেরিকা অস্থির হয়ে যায়, মায়ানমারে আজ হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে পুড়িয়ে, গলা কেটে, গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে, ৯০ শতাংশ নারী ধর্ষিত হচ্ছে, লক্ষ লক্ষ মানুষ বিতাড়িত, কিন্তু মুসলিম চুপ, বিশ্ববিবেক চুপ!!
    Total Reply(0) Reply
  • SUMON ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১১:৪৪ পিএম says : 0
    হাই হাই আর কত আল্লাহ। হে আমার রব আর সইতে পারছি না তো এ সব। আল্লাহ তুমি সাহায্য করো ওদের।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ