Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৭, ০৯ কার্তিক ১৪২৪, ০৩ সফর ১৪৩৯ হিজরী

নেতাকর্মীদের জন্য আসছে নতুন বার্তা

অক্টোবরে দেশে ফিরছেন বেগম খালেদা জিয়া

হোসাইন আহমদ হেলাল : | প্রকাশের সময় : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম কালেদা জিয়া অক্টোবরেই দেশে ফিরছেন। নেতা-কর্মী-সমর্থকরা অপেক্ষার প্রহর গুনছেন তাদের জন্য অবশ্যই নতুন বার্তা নিয়ে আসছেন তিনি। এনিয়ে সর্বত্রই জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। প্রায় দশ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটির নেতা-কর্মী সমর্থকরা মামলা-হামলা, নির্যাতন, ঘুম-খুনের আতঙ্ক মাথায় রেখেও আশায় বাঁধ ধরে রেখেছেন। আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হলে তারা আবারও ক্ষমতায় আসবেন। তাদের দাবী এ মূহুর্তে বিএনপি জন প্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে। এসব নেতা-কর্মী সমর্থকরা আশা করছেন বেগম খালেদা জিয়া দেশে ফিরেই তাদেরকে দিক নির্দেশনা মূলক সুনির্দিষ্ট কর্মসূচী দিবেন। যদিও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া লন্ডন সফরকালেই দলের ৩৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে ভিন্ন মাত্রায়। প্রতি বছর আলোচনা সভা ও প্রতিষ্ঠাতা সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পনের মধ্যে দিয়ে এ দিনের কর্মসূচী সীমাবদ্ধ থাকলেও এ বছর ভিন্নতা এনেছে সংগঠনটি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এ সময়কে “গণতন্ত্রহীন” বিবেচনা করে নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে গণতন্ত্র ফেরানোর লক্ষ্যে এ বছরের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে দলটি দেশ-বিদেশে সভা-সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, পোষ্টারিং, লিফলেট ও বই বিতরণ করেছে। এছাড়া গত জুলাই মাস থেকে শুরু হওয়া দু’মাসের দলের সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম আরও এক মাস বেড়েছে। এ কারণে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর মাস সেপ্টেম্বর ও তা অব্যাহত রয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার লন্ডন সফর এবং তাঁর দেশে ফেরা নিয়ে সরকারীদলসহ বিভিন্ন মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা থাকলেও চোখ ও পায়ের চিকিৎসা শেষ না হওয়ায় এ মাসেও তাঁর দেশে ফেরার সম্ভাবনা নেই। অক্টোবরের যে কোন দিনেই তিনি দেশে ফিরবেন এমনটি আশা করছেন দলের দায়িত্বশীল নেতারা দলের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, সাংগঠনিক কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছাড়াও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সূষ্ঠ করার লক্ষ্যে সহায়ক সরকারের রূপরেখা কূটনৈতিক তৎপরতা, বিগত সরকার বিরোধী আন্দোলনের মত কোনো পরিস্থিতি তৈরি না করেই সমসাময়িক ইস্যুগুলো নিয়ে সরকারের ওপর চাপ তৈরি করা, বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহে সরকার যে অস্বস্তিতে বা চাপে রয়েছে-সেটির পূর্ণ সদ্ব্যাবহার করে দাবী আদায়ের স্বার্থে ক্ষমতাসীনদের আরো বেশি চাপে রাখার পাশাপাশি সাংগঠনিকভাবে ও শক্তিশালী হওয়ার ওপর জোর দেবে এমন কর্মসূচীই দেবেন বেগম খালেদা জিয়া।
১৯৯১ সালের পর বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নতূন যুগে বিএনপি এরই মধ্যে তিনবার ক্ষমতাসীন হয়ে দেশ-পরিচালনার অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হয়েছে। দু’বার জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা লাভ করলেও দল নিরপেক্ষ তত্ত¡াবধায়ক সরকারের অধীনে না হওয়ায় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। এরপর নির্বাচনকালীণ সহায়ক সরকারের দাবীতে দেশে গণতন্ত্র পূনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অনড় রয়েছে বিএনপি। দীর্ঘপ্রায় দশ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটি ৩৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে এসে একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে দাড়িয়ে সুযোগ খুঁজছে ঘুরে দাড়ানোর। আগামী জাতীয নির্বাচনকে ঘিরেই এখন দলটির সব রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অবশ্য নির্বাচনকালীণ সহায়ক সরকার নিয়ে কোনো সংঘাত চায় না বিএনপি। কারণ বিএনপি মনে করছে আগামী নির্বাচন যদি সুষ্ঠু হয় তাহলে তাদেরই ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা বেশী। এখন বিএনপির সব মনোযোগ কীভাবে আগামী নির্বাচন কে সুষ্ঠু করা যায় সেদিকে। অবশ্য বিএনপি মহা-সচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের সাথে ঈদ-উত্তর শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এ বিষয়ে স্পষ্ট করে বলেছেন সহায়ক সরকার ইস্যুতে বিএনপি কোন সংঘাত চায় না। তাঁরা সংলাপ-সমঝোতার মাধ্যমে এ সমাধান চান। বিএনপি মহা-সচিব দলের অবস্থান তুলে ধরে বলেছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে হলে অবশ্যই শেখ হাসিনা কে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হবে। নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙ্গে দিতে হবে এর কোন বিকল্প নেই। তিনি বলেন, দলের চেয়ারপার্সন লন্ডন রয়েছেন, দেশে ফিরেই সহায়ক সরকারের রূপরেখা সহ নানা কর্মসূচী ঘোষণা করবেন। তিনি আরও বলেন, ক্ষমতাসীনদলের নেতারা অনেক কথাই বলেছেন-বলবেন। নির্বাচনের সময় এগিয়ে আসলে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে তারা আমাদের এ দাবী মানতে বাধ্য হবে। কারণ তাদের বর্তমান সরকারের কোনো বৈধতা নেই। তারা তাদের বৈধতার জন্য মরিয়া হয়ে উঠছে।
বিএনপি বর্তমানে যে খারাপ অবস্থায় রয়েছে সে বিষয় দলটির দায়িত্বশীল নেতারা মনে করেন এটা নতুন কিছু নয়। অতীতেও দলটি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছে। সফলও হয়েছে এবারও তারা ব্যর্থ হবে না।
বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক সাবেক ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাবেক এমপি শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি গতকাল মঙ্গলবার ইনকিলাবকে জানান, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া অক্টোবরের যে কোন দিনেই দেশে ফিরছেন। লন্ডন সফর কোন রাজনৈতিক নয়, এটি বেগম খালেদা জিয়ার একান্ত ব্যক্তিগত সফর। লন্ডনে খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা আছেন, তাছাড়া তিনি চিকিৎসার জন্যই অবস্থান করছেন। প্রথমে চোখের চিকিৎসা হয়েছে। এখন পায়ের চিকিৎসা চলছে। তার লন্ডন সফর নিয়ে কারো রাজনীতি করার সুযোগ নেই। এ্যানি চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার অবৈধ, তাদের কর্মকান্ড অবৈধ। তাই তারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আমরা চাই সুন্দর একটি নির্বাচন। শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক সহঅবস্থান। এটি দেশের জন্য উত্তম, সরকারীদলের জন্য ও উত্তম।
এক প্রশ্নের জবাবে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, গত দশ বছর বিএনপি ক্ষমতার বাইরে থাকলেও আমাদের কোন নেতা কর্মী আওয়ামীলীগে যোগ দেয়নি। বর্তমানে বিএনপি অতীতের তুলনায় অনেক শক্তিশালী হামলা-মামলা, গুম-খুন অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করেও দলে রয়েছেন। অনেক কর্মী এখন নেতা হয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের সদস্য সংগ্রহ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সদস্য সংগ্রহ অভিযান টার্গেট এর কাছাকাছি পৌঁছেছে। এ যাবত ৭০ লক্ষাধিক সদস্য তালিকাভূক্ত হয়েছে। এতে তৃনমূল পর্যায়ে দল অনেক শক্তিশালী হয়েছে। বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক বলেন, আমাদের ভিষণ-২০৩০-এর বক্তব্য নিয়ে সারা দেশে এ যাবত ৫ লাখ বই বিরতণ করা হয়েছে। আমরা এখনো আন্দোলনে আছি। আমরা চাই সরকার মামলা হামলা বন্ধ করে এখনই সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে সকল দলকে গণতান্ত্রিকভাবে কাজ করার সুযোগ করে দেবেন। আমাদের আন্দোলন অতীতেও শান্তিপূর্ণ ছিল, আগামীতেও শান্তিপূর্ণ থাকবে। সরকারই অতীতে আমাদের আন্দোলনকে নসাৎত করার জন্য তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন সময়ে আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান সহ সকল নেতা-কর্মীদের মিথ্যা ষড়যন্ত্র মূলক মমলা প্রত্যাহার করে সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ গ্রহণ করবে সরকার এটা আমাদের দাবী।
উল্লেখ্য একটি সূত্রে জানা গেছে, আগামী অক্টোবর মাসে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বাংলাদেশ সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ সফরকালে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।

 


Show all comments
  • কাঞ্চন ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১:৩৪ পিএম says : 1
    সেই অপেক্ষায় আছে পুরো দেশবাসী
    Total Reply(0) Reply
  • জুবায়ের ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১:৩৫ পিএম says : 0
    রোহিঙ্গাদের নিয়ে দেশ একটা ক্রাইসেসে আছে। এই সময় তার দেশে থাকা উচিত ছিলো।
    Total Reply(0) Reply
  • আজাদ ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ২:৪১ পিএম says : 0
    আমরা চাই সরকার মামলা হামলা বন্ধ করে এখনই সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে সকল দলকে গণতান্ত্রিকভাবে কাজ করার সুযোগ করে দেবেন।
    Total Reply(0) Reply
  • Md Ebrahim Rahman ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১১:৪১ পিএম says : 0
    নেত্রী চিকিৎসা করেই দেশে ফিরবেন
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর