Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০, ২৭ চৈত্র ১৪২৬, ১৫ শাবান ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

রোহিঙ্গা ইস্যুতে সু চি’র বক্তব্য ভাঁওতাবাজি -এরশাদ

রংপুর জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ৩:১০ পিএম | আপডেট : ৪:২৮ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের যাচাই-বাছাইয়ের পর ফেরত নেওয়া হবে বলে সু চি যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা ভাঁওতাবাজি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ।

আজ রবিবার সকালে নগরীর দর্শনা এলাকায় নিজ বাসভবন পল্লী নিবাসে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

আসন্ন রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলীয় মেয়র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাতে ব্যক্তিগত সফরে রংপুরে আসেন এরশাদ। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির প্রার্থীর নাম অনেক আগেই ঘোষণা করা হয়েছে। সে কাজ করছে। মূলত নিজের ও মেয়র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাতে এবার রংপুর এসেছি।

গত ২৪ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে কয়েকটি পুলিশ পোস্টে হামলার জের ধরে রোহিঙ্গাদের দমনে অভিযান শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। তাদের সঙ্গে রাখাইন সন্ত্রাসীরাও অভিযানে অংশ নেয়। অভিযানের নামে রোহিঙ্গা মুসলিমদের গণহত্যা, জুলুম, নিপীড়ন ও ঘর বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। নির্যাতন থেকে বাঁচতে চার লাখের মতো রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় বলে জাতিসংঘের ভাষ্যমতে জানা যায়। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা আশ্রয়কেন্দ্রে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।

রোহিঙ্গাদের ওপর বর্মি সেনাদের বর্বর হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপের মুখে পড়ে মিয়ানমার। বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আলোচনা হয়।

আন্তর্জাতিক চাপে মিয়ানমার ভীত নয় বলে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে সু চি জানালেও পরে আরেক বক্তব্যে কিছু শরণার্থীকে যাচাই বাছাই করে ফেরত নেওয়ার কথা জানান সু চি।

এ প্রসঙ্গে এরশাদ বলেন, সু চি বলেছে, আমরা বেছে বেছে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেব। কিন্তু তাদের চিহ্নিত করবে কিভাবে? তাদের তো আইডি কার্ড নেই, ভিসাও নেই। সুতরাং তাদের চেনারও উপায় নেই।

জাপা চেয়ারম্যান বলেন, রোহিঙ্গাদের নিয়ে আজ বিশ্ব বিবেক নাড়া দিয়েছে। অনেকেই মনে করেন তাদের ফিরে যাওয়া উচিত। কিন্তু আমার মনে হয় সেটা হবে না। হয়তো মিয়ানমার সরকার তাদের ফেরত নেবে না। এই ভার আমাদের বহন করতে হবে।

মিয়ানমার থেকে আসা এতো রোহিঙ্গাকে খাবার ও আশ্রয় দেওয়া অনেক বড় কঠিন কাজ বলেও মন্তব্য করেন এরশাদ।

এর আগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করে সড়ক পথে নগরীর দর্শনা এলাকায় নিজ বাসভবনে তিনি পৌঁছালে দলের নেতাকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।

এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা, জেলা জাপার আহ্বায়ক মোফাজ্জল হোসেন মাস্টার, মহানগর জাপার সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসিরসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ