Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৭, ০৮ কার্তিক ১৪২৪, ০২ সফর ১৪৩৯ হিজরী
শিরোনাম

আল-কুরআনে নৃবিজ্ঞানের তাত্তি¡ক বিশ্লেষণ

মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান | প্রকাশের সময় : ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
মার্কস শ্রেণী সংগ্রামের জনক বলে তিনি ধর্মকে অলীক কল্পনা বা ভাবাদর্শ হিসেবে অভিহিত করেছেন। কারণ তিনি মনে করেন, এই ধর্মচেতনা মালিক শ্রেণীর স্বার্থসংরক্ষণ করে বা সমাজে বিরাজমান অসমতাকে টিকিয়ে রাখে। ইসলাম ধর্মে তো শ্রমিকের ঘাম শুকিয়ে যাওয়ার পূর্বে মজুরের মজুরি দিয়ে দেয়ার উপর অধিক গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ক্ষুদ্র একটি বস্তুর মূল্যকে অন্যায়ভাবে গ্রাস না করার কঠোর নির্দেশ কুরআন ও হাদিসে রয়েছে। সেজন্য মালিক শ্রেণি শোষক ও অসমতা সৃষ্টিকারী হবে- এটি ইসলাম ধর্মের বিধানের বিরোধী।
ধর্মীয় পুনর্জাগরণবাদে (জবারাধষরংস) ধর্মের প্রতি ব্যাপক আবেগাশ্রিত আনুগত্য প্রকাশ করা হয়। এটি ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের (ঝবপঁষধৎরংস) বিপরীত প্রক্রিয়া। বৌদ্ধ ওকনফুসিয়ান ধর্মে যে ঈশ্বরের ধারণা নেই, এটি এই দুটো ধর্মের দুর্বলতা। অপার্থিব জগৎ থেকে পার্থিব জগতে ধাবিত হওয়ার আন্দোলনকেই ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ বলা হচ্ছে। মানবমনের মধ্যে এক স্রষ্টার ধ্যানকে সংরক্ষিত রেখেই পৃথিবীর কার্যক্রমকে সৎ ও ন্যায়ভাবে পরিচালিত করা যায়; সেজন্যে ধর্মনিরপেক্ষতার প্রয়োজন পড়ে না। ১৯২০ সালের পর থেকে খ্রিষ্টীয় প্রোটেস্ট্যান্ট ধর্মের ক্ষেত্রে মৌলবাদ শব্দটি প্রথম ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। এখন ইসলাম ধর্মের ক্ষেত্রে মৌলবাদ শব্দটিকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ইসলামের নেতিবাচকতাকে দেখানোর জন্য প্রয়োগ করা হচ্ছে। কালেমা, নামায, রোযা, হজ্জ এবং যাকাত হলো ইসলামের পঞ্চস্তম্ভ। এক আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ স. আল্লাহর রাসূল এই কালেমাটি হলো ইসলামের মূল চাবিকাটি। এক আল্লাহকে উপার্স হিসেবে মানার উপরে এবং তার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নবী স. এর পদাঙ্ক অনুসরণ করে কাজ করার মধ্যেই ইসলামের মর্মদর্শন নিহিত। পাঁচ ওয়াক্ত নামায ছাড়া ফজর নামায পর ইশরাক, দোহা, মাগরিবের পর আওয়াবিন এবং এশার পর মধ্যরাতে তাহাজ্জুদ নামায পড়াও ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ নফল এবাদতের মর্ধে পরিগণিত। সকাল সন্ধ্যা অথ্যাৎ আসলে সর্বসময়ই তাসবিহ পাঠের কথা কুরআনে বলা হয়েছে। কুরআনে আল্লাহ তাআলঅ বলেছেন, আমি মানুষ ও জ্বীনকে আমার ইবাদত ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করি নাই। সেজন্য ইসলামে সার্বক্ষণিক ইবাদত কার্যকর। সামর্থ্যবান ধনীরা হজ্জ করবেন। যাকাতের নিসাব পরিমাণ মারৈর অধিকারীরা যাকাত দেবেন। মানবতাকে সেবা করার জন্য এটি ইসলামের ফরজ বিধান। মানুষতো দূরের কথা কোন একটি পশুকে ও অন্যায়ভাবে হত্যা করা ইসলাম সমর্থন করে না। মানুষ ও প্রাণীর সেবা করাও ইসলামে ইবাদত। সেজন্য ইসলামকে বলা হয় মানবতাধর্মী ধর্ম। সে কারণে, ইসলামের অনুসারীরা কল্যাণকর্মী মানবসাধক ও এক আল্লাহর ইবাদতকারী। তাদেরকে মৌলবাদী বলা তাত্তি¡কভাবে একটি ভুল সিদ্ধান্ত মানবীয় ও ধর্মীয় সংস্কৃতিরও এটি বিরোধী বলে আমি মনে করি।
নিয়তিবাদ মানুষকে শোষণ, অত্যাচার ও অনুন্নত অবস্থায় নিপতিত করে বলে কোন কোন সমাজবিজ্ঞানী ধর্মের নিয়তিবাদকে কর্মবিমুখতার নামান্তর বলেছেন। কোনো কোনো ধর্ম মানুষের মধ্যে হয়ত নিয়তিবাদ সৃষ্টি করতে পারে; কিন্তু ইসলাম ধর্ম তো কর্মপ্রাণতার ধর্ম। ইসলাম ধর্মের মধ্যে বিশ্বাস ও সৎকর্মকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সেজন্য ম্যাক্স ওয়েবার (ওয়েবার) লিখেছেন, কোন ধর্ম পারলৌকিক মুক্তির উপর অতিরিক্ত জোর দিয়ে জাগতিক জীবনে যুক্তিবদ্ধতায় বাধাপ্রদান করে, তা ইসলামের ধর্মের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কারণ, দুনিয়া ও পরকালে উভয়ের জন্য কল্যাণ প্রার্থনা করতেই কুরআন শরীফে মুসলমানদেরকে শেখানো হয়েছে। কার্ল মার্কস যে লিখেছেন, জবষরমরড়হ রং ঃযব ংরময ড়ভ ড়হব ড়ঢ়ঢ়ৎবংংবফ পৎবধঃঁৎব তা ইসলাম ধর্মের জন্য সত্য নয়; মানুষকে কষ্ট দেয়া দূরের কথা; কোনো মানবেতন প্রাণীকেও অযতা অন্যায়ভাবে কষ্ট দেয়া ইসলাম সমর্থন করে না।
জ্ঞান, যুক্তি ও বুদ্ধির স¤প্রসারণশীলতার মাধ্যমে মানবজীবন যাত্রার ক্রমাগত উৎকর্ষ ও সমাজে নিরন্তর অগ্রগতি সাধনের ধারণাই প্রগতির মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। সংজ্ঞা বা অনুধ্যান (ওহঃঁরঃরড়হ) এবং যক্তি মননকে সাথি করে মানবিক কল্যাণকায়ন ধারণাকে প্রগতিবাদ হিসেবে ইসলাম ধর্ম খুবই গুরুত্ব দেয়া হয়। আধুনিকায়ন তত্তে¡র (গড়ফবৎহরংধঃরড়হ ঞযবড়ৎু) মূল কথা হলো আধুনিক সমাজ সৃষ্টির প্রক্রিয়ার উপর গুরুত্ব আরোপ করা। ফরাসি বিপ্লব ও শিল্প বিপ্লবের পর ইউরোপে আধুনিকায়নের প্রক্রিয়া দ্রুত স¤প্রসারিত হয়। বিংশ শতাব্দির দ্বিতীয়ার্থে এবং অনেকের মতে সত্তরের দশকে পশ্চিমাবিশ্ব উত্তর-আধুনিক যুগে প্রবেশ করেছে। (চলবে)

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।