Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার ১৯ মে ২০১৯, ০৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৩ রমজান ১৪৪০ হিজরী।

ভালুকায় সোয়েটার কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ : মহাসড়ক অবরোধ

পুলিশের সাথে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

| প্রকাশের সময় : ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

ভালুকা (ময়মনসিংহ) উপজেলা সংবাদদাতা : ময়মনসিংহের ভালুকায় শ্রমিকদেরকে মারপিট ও জোরপূর্বক অব্যাহতিপত্রে স্বাক্ষর নেয়ার অভিযোগে মিলের শ্রমিকরা গতকাল বুধবার সকালে সাড়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এ সময় পুলিশের সাথে শ্রমিকদের থেমে থেমে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। স্থানীয়রা সাংবাদিকরা মিলের ভেতরে শ্রমিক আটকিয়ে রাখার অভিযোগে ভেতরে ঢুকতে চাইলে ভাড়াটিয়া গুন্ডা বাহিনী ও মিলের নিরাপত্তা কর্মীরা তাদেরকে ভেতরে ঢুকতে দেয়নি। আন্দোলনরত শ্রমিক নেতা সোহেল সহ ১০/১৫জন শ্রমিক গুন্ডা বাহিনীর হামলার শিকার হয়েছেন বলে শ্রমিকরা দাবি করেন।
শ্রমিক ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাহ্দীন সোয়েটার লিঃ জ্যাকার মেশিন এনে পর্যায়ক্রমের শ্রমিক ছাঁটাই, উপযুক্ত মজুরি,স্থানীয় প্রভাবশালী সালাহ উদ্দিন তাঁর গুন্ডা বাহিনী দিয়ে মিলের শ্রমিকদেরকে মারপিট ও জোরপূর্বক অব্যাহতিপত্রে স্বাক্ষর নেয়ার অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার থেকে শ্রমিকরা আন্দোলন শুরু করে। শ্রমিকদেরকে কোন কিছু না জানিয়ে মিল কর্তৃপক্ষ হঠাৎ করে গত রোববার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত মিল গেইটে নোটিশ ঝুলিয়ে দেয়। বুধবার শ্রমিকরা কাজে যোগদান করতে আসলে কিছু শ্রমিক মিলে ঢুকার পর মিল গেইটে স্থানীয় সন্ত্রাসী দিয়ে শ্রমিকদের কাছ থেকে অব্যাহতি পত্র স্বাক্ষর নেয়ার খবর মিলের বাইরে ছাড়িয়ে পড়লে শ্রমিকরা আন্দোলন শুরু করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের আবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়ে শ্রমিকদেরকে মহা সড়ক থেকে সড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সাথে থেমে থেমে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এ সময় পুলিশ শ্রমিকদের উপর কোন প্রকার লাঠিচার্জ অথবা টেয়ারসেল নিক্ষেপ করেনি। এলাকায় এখনো পর্যন্ত উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য দুপুরের দিকে শিল্প পুলিশের সাথে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে।
আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, ৪০/৫০জনের ভাড়াটিয়া গুন্ডা বাহিনীকে লোহার রড, লাঠি, স্টিলের পাইপ নিয়ে মিলের পিছনের গেইট দিয়ে ঢুকানো হয়। মিলের ভেতরের বিদ্যুৎ লাইন ২ঘণ্টার জন্য বন্ধ করে দিয়ে গুন্ডারা মিলের ভেতরের শ্রমিকদেরকে মারপিট করে তাদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। যাতে তারা বাইরে যোগযোগ করতে না পারে। তারা যখন রাস্তার আন্দোলন কর ছিল ঠিক তখন মিলের ভেতর আটকা পড়া শ্রমিকরা ৩/৪তলা থেকে জানালা দিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করার জন্য ইশারা দেয়।
ভালুকা শিল্প পুলিশের এএসপি আমিনুল ইসলাম জানান, শ্রমিকদের কিছু দাবী আছে তাদের সেই দাবির প্রেক্ষিতে তারা আন্দোলন করছে। আমি মিল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। যদি শ্রমিকরা কাজ করতে চায় তাহলে কাজ করতে পারবে। শ্রমিকরা কাজ না করে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ