Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার ২২ এপ্রিল ২০১৯, ৯ বৈশাখ ১৪২৬, ১৫ শাবান ১৪৪০ হিজরী।

দুদিনের মধ্যে রোহিঙ্গাদের এলাকা ছাড়তে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মাইকিং

| প্রকাশের সময় : ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

মুহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান, টেকনাফ থেকে : মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এবার দু-দিনের সময় দিয়ে মংডু শহরের রোহিঙ্গা মুসলমানদের দেশ ছাড়তে মাইকিং করেছে জানিয়েছেন ফের পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা। এছাড়া মাইকিং করার পাশাপাশি ছোট ছোট গ্রামগুলোতে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে সেনাবাহিনী।
গত ২৪ আগষ্ট মিয়ারমারের পুলিশ চৌকিতে হামলার পর থেকে রাখাইন রাজ্যের বুচিদং ও রাচিদং মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও অগ্রবৌদ্ধরা রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর পোড়ানোর পাশাপাশি গণহত্যা, ধর্ষণ, অত্যাচার-নির্যাতন চালায়। এরপর থেকে প্রাণে বাঁচতে অক্ষত থাকা মংডু এলাকার গ্রামগুলো আশ্রয় নেয় এবং অনেকে পালিয়ে আসে বাংলাদেশে। আগামী শনি ও রোববার দুদিনের মধ্যে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের মংডু ছেড়ে না গেলে আগুনে পুড়িয়ে ও গুলি করে মেরে ফেলা হবে বলে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
মিয়ানমার পালিয়ে আসা মিয়ানমার সীমান্তবর্তী শাহপরীরদ্বীপ এলাকায় অবস্থান নেওয়া রোহিঙ্গা ও উখিয়ার কুতপালং, বালুখালী, পালংখালী এলাকা ঘুরে শরণার্থীদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে ।
তাদের ভাষ্যমতে, মাইকিং করে বলা হচ্ছে, মিয়ানমার তোমাদের দেশ নয়। তোমরা বাঙালি। তোমাদের দেশ বাংলাদেশ। অন্যন্য এলাকার রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে। তোমরা মিয়ানমার ছেড়ে চলে যাও। না গেলে তোমাদের পুড়িয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হবে। এজন্য তারা দলে দলে প্রাণ বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে। মিয়ারমারের মংডু বমো পাড়ার বাসিন্দা মো: কামাল বলেন, মাইকিং করে চলে যেতে বলছে। আবার অতর্কিত এসেও ঘরে আগুন দিচ্ছে, গুলি করছে। বার্মার মগ ও সেনাবাহিনী যা ইচ্ছা তাই করছে। তাই প্রাণে বাঁচতে স্বপরিবারে নিয়ে ১ লাখ টাকার বিনিময়ে শাহপরীরদ্বীপ এলাকার দালাল শামসুল আলম হাসুর মাধ্যমে বাংলাদেশ আসতে পেরেছি। তার জন্য আল্লাহর কাছে শুকুরিয়া করছি। তাদের সাথে আসা উকিলপাড়ার রশিদা বেগম সাথে কথা হলে সে জানায়, তাদের এলাকার “থাব্বে” দালাল জাবেদ এলাকার সেনাবাহিনীর সাথে (আরসা) নির্ধন করতে কাজ করতে হবে জানিয়ে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তাদের ১০ জনের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা করে মুক্তিপল আদায় করার পর তাদের ছেড়ে দিলেও ১৩ জনকে হত্যা করেছে সেনাবাহিনী। কিন্তু স্বামীর লাশ দেখার সেই সুযোগ পাইনি। দুই ছেলে ও দুই মেয়েসহ বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছি।
উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংতার শুরুর পর থেকে রাচিদং ও বুচিদংয়ে রোহিঙ্গাদের প্রায় দেড় শতাধিক গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ওই সময় দলে দলে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তখন প্রায় সাড়ে চার লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

 



 

Show all comments
  • Rahat ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ৩:৩২ পিএম says : 0
    ঘুমের মানুষ কে জাগানো যায়.আর যারা ঘুৃমের অভিনয় করেন তাদেরকে জাগানো যায়না.তেমনি জাতিসংঘ, আমেরিকা,ও বিভিন্ন তথা কথিত মানবাধিকার সংগঠনেরা দেখে ও ঘুমিয়ে আছে যেন কিচ্ছু হচ্ছে না. আর যদি মুসলিমজাতি না হয়ে অন্য কোন জাতি হতো তাহলে সবার ঘুম হারাম হয়ে যেত!! আল্লাহ তা’লা আমাদের মিয়ানমার মুসলিম মা, ভাই, বোনকে এই অত্যাচারী জালিম সুচির হাত থেকে রক্ষা করুন আমিন!!
    Total Reply(0) Reply
  • Ataur Rahman ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ৩:৩৫ পিএম says : 0
    মিয়ানমারের শক্তির জায়গাটা আসলে কোথায়?? জাতিসংঘের মতো একটি প্রতিষ্ঠানকে তারা পাত্তাই দিচ্ছে না!!!!!আমি বলবো এটা জাতিসংঘেরই ব্যর্থতা।
    Total Reply(0) Reply
  • Ibrahim Khan ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ৩:৩৭ পিএম says : 1
    আমি সারা বিশ্বের মোসলমানদের আহব্বান করতেছি জাতিসংঘকে পরিত্যাগ করতে। কেননা এরা কখনই মোসলমানদের সার্থে কোন সিদ্ধান্ত নিবেনা।আর এই জাতিসংঘেকে বানানই হয়েছে মোসলমনদের পায়ে শিকল পরানোর উদ্দেশ্যে।ইতিহাস খুঁজে দেখুন।
    Total Reply(0) Reply
  • Abu Bakar Siddik ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ৩:৩৯ পিএম says : 0
    মিয়ানমারে অতিসত্তর জাতিসঙ্ঘের শান্তি রক্ষি বাহিনী পাঠানো হোক
    Total Reply(1) Reply
    • ১ অক্টোবর, ২০১৭, ৯:৪৭ এএম says : 0
      ডাক্তার আসিবার পুর্বেই রুগি মারাগেলো..জাতিসঙ্ঘের ভুমিকাটা এমন মনে হচ্ছে যে, মুসলমান মেরে শেষ করার পর জাতিসঙ্ঘের বাহিনী পাঠানো হবে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য
  • Sajid ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ৩:৩৯ পিএম says : 0
    আমার মতে,যত দ্রুত সম্ভব আমাদের স্থায়ী সমাধানের দিকে এগুতে হবে।সামনে আরো ভয়াবহ বিপদ অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য।মানবিক বিবেচনায় রোহিঙ্গাদের অাশ্রয়,তাদের জন্য যথার্থ ত্রাণের ব্যবস্থা, চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে নাগরিকত্ব প্রদানের জন্য মিয়ানমারের উপর অান্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করাও একান্ত জরুরী।
    Total Reply(0) Reply
  • তামান্না ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ৩:৪১ পিএম says : 0
    আল্লাহ তুমি এই মানুষগুলোর প্রতি খাস রহমত নাযিল করো।
    Total Reply(0) Reply
  • Apurvo Ghosh ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ৩:৪৪ পিএম says : 0
    বিবেক যেখানে শূন্য ,মানবতার আর্তনাদ সেখানে পৌঁছে না ।এক নতুন বর্বর পৃথিবীর মানুষের সন্ধান পেলো মানব জাতি ।মানুষের জন্য মানুষ নয় ।অর্থের দাসত্বের জন্য মানুষ ।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মিয়ানমার


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ