Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার , ২৬ জানুয়ারী ২০২০, ১২ মাঘ ১৪২৬, ২৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

সরকারের ব্যর্থতা চীন ও রাশিয়াকে কনভিন্স করতে পারেনি : মির্জা ফখরুল

রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান

| প্রকাশের সময় : ১ অক্টোবর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : রোহিঙ্গাদের সংকট সমাধানে বাধ্য করতে মিয়ানমারের ওপরে প্রয়োজনে ‘নিষেধাজ্ঞা আরোপ’ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য জোরালো কুটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে। গতকাল (শনিবার) গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বাংলাদেশ বৌদ্ধ নাগরিক ঐক্যের প্রতিনিধিদের সাথে ২০ দলীয় জোটের এক মতবিনিময় সভায় তিনি একথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে সিদ্ধান্ত একটাই, মিয়ানমারকে বাধ্য করতে হবে রোহিঙ্গাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেয়ার জন্য। এজন্য প্রয়োজনে তাদের ওপরে নিষেধাজ্ঞা বা অ্যামবারগো আরোপ করতে হবে এবং সেটা কুটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের সরকারের ব্যর্থতাটা কোথায়? যে তারা এখন
পর্যন্ত চীন ও রাশিয়াকে সেভাবে কনভিন্স করতে পারেনি যে এখানে কি হচ্ছে, কেনো গণহত্যা বন্ধ করা উচিৎ, কেনো মিয়ানমারকে বাধ্য করা উচিৎ রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার জন্য। বন্ধুত্ব ‘একমুখী’ হয় না উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, মিয়ানমার সরকারের ওপর প্রচÐ চাপ সৃষ্টি করতে হবে আন্তর্জাতিকভাবে, কুটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদেরকে বাধ্য করতে হবে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার জন্য। দুর্ভাগ্য আমাদের যারা ঘনিষ্ঠ বন্ধু তারা মিয়ানমারের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে গেছে। কী চমৎকার আমাদের কুটনীতি, কী চমৎকার আমাদের বন্ধুত্ব সম্পর্ক। যাদেরকে সবচেয়ে ভালো বন্ধু বলে দাবি করছি, সর্বোচ্চ পর্যায় বলে দাবি করছি তারা এখন মিয়ানমার সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সভায় চীন ও রাশিয়ার ভুমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমি খুব অবাক হতবাক হয়ে গেছি। চীন ও রাশিয়ার কারণে সেখানে সিদ্ধান্ত হতে পারেনি। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নাই বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব।
তিনি বলেন, সরকারের কাছে আহবান জানাতে চাই, আমিত্বকে বিসর্জন দিন এবং হিপোক্রেসিকে বাদ দিয়ে সত্যিকার অর্থে দেশকে রক্ষার করার জন্য, এই সমস্যা সমাধান করবার জন্য আপনারা জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করুন। গণহত্যা বলেন, নিন্দা জানান এবং সেইসমস্ত দেশগুলোতে ডিপ্লোমেটিক মেন্যুভার করেন যেসব দেশগুলো মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে রোহিঙ্গা শরনার্থীদের করুন অবস্থা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, কোথাও কোনো সমন্বয় নেই। বহুদিন পরে সেনাবাহিনী দায়িত্ব নেয়ার পরে সেখানেও তারা বাঁধার সৃষ্টি করছে। ১৪ হাজার শেড নির্মান করা হবে। এর মধ্যে মাত্র ৪ হাজার নির্মানের দায়িত্ব সেনা বাহিনীকে দেয়া হয়েছে বাকীগুলো শুনেছি সরকার টেন্ডারের মাধ্যমে করবে, কিভাবে করবে আপনারা সহজেই বুঝতে পারেন। অথচ সেনাবাহিনীতে দিলে অতিদ্রæততার সঙ্গে এই কাজগুলো সম্পন্ন হতে পারতো। রোহিঙ্গা সমস্যা কোনো ধর্মীয় বিষয় নয় উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এটা সম্পূর্ণ একটা জাতিকে নির্মূল করার বিষয়। হিন্দু না মুসলিম সেটা ইমমেটেরিয়াল। মূল বিষয়টা হচ্ছে সেখানে একটা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠিকে তাদেরকে (রোহিঙ্গা) নির্মূল করা হচ্ছে। আমরা অন্য দেশের বিষয়ে মাথা ঘামাতে চাই না। আমাদের বিএনপির ঘোষণাপত্রে পরিস্কার করে বলা আছে আমরা কখনো কারো আভ্যন্তরীন ব্যাপারে নাক গলাতে চাই না, কথা বলতে চাই না। সেখানে আমরা কোনো হস্তক্ষেপ করতে চাই না। একই সঙ্গে আমরা এটাও চাই না, আমাদের অভ্যন্তরীন ব্যাপারে কেউ নাক গলাক। মিয়ানমারের এই ঘটনাকে আমরা আগ্রাসন বলছি, আমরা আক্রান্ত হয়েছি। এই ঘটনার ফলে আজকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের ওপর হুমকি চলে এসেছে। সরকারে ওই ঘটনার জন্য মিয়ানমারকে নিন্দা জানানো ও ওই ঘটনাকে গণহত্যা না বলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। বাংলাদেশকে ‘সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতি’র দেশ অভিহিত করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা ২০ দল সবসময় আপনাদের (বৌদ্ধ স¤প্রদায়ের) সঙ্গে আছি, আমরা প্রতিটি স¤প্রদায়ের পাশে আছি। আমরা ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাস করি। একই সঙ্গে আমরা প্রতিটি ধর্মের মানুষের তাদের যে অধিকার, সেই অধিকারকে নিশ্চিত করতে চাই। আমরা প্রতিটি নাগরিককে বাংলাদেশের নাগরিক বলে মনে করি। রোহিঙ্গাদের পাশে ত্রাণসামগ্রি নিয়ে দাঁড়ানোর জন্য বৌদ্ধ স¤প্রদায়সহ সকলের আহবানও জানান ফখরুল।
অনুষ্ঠানে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশ বৌদ্ধ নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক সুকোমল বড়ুয়া জানান, তারা অতিদ্রæত ১১ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের ‘শান্তি মিশন টিম’ গঠন করে মিয়ানমারের সেনা প্রধান ও দেশটির নেত্রী অংকসান সূচীর সাথে সাক্ষাৎ করবে। এছাড়া তারা রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জনমত গড়ে তুলতে ১১ দফা প্রস্তাবনাও উপস্থাপন করেন। এসবের মধ্যে আছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সংগঠনের সাথে মতবিনিময় এবং জেলা ও থানা পর্য়ায়ে মতবিনিময় অনুষ্ঠান।
মতবিনিময় সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ২০ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, ইসলামী ঐক্যজোটের অ্যাডভোকেট এম এ রকীব, খেলাফত মজলিশের প্রফেসর আহমেদ আবদুল কাদের, ন্যাপের জেবেল রহমান গানি, জাগপা‘র অধ্যাপিকা রেহানা প্রধান, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা মহিউদ্দিন ইকরাম বক্তব্য রাখেন। হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের গৌতম চক্রবর্তী, জন গোমেজ, বৌদ্ধ স¤প্রদায়েরর ম্যা মা চিং, সুশীল বড়ুয়া, উদয় কুমার বড়ুয়া, ঝন্টু কুমার বড়ুয়া প্রমূখ নেতৃবৃন্দও মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন। এই মতবিনিময় সভায় জোটে নেতাদের মধ্যে এনডিপি‘র খন্দকার গোলাম মূর্তজা, এনপিপি‘র ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ন্যাপ ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, জাগপা‘র খন্দকার লুৎফর রহমান, মুসলিম লীগের শেখ জুলিকার বুলবুল চৌধুরী, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ, ডিল‘র সাইফুদ্দিন মনি, পিপলস লীগের সৈয়দ মাহবুব হোসেন প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ