Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫, ১০ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌
শিরোনাম

মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে ধীরগতি

জি টু জি প্লাস

শামসুল ইসলাম | প্রকাশের সময় : ৩ অক্টোবর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

জি টু জি প্লাস প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে ধীরগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। দেশটিতে প্রচুর বাংলাদেশী কর্মীর চাহিদা রয়েছে। দীর্ঘ দিন দেশটিতে কর্মী প্রেরণ বন্ধ থাকায় ইতিপূর্বে দালালদের মাধ্যমে শত শত কর্মী অবৈধভাবে সাগরপথে মালয়েশিয়া গিয়ে অকালের প্রাণ হারিয়েছে। দালাল চক্রের খপ্পরে পরে কেউ কেউ থাইল্যান্ডের গভীর জঙ্গলে গণকবরে স্থান পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যাপক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর মালয়েশিয়া বাংলাদেশকে সোর্স কান্ট্রি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। গত মার্চ মাসের প্রথম দিকে জিটুজি প্লাস প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালু হয়। মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে স্বল্প সংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সি’র মাধ্যমে জিটুজি প্লাস প্রক্রিয়ায় কর্মী নিয়োগ শুরু হলে অভিবাসন ব্যয় কয়েকগুন বেড়ে গেছে। মালয়েশিয়া গমনেচ্ছু কর্মীদের চড়া অভিবাসন ব্যয় যোগাতে নাভিশ্বাস উঠেছে। ২০১৭ সালের মার্চ মাসের প্রথম দিকে সকল বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে বাদ দিয়ে মাত্র দশ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জিটুজি প্লাস প্রক্রিয়ায় কর্মী যাওয়া শুরু হয়। এনিয়ে জনশক্তি রফতানিকারকরদের মাঝে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়। অনেক বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি নিরুপায় হয়ে এসব সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জিটুজি প্লাসে দালালের ভূমিকায় কর্মী পাঠাতে বাধ্য হচ্ছে। গতকাল সোমবার পর্যন্ত প্রায় ৩৩ হাজার কর্মী এ প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থান লাভ করেছে। মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তারা এ যাবত লক্ষাধিক কর্মী নিয়োগের চাহিদাপত্র ইস্যু করেছে। আশি হাজারের বেশি চাহিদাপত্র হাই কমিশনের সত্যায়নের পর বাংলাদেশে পৌছেছে। কিন্ত একাধিক দালালদের হাত বদলের মাধ্যমে কর্মীরা ঋণ এবং ভিটেমাটি বিক্র করে জনপ্রতি তিন লাখ টাকা থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা ব্যয় করে মালয়েশিয়ায় যাচ্ছে। চড়া সুদের ঋণের টাকা পরিশোধ করতে মালয়েশিয়া প্রবাসী কর্মীদের হিমসিম খেতে হচ্ছে।
মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনের মাধ্যমে কর্মস্থল (ফ্যাক্টরী,কারখানা ও নির্মাণ কোম্পানী) সরেজমিনে পরিদর্শন করে বেতন-ভাতাদিসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা আছে কিনা তা’ যাচাই-বাছাই করে চাহিদাপত্রে সত্যায়ন করে নিয়োগানুমতি দেয়া হচ্ছে। জিটুজি প্লাস প্রক্রিয়ায় দশটি রিক্রুটিং এজেন্সি’র মাধ্যমে কর্মী প্রেরণের সুযোগ দেয়ায় দেশটিতে জনশক্তি রফতানিতে গতি আসছে না । মালয়েশিয়ায় চাহিদার অতিরিক্ত কর্মী প্রেরণসহ নানা পরিস্থিতির দরুণ দেশটিতে ২০০৯ সালে জনশক্তি রফতানি বন্ধ করে দেয়া হয়।
এদিকে বর্তমানে কর্মী নিয়োগের চাহিদাপত্র বাংলাদেশে পাঠানোর আগে দূতাবাসের শ্রম শাখার কর্মকর্তারা সরেজমিন ফ্যাক্টরি ভিজিট করে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সভা, কর্মীদের সাক্ষাৎকার, কর্মস্থল ও হোস্টেল পরিদর্শন এবং নতুন কর্মী নিয়োগ করার সুযোগ, থাকার সুব্যবস্থা, চিকিৎসা সেবা, ওভার টাইম, বেতন ব্যাংকের মাধ্যমে দেয় কি না, ইত্যাদি যাচাই করা হচ্ছে বলে দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া বিদ্যমান কর্মীদের পে ¯িøপ চেক করা, কোম্পানির আয়-ব্যয়, শেয়ার, লাইসেন্স, উৎপাদন, এক্সপোর্ট ইত্যাদিও দেখা হচ্ছে। এমনকি প্রতিষ্ঠানটির বিদেশি কর্মী নিয়োগ দেয়ার অনুমতি আছে কি না সেটিও দেখা হচ্ছে। ইস্টার্ন বে-রিক্রুটিং এজেন্সি’র স্বত্বাধিকারী গিয়াস উদ্দিন বাবুল ইনকিলাবকে বলেন, মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রফতানির ক্ষেত্রে সকল বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো’র জন্য উন্মুক্ত করা হলে একজন কর্মী মাত্র এক লাখ ষাট টাকায় মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পেতো। তিনি বলেন, জিটুজি প্লাস প্রক্রিয়ায় কর্মী প্রেরনের শুরুতে মাত্র ৩৭ হাজার টাকায় কর্মী পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বায়রার নেতৃবৃন্দ । তিনি বলেন, মালয়েশিয়া গমনেচ্ছু কর্মীদের কাছ থেকে গলাকাটা হারে অভিবাসন ব্যয় আদায় করা হচ্ছে। এসব বিষয় দেখার কেউ নেই। তিনি বলেন, শুরুতে তারা স্বল্প অভিবাসন ব্যয়ে কর্মী পাঠানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তারা সে প্রতিশ্রুতি রাখেনি। তিনি মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণে অভিবাসন ব্যয় সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ