Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৫, ০৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

থেকে সামুদ্রিক খাদ্য আমদানি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে ইইউ

চট্টগ্রাম ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ৭ অক্টোবর, ২০১৭, ১:০৮ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক
ভারত থেকে সামুদ্রিক খাদ্য আমদানির ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছে দেশটি। সংশ্লিষ্ট অনেকে নিষেধাজ্ঞার ভয়ও পাচ্ছেন। ভারতের সামুদ্রিক খাদ্য পরীক্ষার জন্য নভেম্বরে ইইউর একটি বিশেষজ্ঞ দল সফরে আসছে। এ সফরকে কেন্দ্র করে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে খাতটি। ইইউ প্রতিনিধি দলের নিয়মিত দ্বিবার্ষিক সফর হলেও এ সফরটির উল্লেখযোগ্য তাৎপর্য রয়েছে। কারণ অ্যান্টিবায়োটিক অবশেষ শনাক্ত করায় গত এক বছরে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো ভারতের চাষকৃত চিংড়ির বেশ কয়েকটি চালান বাতিল করে দিয়েছে। সি ফুড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার (এসইএআই) সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সামুদ্রিক খাদ্য বিশেষজ্ঞ কেনি থমাস বলেন, ইউরোপ অন্যান্য দেশগুলোর মতো নয়। এখানে অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে শূন্য সহনশীলতার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ছয় মাসে ইউরোপের দেশগুলোর নমুনা স্কেল ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করেছে; যা আরো চালান বাতিলের কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে তিনি মনে করছেন। থমাস আরো জানান, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডবিøউটিও) আইন অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা যুক্তিসিদ্ধ না হলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে, ইইউ হয়তো শতভাগ নমুনা স্কেল নির্ধারণে যেতে পারে। ভারতের বার্ষিক সামুদ্রিক খাদ্য রফতানির প্রায় ১৮ শতাংশ ইউরোপে যায়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ইউরোপে সামুদ্রিক খাদ্য রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৮৪ কোটি ডলার। গত কয়েক বছরে হ্যাচারিতে চাষকৃত বিদেশী প্রজাতির ভান্নামেই বা হোয়াইটলেগ চিংড়ি ভারতের সামুদ্রিক খাদ্য রফতানিকে চাঙ্গা করে তুলেছে। চলতি অর্থবছরে ভারতে ভান্নামেই চিংড়ি উৎপাদন সাড়ে পাঁচ লাখ টনে দাঁড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা গত বছরের চেয়ে ২০ শতাংশের বেশি। বৈশ্বিক বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় দেশটিতে এ প্রজাতির চিংড়ি চাষ বেড়েছে। ভারত থেকে রফতানিকৃত সামুদ্রিক খাদ্যমূল্যের প্রায় ৭০ শতাংশে অবদান রয়েছে চাষকৃত চিংড়ির। কেনি থমাস বলেন, সামুুদ্রিক খাদ্যের গুণগত মান পরীক্ষার জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষের যে ব্যবস্থা রয়েছে, তা পর্যাপ্ত নয়। সোসাইটি অব অ্যাকুয়াকালচার প্রফেশনালসের সাবেক প্রেসিডেন্ট এস মুথুকারুপ্পান বলেন, যদি কোনো সমস্যা না থাকত, তবে চলতি অর্থবছরে ভান্নামেই চিংড়ি উৎপাদন সাত লাখ টনে পৌঁছাত। এরই মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, উড়িষ্যা ও গুজরাটে এ প্রজাতির চিংড়ি খামারের আওতা বাড়ানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ৫০ শতাংশেরও বেশি মাছের খামার অন্ধ্রপ্রদেশে। চিংড়ি শিল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, খামারের সংখ্যা বৃদ্ধি গুণগত মান পতনে প্রভাব রাখতে পারে। বিশেষ করে যেখানে কিছু চিংড়িচাষী অননুমোদিত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করছেন। ইইউ প্রতিনিধি দল পণ্যের মান নির্ধারণ নিয়ে বিতর্কে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। সূত্র : ইকোনমিক টাইমস।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।