Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৭, ০৮ কার্তিক ১৪২৪, ০২ সফর ১৪৩৯ হিজরী
শিরোনাম

আইন যেখানে নির্যাতনের হাতিয়ার

তৈমূর আলম খন্দকার | প্রকাশের সময় : ৮ অক্টোবর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

দুর্নীতি যখন জাতীয়করণের রূপ নেয় তখনই সাধারণ মানুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্বোচ্চার হয়। দাবি উঠে দুর্নীতি দমনের, গঠিত হয় দুর্নীতি দমন বিরোধী সংস্থা প্রভৃতি। দুর্নীতি বিরোধী প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম শুরু করলে জনগণের মনে যে আস্থা ফিরে আসার কথা তা গুড়ে বালি হয়ে যায় তখন, যখন সরিষাতেই ভূত থাকে। পূর্বে গঠিত দুর্নীতি দমন ব্যুরো কর্মপন্থা নির্ধারণে ব্যর্থ হওয়ায় বিএনপি সরকার ২০০৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ‘দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪’ পাশ করে। উক্ত আইনের ৩৫ ধারা মোতাবেক ব্যুরো অব এন্টিকরাপশন বিলুপ্ত করে দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম দৃশ্যমান গতি পায় ১/১১ অবৈধ সরকার কর্তৃক রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দদের নির্যাতনের মধ্যে দিয়ে। উক্ত আইনের প্রারম্ভিক বক্তব্যে বলা হয় যে, যেহেতু দেশে দুর্নীতি এবং দুর্নীতিমূলক কার্য প্রতিরোধের অনুসন্ধান ও তদন্ত পরিচালনার জন্য একটি স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠা এবং আনুসাঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয় বিধায় উক্ত আইন সংসদ প্রণয়ন করা হয়েছে। তবে ‘দুর্নীতি’ কি? এ বিষয়ে আইনে সুনির্দিষ্ট কোন সংঙ্গা প্রদান করা হয় নাই। আইনের ২(ঙ) ধারায় ‘দুর্নীতি’ বলতে আইনের তপসিল বর্ণিত আইনের অপরাধসমূহকে বুঝানো হয়েছে। কিন্তু ‘দুর্নীতি’ বলতে সংসদ কী বুঝেছে বা আইন প্রণেতারা কী MEAN করেছেন তা আইনের কোথাও উল্লেখ করা নেই। বরং আইনটি যে একটি নির্যাতনমূলক আইন তা প্রকাশ পেয়েছে আইনের ২৭ ধারায় যেখানে বলা হয়েছে, ‘কেবল উক্ত রূপ অনুমানের উপর ভিত্তি করিয়া প্রদত্ত কোন দন্ড অবৈধ হইবে না।’ অর্থাৎ শুধুমাত্র অনুমানের উপর ভিত্তি করেই দুদক আইনে আদালত সাজা দিতে পারবে। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, আইনটি যারা আমোদ-আল্লাদ করে প্রণয়ন করেছেন আইনের খড়গ হস্ত এখন তাদের উপরেই ঝুলছে।

১/১১ অবৈধ সরকার বিএনপি আওয়ামী লীগ উভয় দলের নেতৃবৃন্দকে দুদক আইনে মামলা দিয়ে রিমান্ড ও কারাগারে প্রেরণ করলেও আওয়ামী লীগের সেই নেতৃবৃন্দ এখন প্রধানমন্ত্রীর পদসহ মন্ত্রিত্বে রয়েছেন এবং বিএনপি মামলার ঘানি টানছে আর টানছে, কিন্তু পরিসমাপ্তি ঘটছে না। একই রাজ্যে আইনের ধারা দু’ভাগে প্রবাহিত হওয়ার পিছনে বিচার বিভাগের অবদানও কম নয়।
পূর্বেই বলা হয়েছে, ‘দুদক আইন-২০০৪’ নির্যাতনমূলক আইন, যার কার্যকারিতার মধ্যে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। কারণ, Jurisprudence of Law বলে যে, সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত অর্থাৎ Beyond Reasonable Doubt অর্থাৎ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দেয়া যাবে না। কিন্তু ২০০৪ সালে প্রণীত দুদক আইনের ২৭ ধারায় বলা হয়েছে যে, ‘... কেবল উক্তরূপ অনুমানের উপর ভিত্তি করিয়া প্রদত্ত কোন দন্ড অবৈধ হইবে না।’ উক্ত আইনে দুদক কর্তৃক দায়ের করা মামলায় বিচারক (Trial Judge)-কে ‘অনুমানের’ উপর ভিত্তি করে সাজা দেয়ার একটি ইষধহপশ ঈযবয়ঁব প্রদান করা হয়েছে, যার সুবিধা ভোগ (Banifisiary) করছে দুদক এবং যেহেতু দুদকের উপর সরকারের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, সেহেতু সরকার বিরোধীদের বিরুদ্ধে নির্যাতনমূলক আইন হিসেবে সরকার একে ব্যবহার করছে। যারা আইনটি প্রণয়ন করেছেন তারা তখন বুঝে উঠতে পারেননি যে, আইনটি তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবহার হতে পারে, যা এখন প্রণেতারা নিশ্চয় হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করতে পারছেন। ফলে পরের জন্য কুয়া (গর্ত) খুড়লে সে কুয়াতে (পানীয় জলের জন্য নির্মিত গভীর খাদ বা গর্ত) নিজেকে পড়তে হয় তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এই দুদক আইন, যেখানে দুর্নীতির জন্য ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা মোতাবেক সর্বোচ্চ সাজা ছিল ৭ বছর, কিন্তু একই অপরাধে দুদক আইনে সাজার মেয়াদ বৃদ্ধি করে করা হয়েছে ১০ (দশ) বছর।
দুদক আইনের ৩(২) ধারায় বলা হয়েছে, ‘এই কমিশন একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিশন হইবে।’ কিন্তু এ দুদককে নিয়ন্ত্রণ ও তালিকা প্রস্তুত করার জন্য ১/১১ অবৈধ সরকার কর্তৃক গঠিত টাক্সফোর্স কর্তৃক প্রস্তুতকৃত তালিকা মোতাবেক দুদক মামলা করেছে। কিন্তু যারা দুদককে মোটা অংকের টাকা দিতে পেরেছে তাদের নাম সে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। উক্ত তালিকা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল, কিন্তু বড় বড় Business Magnet-র নাম থাকা স্বত্তে¡ও তাদের নামে মামলা হয়নি। ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ জনসভায় যাওয়ার প্রাক্কালে এ মর্মে হোটেল সোনারগাঁওয়ে ব্যবসায়ী সমাবেশে শেখ হাসিনা উক্ত টাক্সফোর্সের ব্যাপক চাঁদাবাজির কথা উল্লেখ করেন। তিনি এও বলেছিলেন যে, মোটা অংকের অর্থের বিনিময় বড় বড় ম্যাগনেটের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা হয়নি, যা হয়েছে রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রীই দুদকের মামলায় অভিযুক্ত হয়ে জেলে ছিলেন। কিন্তু এখন শেখ হাসিনা ও তার দলের লোকেরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এবং খালেদা জিয়া ও তার দলীয় লোকদের কোর্টের বারান্দায় লেফট রাইট করতে হচ্ছে এবং এতেও বিচার বিভাগের অবদান রয়েছে।
২০০৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুদক পুনর্গঠনের ঘোষণা দেন। তবে তিনি দুর্নীতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় করার কথা নাকচ করে দিয়ে বলেন, মন্ত্রণালয় বানিয়ে আরেকটি দুর্নীতির আখড়া সৃষ্টি করতে চাই না। দুদকের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়ে জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘এমনও শোনা গেছে দুর্নীতির অভিযোগে আটক কাউকে কাউকে আবার টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমনের নামে রাজনীতি দমন, নতুন দল চালু, মাইনাস টু বা মাইনাস ওয়ান কার্যকর করতে দুদককে কাজে লাগানো তত্ত্বাধায়ক সরকারের দুর্নীতি বিরোধী অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘দুদক যাতে এখন সত্যিকার অর্থে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।’
২০০৯ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সংসদে মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘যে ওয়ান ইলেভেনের তত্ত্বাধায়ক সরকার দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের নামে রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছিল। রাজনীতি সংস্কারের নামে রাজনীতিকে ধ্বংস করার চক্রান্ত করা হয়েছে। সব কিছুর পিছনে সেনাবাহিনী যুক্ত ছিল। DGDFI-এর হাত ছিল। এ জন্য অবিলম্বে সংসদীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে এসব ঘটনার তদন্ত করতেই হবে। আমরা কোনভাবেই তাদেরকে এ দায় থেকে মুক্তি দিতে পারি না। অনেকেই তখন বলেছেন Doctorine of Necessity-এর জন্যই তারা নানা বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছে। আবারও এই দেশেDoctorine of Necessity-এর প্রয়োগের সুযোগ দিতে আমরা প্রস্তুত নই। ১/১১ এর সময় দেশি বিদেশি নানা গোষ্ঠি সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে সমর্থন দিয়েছে। সেনাবাহিনীর প্রধান মঈন ইউ সম্প্রতি এক বইয়ে লিখেছেন যে, সে সময়ের অবস্থায় সেনাশাসন জারি হলে নাকি জনগণ মেনে নিতো। আমি বলি, এ দেশের জনগণ তা কখনোই মানতো না। ঐ সময় মেজর কর্নেল সাহেবরা হাটবাজার বস্তি উচ্ছেদ করে ৪০ লাখ লোকের পেটে লাথি মেরেছিল। দ্রব্যমূল্য অসনীয় পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল। সে দিন সেনাপ্রধান আলু খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। খুলনায় একের পর এক পাটকল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। শ্রমিকরা লঙ্গরখানা খুলে দু’বেলা খাওয়ার চেষ্টা করলেও তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এতো কিছুর পরও রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন ছিলেন নির্বিকার। সবচেয়ে কলঙ্কজনক অধ্যায় ইয়াজউদ্দিন সৃষ্টি করেছেন এ জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাতে পারি না।’

২০১১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ‘দৈনিক সমকাল’ পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদটি নিন্মরূপ: ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে চাপে পড়ে দুই নেত্রীসহ অনেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা করতে হয়েছিল বলে জানিয়েছেন দুদকের বিদায়ী কমিশনার হাবিবুর রহমান। এতদিন এসব বিষয়ে মুখ না খুললেও অবসরের পর এটিএন বাংলাকে তিনি জানান, কীভাবে তালিকা ধরিয়ে দিয়ে হুকুম তামিল করতে বলা হতো তাদের। আর রাজনৈতিক সরকারের আমলে দুদক আইন সংস্কারের নামে প্রতিষ্ঠানটির স্বাধীন সত্তা খর্ব করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন আরেক বিদায়ী কমিশনার আবুল হাসান মঞ্জুর মান্নান। তত্ত্বাধায়ক সরকারের আমলে চুনোপুঁটি ধরার চেয়ে রুই-কাতলা ধরার আগ্রহ অনেকটা চাপে ফেলে দেয় দুদককে। বিশেষ করে দু’বড় দলের শীর্ষ নেত্রীর দুর্নীতির খোঁজখবরে চাপটা একটু বেশি ছিল বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির বিদায়ী কমিশনার হাবিবুর রহমান। চার বছর দায়িত্ব পালন শেষে বিধায় নেওয়ার সময় তিনি বলেন, সে সময় কমিশন একক সিদ্ধান্ত নিতে পারলে হয়তো দুর্নীতি বিরোধী অভিযান নিয়ে এত প্রশ্ন উঠত না। দুর্নীতি বিরোধী টাস্ক ফোর্সের কারণে দুদকের কর্মকর্তারা অনেক কাজই স্বাভাবিকভাবে করতে পারেননি। তবে বর্তমান সরকারের দু’বছরে বড় কোন চাপ না থাকলেও আইন সংশোধনের নামে সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলার সরকারি অনুমোদনের বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বাধীন সত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে বলে মনে করেন অন্য বিদায়ী কমিশনার আবুল হাসান মঞ্জুর মান্নান। পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালন শেষে এই দুই কমিশনার প্রতিষ্ঠানটির বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখেন রাজনৈতিক চাপ, দুর্নীতির মামলার বিচারে দীর্ঘসূত্রতা ও কমিশনের ভাবমূর্তি ধরে রাখাকে।’
২০১১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ‘দৈনিক যায়যায় দিন’ প্রকাশিত পত্রিকায় সংবাদটি নিন্মরূপ: ‘দুর্নীতি দমন কমিশনের বিদায়ী কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেছেন, দুই নেত্রীসহ অনেকের বিরুদ্ধেই বিগত তত্ত¡াবধায়ক সরকারের আমলে চাপে পড়ে দুর্নীতির মামলা করতে হয়েছিল। এতদিন এসব বিষয়ে মুখ না খুললেও অবসরের পর তিনি জানান, কীভাবে তালিকা ধরিয়ে দিয়ে তাদের হুকুম তামিল করতে বলা হতো। আর রাজনৈতিক সরকারের আমলে দুদক আইন সংশোধনের নামে এর স্বাধীন সত্তা খর্ব করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন আরেক বিধায়ী কমিশনার আবুল হাসান মান্নান। হাবিবুর রহমান বলেন, তত্ত¡াবধায়ক সরকারের আমলে চুনোপুঁটি ধরার চেয়ে রুই-কাতলা ধরার আগ্রহই অনেকটা চাপে ফেলে দেয় দুর্নীতি দমন কমিশনকে। বিশেষ করে দুই প্রধান দলের শীর্ষ দুই নেত্রীর দুর্নীতির খোঁজ-খবরে চাপটা একটু বেশি ছিল। চার বছর দায়িত্ব পালন শেষে বিদায় নেয়ার সময় তিনি বলেন, সেই সময় কমিশন একক সিদ্ধান্ত নিতে পারলে হয়তো দুর্নীতিবিরোধী অভিযান সম্পর্কে এত প্রশ্ন উঠত না। তত্ত্বাধায়ক সরকার দুদকের হাতে একটি তালিকা ধরিয়ে দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা-মোকদ্দমা করতে বাধ্য করত। তারাও চাপে পড়ে এগুলো করতে বাধ্য হয়েছেন। ওই সময় দুদক কি কোন অনুসন্ধান করেছিল জানতে চাওয়া হলে হাবিবুর রহমান বলেন, তত্ত্বাধায়ক সরকারই সব ইনকোয়ারি করে তাদের কেবল তালিকা ধরিয়ে দিয়েছে। ওই সরকার দুদককে বলেছিল, শীর্ষ নেত্রীরা কীভাবে এত সম্পদ আহরণ করেছে এবং তাদের কোন দুর্বলতা রয়েছে কিনা। সেই সময় দুর্নীতিবিরোধী টাস্ক ফোর্সের কারণে দুদকের অনেক কর্মকর্তাই স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারেননি। সব কাজ বাদ দিয়ে তাদের হুকুমই তামিল করতে হতো। সেই সময় দুদকের কর্মকর্তাদের কাছে তাদের স্বাভাবিক কাজের হিসাব চাইলে তারা বলতেন, তত্ত¡াবধায়ক সরকারের নেতাদের কাজ করেই তো সময় পাওয়া যায় না। তাদের কথাই শুনবেন, না অফিসের কাজ করবেন। কারণ তারা তো গাড়িতে করে ধরে নিয়ে যায়। আবার বাসায় নামিয়ে দিয়ে যায়। অপর কমিশনার আবুল হাসান মঞ্জুর মান্নান বলেন, বর্তমান সরকারের দুই বছরে তেমন কোন চাপ না থাকলেও আইন সংশোধনের নামে সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলার আগে সরকারি অনুমোদনের বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বাধীন সত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।’
দুদক আইনে দায়েরকৃত মামলার বিচার করার জন্য ১/১১ সরকার সংসদ ভবনে ‘আদালত’ স্থাপন করে ক্যামেরা ট্রায়ালের মত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের বিচার করা হয়েছে। তখন থেকেই শেখ হাসিনা ঐ কোর্টগুলিকে ক্যাঙ্গারু কোর্ট বলেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী পদে নির্বাচিত হওয়ার পরও ঐ কোর্টগুলিকে ক্যাঙ্গারু কোর্ট বলা অব্যাহত রেখেছেন। প্রধানমন্ত্রীর আইনজীবী (যিনি পরবর্তী সময়ে টেকনোক্রেট আইনমন্ত্রী হয়েছিলেন) ব্যারিস্টার শফিক আহাম্মদ কোর্টগুলিকে ক্যাঙ্গারু কোর্ট বলেছেন। কিন্তু ক্যাঙ্গারু কোর্টে সাজা প্রাপ্তদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীসহ তার দলবল খালাস পেয়েছে, তারা বলেন আইনী লড়াই এ প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী নেতারা খালাস ও বিএনপি নেতারা মামলায় ঝুলছে।
১/১১ অবৈধ সরকার ‘দুদক আইন-২০০৪’কে আরো শক্ত করার উদ্দেশ্যে উক্ত আইনের ৩৪ ধারা মোতাবেক দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা ২০০৭ প্রণয়ন করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে যাতে পাকা পোক্তভাবে সাজা দেয়া যায় সে কারণে ২০০৪ সালের দুদক আইনের সকল ফাঁক-ফোকর বন্ধ করে। তারপরও অভিযুক্তরা কার্যবিধির ৫৬১ ক ধারা মোতাবেক বেআইনী অভিযুক্তির বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আশ্রয় গ্রহণ আইনে আশ্রয় গ্রহণের সুযোগ গ্রহণ অব্যাহত অবস্থায় অ্যাপিলেট ডিভিশন বিভিন্ন মোকদ্দমার রায়ে ৫৬১ ক মোতাবেক হাইকোর্টের ক্ষমতাকে সংকুচিত করে দিয়েছেন। ফলে দুদককে সরকার ভিন্নখাতে ব্যবহার করার সুযোগ পেয়েছে। এর পিছনেও বিচার বিভাগের অবদান অস্বীকার করার মত নয়।
লেখক: কলামিস্ট ও বিএনপি’র চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর