Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৭, ০৯ কার্তিক ১৪২৪, ০৩ সফর ১৪৩৯ হিজরী

যে কারণে নামায ও নামাযী শ্রেষ্ঠ

| প্রকাশের সময় : ১৩ অক্টোবর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

মুফতি ইবরাহীম আনোয়ারী
\ দুই \
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, বল তো, যদি কোন ব্যক্তির ঘরের সামনে একটি নদী থাকে এবং সে প্রতিদিন ঐ নদীতে পাঁচবার গোসল করে, তার শরীরে কি কোন ময়লা থাকবে? সাহাবারা বললেন না তার শরীরে কোন ময়লা থাকবে না। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এটাই হচ্ছে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের উৎকৃষ্ট উদাহরণ অর্থাৎ আল্লাহ পাক পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের বিনিময়ে বান্দার সমস্ত গুনাহের কালিমা দূর করে দেন। (ফাযায়েলে নামায)
নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক শীতের মৌসুমে জঙ্গলে তাশরীফ নিয়ে যান। তিনি একটি গাছের দুইটি শাখা ধরে নাড়া দিতে লাগলেন, ফলে গাছের পাতা ঝরে-ঝরে মাটিতে পড়তে লাগল। তারপর তিনি হযরত আবু যর রা. কে উদ্দেশ্য করে বললেন, হে আবু যর! যখন আমার উম্মত শুধু আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে নামায পড়ে তার গুনাহসমূহ এভাবে ঝরে পড়ে যেমন এই গাছের পাতা ঝরে পড়ছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি অন্তরকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দুই রাকাত নামায পড়বে, আল্লাহ তার কৃত সব পাপ ক্ষমা করে দিবেন। (মিশকাত শরীফ)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, একদিন আমি আল্লাহকে তাঁর সর্বোৎকৃষ্ট আকৃতিতে দেখলাম। তখন তিনি বললেন, মুহাম্মদ! বল তো নিকটবর্তী ফেরেশতারা কী সম্পর্কে আলোচনা করছে? বললাম, আপনিই ভাল জানেন। তখন আল্লাহ পাক আমার উভয় কাঁধের ওপর তাঁর কুদরতী হাত রাখলেন। আমি বক্ষে তার ¯িœগ্ধতা অনুভব করলাম। তারপর আমি আসমান এবং জমিনের সমস্ত প্রয়োজনীয় বিষয় সম্পর্কে অবগত হলাম। যেমনটি ইবরাহীম আ.-এর বেলায় হয়েছিল। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে,
এরূপেই আমি ইবরাহীমকে আকাশ ও পৃথিবীর পরিচালনা কৌশল দেখাই, যাতে সে পরিপক্ষ বিশ্বাসকারীদের দলে শামিল হতে পারে। (সূরা আনয়াম, আয়াত ৭৫)
উল্লিখিত জ্ঞান প্রদান করার পর আল্লাহ দ্বিতীয় বারের মত বললেন, তুমি জানো, ফেরেশতারা কী বিষয়ে আলোচনা করছে? আমি বললাম, তারা এমন সব আমল সম্পর্কে আলোচনা করছে, যেগুলোর মাধ্যমে গুনাহ ঝরে যায়।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমরা সর্বদা গুনাহের আগুনে দগ্ধ হতে থাক কিন্তু যখন ফজরের নামায আদায় কর, তখন আগুন নিভে যায়। তারপর ফজর থেকে যোহর পর্যন্ত তোমরা গুনাহের আগুন প্রজ্বলিত করে সেখানে জ্বলতে থাক। কিন্তু যখন যোহরের নামায পড়, তখন ঐ আগুন আবার নিভে যায়। আবার যোহর থেকে আছর পর্যন্ত আগুন প্রজ্বলিত হওয়ার ব্যবস্থা কর, কিন্তু আছরের নামায ঐ আগুনকে নিভিয়ে দেয়। তারপর আছর থেকে মাগরিবের মধ্যে পাপের আগুন অত্যন্ত তেজ হয় এবং তোমাদেরকে ঝলসে দিতে চায়। কিন্তু মাগরিবের নামায আবার সেটা নিভিয়ে দেয়। এভাবে মাগরিব থেকে এশার মাঝামাঝি সময়ে গুনাহের আগুন খুব তাতিয়ে ওঠে। কিন্তু এশার নামায পড়ার সাথে সাথে তা নিভে যায়। তখন তোমরা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে ঘুমাতে যাও। আর ঘুম থেকে না জাগা পর্যন্ত তোমাদের ওপর কোন গুনাহ লিপিবদ্ধ করা হয় না। (তারগীব)
বুজুর্গ সাহাবী হযরত আবু মাসউদ আনসারী রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন নামাযের সময় হয় তখন আল্লাহ তায়ালা একজন ফেরেশতার মাধ্যমে আহŸান করেন, হে লোক সকল! ওঠো! তোমরা পাপের যে আগুন প্রজ্বলিত করেছ, তার ওপর পানি ঢেলে নিভিয়ে দাও! তারপর নামাযীরা উঠে যখন অজু করে এবং নামায পড়ে, তখন তাদের গুনাহ মাফ হয়ে যায়। আর বে-নামাযীরা আগের মত আগুনে রয়ে যায়। (কানযুল উম্মাল)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়, রমযানের রোযা রাখ, যাকাত আদায় কর এবং হক্কানী আলেম-উলামাদের আনুগত্য কর। তারপর সোজা জান্নাতে চলে যাও। (মিশকাত শরীফ)

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।