Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৭, ০৮ কার্তিক ১৪২৪, ০২ সফর ১৪৩৯ হিজরী
শিরোনাম

সাকিব-সাব্বিরের ফিফটি

৪শ’র উইকেটে আড়াইশ’!

| প্রকাশের সময় : ১৩ অক্টোবর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

স্পোর্টস রিপোর্টার : টেস্ট সিরিজে মুশফিকুর রহিম কেন টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছেন, এ নিয়ে অনেক আলোচনাই হয়েছে। মাশরাফি বিন মুর্তজা গতকাল সে আলোচনার কোনো সুযোগ রাখেননি। টসে জিতে ব্যাটসম্যানদের নামিয়ে দেন রান তোলার কাজে। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা যেন মুশফিকের সিদ্ধান্ত সঠিক প্রমাণ করতেই নেমেছিলেন। বøুমফন্টেইনে ওয়ানডে সিরিজের আগের একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচেও প্রশ্নবিদ্ধ ব্যাটিং বাংলাদেশের। ১১ বল বাকি থাকতেই ২৫৫ রানে অল আউট হয়েছে বাংলাদেশ।
উইকেট একদমই ফ্ল্যাট। ম্যাচ কিউরেটর নিকো প্রিটোরিয়ার দাবি, এ উইকেটে ৪০০ রানও তোলা সম্ভব। গত জুনে যুক্তরাজ্যে এক প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ অমন কাÐ প্রায় করেই ফেলেছিল। কিন্তু গতকাল যে তেমন কিছু হচ্ছে না, সে ইঙ্গিত সৌম্য সরকার দিয়ে রেখেছিলেন প্রথম বল থেকে। ওয়ানডে সিরিজের দলে থাকা কোনো বোলার নেই ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা আমন্ত্রিত একাদশে। তারপরও ব্যাটিংয়ে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি অতিথিরা। চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না উঠায় প্রস্তুতি ম্যাচে খেলেননি তামিম ইকবাল। তার অনুপস্থিতিতে ইনিংস উদ্বোধন করেন ইমরুল কায়েস ও সৌম্য সরকার। প্রচÐ অস্বস্তিতে ভরা ১৩ বলের ইনিংসে ৩ রান করে আউট হন সৌম্য। তবু যে উদ্বোধনী জুটিতে ৩১ রান এল, সেটা ইমরুল কায়েসের সৌজন্যে। ৬ বাউন্ডারিতে ৩১ বলে ২৭ রান তুলেছেন ইমরুল। কিন্তু অষ্টম ওভারে রবি ফ্রাইলিঙ্কের দ্বিতীয় শিকার হয়ে ফিরেছেন ইমরুল। আগের বলেই আকাশে বল তুলে বিদায় নিয়েছেন সৌম্য।
তিন ও চারে নামা লিটন দাস ও মুশফিকের গল্পটাও প্রায় একই রকম। দুই বছর আগে শেষ ওয়ানডে খেলা লিটন যেতে পারেননি দুই অঙ্কে। সাবধানী লিটন (৮) ও আক্রমণাত্মক ঢঙয়ে ব্যাট করা মুশফিক (২২) বিদায় নিয়েছেন দুই রানের ব্যবধানে। ৬৩ রানে ৪ উইকেট হারানো বাংলাদেশ তখন আরেকটি দুঃস্বপ্নের অপেক্ষায়।
ভাগ্যিস সাকিব আল হাসান ছিলেন। প্রথমে মাহমুদউল্লাহকে (২১) নিয়ে ৫৭ রানের জুটিতে ইনিংস থিতু করলেন। পরে সাব্বির রহমানকে নিয়ে ৬৯ বলে ৭৬ রানের জুটি গড়ে বড় এক স্কোরের আশা দেখাচ্ছিলেন। কিন্তু অ্যারন ফাঙ্গিসোর বলে সাকিব আউট হয়ে যেতেই বড় স্কোরের স্বপ্ন শেষ হয় বাংলাদেশের। ৬৭ বলে ৯ চারে ৬৮ রান করা সাকিব ফেরার পর জুটি গড়ার চেষ্টা করেছেন সাব্বির ও নাসির। কিন্তু ফিফটির পরই আউট হয়ে গেছেন সাব্বির (৫২)। সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি নাসির হোসেন। ২৩ বলে ফিরেন ১২ রান করে। তার মতো মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনের ইনিংসেও নেই কোনো চার-ছক্কা। ১৯ বলে অপরাজিত থাকেন ১৩ রানে। একটি করে ছক্কা-চারে শেষ দিকে মাশরাফির ১৭ রানে আড়াইশ ছাড়ায় বাংলাদেশের স্কোর। বাংলাদেশ অলআউট হয়ে যায় ১১ বল বাকি থাকতে। দুটি করে উইকেট আমন্ত্রিত একাদশের চার বোলার। বোলিং খুব আহামরি হয়নি। উইকেট থেকেও খুব একটা সুবিধা পাননি বোলাররা। ব্যাটসম্যানরা নিজেদের ঠিকঠাক প্রয়োগ করতে না পারায় মাঝারি স্কোরেই আটকে যায় বাংলাদেশ।
জবাবে, মাত্র ৪ উইকেট হারিয়ে ২১ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৮২ রান করেন মার্করাম। এছাড়া ব্রিৎজকে ৭১, ডুমিনি ৩৪ ও দলে ফেরা ডি ভিলিয়ার্স করেন ৪৩ রান। বাংলাদেশের হয়ে দুটি উইকেট নেন মাহমুদউল্লাহ। একটি করে শিকার মাশরাফি ও নাসিরের।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ : ৪৮.১ ওভারে ২৫৫ (ইমরুল ২৭, সৌম্য ৩, লিটন ৮, মুশফিক ২২, সাকিব ৬৮, মাহমুদউল্লাহ ২১, সাব্বির ৫২, নাসির ১২, সাইফ ১৩, মাশরাফি ১৭, মুস্তাফিজ ০*; হেনড্রিকস ১/৪০, ফ্রেইলিঙ্ক ২/২৫, সিবোতো ২/৪৯, বুদাজা ২/৪১, দুমিনি ০/২৬, মাল্ডার ১/২৫)। দ.আফ্রিকা : ৪৬.৩ ওভারে ২৫৭/৪ (মার্করাম ৮২, ব্রিৎজকে ৭১, ডুমিনি ৩৪, ভিলিয়ার্স ৪৩; মাশরাফি ১/৪৭, নাসির ১/৫২, মাহমুদউল্লাহ ২/১৩। ফল : দ.আফ্রিকা ৬ উইকেটে জয়ী।

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।