Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭, ০৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী

চট্টগ্রাম মহানগরে সরব বিএনপি, জেলায় হতাশা

রফিকুল ইসলাম সেলিম | প্রকাশের সময় : ১৩ অক্টোবর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

রাজপথে সরব চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি। জাতীয় ও স্থানীয় নানা ইস্যুতে রাস্তায় নামছে দলের নেতাকর্মীরা। পুলিশী বাধা উপেক্ষা করেও পালিত হচ্ছে নানা কর্মসূচি। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘর গোছানোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে বিপরীত চিত্র চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলায়।
এই দুই সাংগঠনিক জেলায় বিএনপির কোন রাজনৈতিক তৎপরতা নেই। দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম মহানগরে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ পালিত হলেও দুই জেলায় কোন কর্মসূচি পালন করতে পারেনি বিএনপি। দীর্ঘদিন দুই জেলায় কমিটি না থাকায় সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মকান্ড স্থবির হয়ে পড়েছে বলে বলে মনে করেন দলের নেতারা। এতে করে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে বিরাজ করছে হতাশা। কেন্দ্র থেকে বার বার কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। দুই জেলাতে দলীয় কোন্দল চরমে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় ‘যতনেতা ততগ্রুপে’ বিভক্ত চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি।
এর ফলে তৃণমূলে চরম হতাশা বিরাজ করছে। এক সময় চট্টগ্রামকে বলা হতো জাতীয়তাবাদি শক্তির দুর্জয় ঘাঁটি-বাস্তবেও ছিল তাই। নব্বইয়ের পর নির্দলীয় সরকারের অধীনে যেক’টি জাতীয় নির্বাচন হয়েছে তাতে এই অঞ্চলের বেশিরভাগ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্র্থীরা। জীবনে কোনদিন বিএনপি করেননি এমন নেতারাও ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতাদের পরাজিত করেছেন। বিএনপি নেতারা মনে করেন এই অঞ্চলে এখনও তাদের জনসমর্থন আগের মতোই আছে। বিগত উপজেলা নির্বাচনের প্রথম দুই ধাপে তার প্রমাণও মিলেছে। তবে সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে বিপুল এই জনসমর্থন কাজে লাগাতে পারছে না দলটি।
ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তি বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে বিএনপি তার সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়। এর ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলায় নতুন কমিটি গঠনের তোড়জোড় শুরু হয়। কেন্দ্র থেকে মহানগর কমিটি গঠন করা হলেও উত্তর ও দক্ষিণ জেলায় এখনও নতুন কমিটি দেওয়া হয়নি। চট্টগ্রাম মহানগরে কেন্দ্র থেকে তিন সদস্যের কমিটি করে দেওয়া হয়। এরপর ওই কমিটি প্রায় তিনশ সদস্যের একটি পূর্ণাঙ্গ মহানগর কমিটি গঠন করে। দীর্ঘ একযুগ পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি পায় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি। থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়েও নতুন কমিটিও গঠন করা হয়। নতুন কমিটির নেতৃত্বে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতির পাশাপাশি বিভিন্ন ইস্যুতে রাজপথে কর্মসূচিও পালিত হচ্ছে। সাংগঠনিকভাবেও শক্তিশালী হচ্ছে মহানগর বিএনপি।
জেলা বিএনপিতে সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুতে কোন উদ্যোগ নেই। মে মাসে কেন্দ্রীয় নেতাদের টিম দুই জেলায় প্রতিনিধি সমাবেশ করে। ওই সমাবেশে দুই জেলাতেই সংঘাতে জড়ায় বিএনপির দু’টি গ্রুপ। এর জের ধরে চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল হাসান চৌধুরী ও দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক গাজী মোঃ শাহজাহান জুয়েলকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। সদস্য সচিবকে বহিস্কার করার আগেই রাষ্ট্রদ্রোহের একটি মামলায় গ্রেফতার হন উত্তর জেলার আহবায়ক আসলাম চৌধুরী। ইতোমধ্যে তাকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব করা হয়। এখনও তিনি কারাবন্দি।
ফলে নেতৃত্ব ছাড়াই চলছে জেলা বিএনপির কার্যক্রম। কারণ দলের বর্র্তমান ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী নেতৃত্বে জেলা কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে আসলাম চৌধুরীকে আহবায়ক ও হাসান চৌধুরীকে সদস্য সচিব করে মাত্র দুই সদস্যে কমিটি করে দলের হাইকমান্ড। একজন কারাগারে অপরজন দল থেকেই বহিষ্কার হওয়ায় অভিভাবকহীন জেলা বিএনপি। কোন্দলের জেরে সদস্য সচিবকে বহিষ্কার করা হলেও কোন্দল আরও বেড়েছে। জেলা থেকে শুরু করে উপজেলা পৌরসভা এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ে জেলা বিএনপি দ্বিধাবিভক্ত। এই বিভক্তি আরও প্রকট হচ্ছে বড় বড় নেতাদের নির্বাচনমুখি তৎপরতার কারণে। বলা যায় উত্তর জেলা বিএনপি এখন যতনেতা ততগ্রুপে বিভক্ত।
জেলার রাউজান, রাঙ্গুনীয়া, মিরসরাই ও স›দ্বীপে প্রকাশ্যে কোন কর্মসূচি পালন করতে পারে না বিএনপি। এসব এলাকার নেতাকর্মীদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে বাড়িঘর ছাড়া। তবে ওই চার উপজেলায়ও বিএনপিতে গ্রুপিং আছে। যেসব উপজেলায় প্রকাশ্যে রাজনৈতিক তৎপরতার সুযোগ আছে সেখানও ঐক্যবদ্ধ নেই বিএনপি। হাটহাজারীতে বিএনপির রয়েছে তিনটি ধারা। এই তিনধারার একদিকে কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, অপরদিকে সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম অন্যদিকে চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এসএম ফজুলল হক। জেলার প্রায় প্রতিটি উপজেলায় সম্ভ্যাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দলের নেতাকর্মীদের নিজেদের বলয়ে টানার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এতে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়ছে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার চিত্র অনুরূপ। জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক গাজী শাহজাহান জুয়েলকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও জেলায় কোন্দলের কোন হেরফের হয়নি। দক্ষিণ জেলার প্রতিটি উপজেলায় বিভক্ত বিএনপি। কেন্দ্র থেকে কমিটি গঠন করার উদ্যোগ নেয়া হয় কয়েকবার। তবে তা শেষপর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। দীর্ঘদিন কমিটি না থাকায় হতাশ নেতাকর্মীরা। দক্ষিণ চট্টগ্রামের সবকয়টি উপজেলা ও পৌর এলাকায় বিএনপির প্রকাশ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা চালাতে কোন বাধা নেই। এরপরও এসব উপজেলায় কোন কর্মসূচি পালিত হয়না। এতে করে হতাশ তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সবকয়টি আসনে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী মাঠে সরব রয়েছেন। তারা দলের কর্মী সমর্থকদের নিজেদের বলয়ে টানার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির কমিটি গঠন বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত দলের একজন কেন্দ্রীয় নেতা জানান, দুই জেলাতেই নতুন কমিটির খসরা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রে এসব তালিকা জমাও পড়েছে। তবে চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বিদেশে থাকায় কমিটি অনুমোদন দেয়া যাচ্ছে না। তিনি দেশে ফেরার পর দুই জেলার কমিটি অনুমোদন দেয়া হবে বলে জানান ওই নেতা।

 


Show all comments
  • কামরুল ১৩ অক্টোবর, ২০১৭, ৩:৩৯ এএম says : 0
    বিএনপি নেতারা যে কবে জাগবে ?
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ