Inqilab Logo

ঢাকা শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১১ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

খালেদা জিয়ার অসুখটা কি জাতি জানতে চায় -যুবলীগ চেয়ারম্যান

| প্রকাশের সময় : ১৪ অক্টোবর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী বলেছেন, অসুখ বিষয়টিকে বিএনপি সব সময় ষড়যন্ত্রের সিড়ি হিসেবে ব্যবহার করেছে। প্রেসিডেন্ট আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে অসুস্থ্য দেখিয়ে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করেছিলেন। আর এখন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া অসুখের ভান ধরে লন্ডনে বসে পুত্র তারেক রহমানকে সঙ্গে নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। বিএনপি নেতারা প্রধান বিচারপতির অসুস্থতার খবর নেয়ার আগে বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা কি সেটা বলুন। জাতি খালেদা জিয়ার অসুখের খবর জানতে চায়। 

গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর মুগদা থানার মান্ডা ইউনিয়ন যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মান্ডায় আয়োজিত এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী স¤্রাট। ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম সেলিমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ।
যুবলীগ চেয়ারম্যান আরও বলেন, প্রধান বিচারপতি অসুস্থতার কারণে ছুটিতে যাওয়ায় হয়ত বিএনপির স্বপ্ন ভ্ঙ্গ হয়েছে। সে কারণে তারা নানা ধরনের কথাবার্তা বলছে। তারা অসুখকে ষড়যন্ত্রের সিড়ি হিসেবে ব্যবহার করে। ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল সেনা প্রধান জিয়াউর রহমান বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্টের শয়ন কক্ষে ঢুকে বললেন, ‘মি. প্রেসিডেন্ট ইউ আর সিক’। প্রেসিডেন্ট সায়েম তখন বুঝতে পারলেন না। তিনি বললেন, ‘নো আই এম ফাইন’। জিয়া চিৎকার করে বললেন, ‘অফ কোর্স ইউ আর সিক; ইউ উ্ইল রিজাইন নাও’। ক্ষমতা দখল করলেন জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, বিএনপি প্রধান বিচারপতির অসুস্থতা নিয়ে এখন কথা বলছেন, সন্দেহ করছেন। এসব সন্দেহ না করে খালেদা জিয়া অসুস্থতার কথা বলে বিদেশে গেলেন, তিনি কী এখনো সুস্থ্য হননি? কি রোগে তিনি আক্রান্ত জাতি জানতে চায়। আমাদের কাছে খবর আছে, খালেদা জিয়া লন্ডনে বসে ছেলে তারেক রহমানকে নিয়ে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করছেন। এ ব্যাপারে যুবলীগকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
সভার শুরুতে মনোরম পরিবেশে সুন্দর ও জাকজমকপুর্ন সম্মেলন আয়োজন করায় আয়োজক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী স¤্রাটকে ধন্যবাদ জানান তিনি। একই সঙ্গে এই সম্মেলনকে শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন সম্মেলন বলেও ঘোষণা দেন যুবলীগ চেয়ারম্যান।
যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে। এই নির্বাচনকে ঘিরে এখন ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। সম্প্রতি জামায়াতের নেতারা খালেদা জিয়ার নির্দেশে উত্তরাতে গোপন বৈঠক করেছে। আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে-দেশ স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির হাতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকবে নাকি স্বাধীনতা বিরোধীদের হাতে যাবে। যদি স্বাধীনতা-গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে চাই তাহলে রাষ্ট্র নায়ক শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনতে হবে।
সম্মেলনের উদ্বোধক যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী স¤্রাট বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে। দেশকে এগিয়ে নিতে এবং রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার ঘোষিত মধ্যম আয়ের দেশ গড়ে তুলতে আগামীতেও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে হবে। এ জন্য যুবলীগের প্রত্যেক নেতাকর্মীকে ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজ করতে হবে। আমরা কেউই নেতা নয়, সবাই শেখ হাসিনার কর্মী। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে দেশ এগিয়ে যাবে। বিশ্বের বুকে মাথা উচু করে দাড়াবে। অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসলে দেশে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের উত্থান হবে। দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে। কাজেই আগামীতে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনতে হলে যুবলীগের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
মান্ডা ইউনিয়নের সম্মেলনে হাজার হাজার নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখায় নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে দক্ষিণের সভাপতি স¤্রাট বলেন, দক্ষিণের ওয়ার্ড, ইউনিয়ন এবং থানার নেতাকর্মীদের সহযোগীতায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আজকে শ্রেষ্ঠ জেলা সংগঠনে পরিণত হয়েছে। আমি নেতা নই, শেখ হাসিনার কর্মী হিসেবে যুবলীগ চেয়ারম্যানের নির্দেশে যে কর্মসূচি দেই, তা আপনারা পালন করেন। তিনি বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠনকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। আমরা চাই একটি ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী সংগঠন। যার মাধ্যমে আগামী দিনে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনতে সক্ষম হবো।
দ্বিতীয় অধিবেশনে মান্ডা ইউনিয়নের কমিটি বিলুপ্ত করে ৭১ ও ৭২ নম্বর ওয়ার্ড কমিটি গঠন করা হয়। ৭১ নম্বর ওয়ার্ডে মোহাম্মদ বিপ্লবকে সভাপতি, সৈয়দ আহমেদ সেলিমকে সাধারণ সম্পাদক এবং ৭২ নম্বর ওয়ার্ডে শেখ সেলায়মান বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় সভাপতি নির্বাচিত হন। এতে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা, কেন্দ্রীয় নেতা কাজী আনিসুর রহমান আনিস, মিজানুর রহমান, মনিরুল ইসলাম হাওলাদার, মহানগরের মাইনুদ্দিন রানা, সারোয়ার হোসেন মনা, আনোয়ার হোসেন সান্টু, নাজমুল হোসেন টুটুল, এনামুল হক আরমান, মোরসালিন আহমেদ, জাফর আহমেদ রানা, ফারুক হোসেন, মিজানুর রহমান বকুল, কাজী ইব্রাহিম খলিল মারুফ, আরমান হক, এমদাদুল হক এমদাদ প্রমুখ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: যুবলীগ চেয়ারম্যান


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ