Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০১৭, ০৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
শিরোনাম

আলোচনা করে সুষ্ঠু নির্বাচনের একটা পথ বের করব : প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৫ অক্টোবর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

যতক্ষণ শ্বাস আছে দেশের জন্য কাজ করে যাবো, গণতন্ত্রের কথা বলে যাবো বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হবে জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন যাতে অবাধ ও সুষ্ঠু হয় আমরা সেটাই চাই। আগামীতে নির্বাচন হবে, সুষ্ঠু নির্বাচন যাতে হয় আলোচনা করে তার একটা পথ বের করবো। আমরা চাই মানুষ মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করবে। যার যার প্রতিনিধি সে সে বেছে নেবে। বিচার বিভাগের চলমান ঘটনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমানের আমলে বিচার বিভাগকে কুক্ষিগত করা হয়েছিল। সামরিক নির্দেশে বিচারপতিদের এজলাস থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল। এরশাদ ও খালেদা জিয়ার আমলেও পত্রপাঠে বিচারপতিদের বিদায় করে দেয়া হয়েছিল। প্রধান বিচারপতিদের নিয়ে এ ধরনের খেলা অতীতে বারবার হয়েছে।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারী বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনিবাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথ সভার শুরুতে তিনি এসব কথা বলেন তিনি। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সভা শুরু হয়।
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হোক এটাই আমি চাই। কারণ ভোট জনগণের সাংবিধানিক অধিকার। নিরপেক্ষ ভোটের দাবিতে আন্দোলন সংগ্রাম করতে হয়েছে। অনেক রক্ত ও জীবন চলে গেছে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে। তিনি বলেন, অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য কোন কোন পদক্ষেপ গ্রহণযোগ্য হবে সেসব বিষয় নিয়ে আলাপ আলোচনা হবে। গণতন্ত্রের ভিত্তিটা মজবুত করা, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।
অতীতে বিচারপতিদের নিয়ে অনেক খেলা হয়েছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও এরশাদ সরকার বিচারকদের পত্রপাঠ বিদায় করে দিয়েছিল।
প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার ছুটি ও বিদেশ যাওয়া নিয়ে বিএনপির সমালোচনার দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমানের সময় বিচার বিভাগকে সরকারের কুক্ষিগত করা হয়েছিল। সামরিক নির্দেশে বিচারকদের এজলাস থেকে বিদায় করে দেয়া হয়। তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে আমরা ক্ষমতায় আসার পর যতজন বিচারপতি নিয়োগ দিয়েছিলাম ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর এক দিনে ১০ জনকে পত্রপাঠ বিদায় করা হয়। এরপর আরও ছয়জনকে বিদায় করা হয়। আমাদের নিয়োগকৃত সবাইকে বিদায় দেয়া হলো। পরে অবশ্য কয়েকজন রিট করে ফেরত আসেন।
প্রশাসনেও একই অবস্থা তৈরি হয়েছিল অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে দলীয়করণ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল। সেখানে কোনো নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা ছিল না। যা হুকুম দেবে সেটাই পালন করতে হবে। জাতীয় সংসদে ভোট কারচুপির মাধ্যমে তাদের মনমতো কিছু লোক বসিয়ে দিয়ে তামাশা করা হতো। স্বাধীনতা বিরোধীদের মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী ও উপদেষ্টা করে সংসদে বসানো হয়। শুধু তাই নয়, জাতির পিতার আত্মস্বীকৃত খুনিদেরও সংসদে বসানো হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে জনগণের সেবা যে সরকারের কাজ সেটার উপর গুরুত্ব দিয়েছি। নির্বাচনকে কীভাবে স্বচ্ছ ও জবাবদিহি করা যায়, জনগণ যেন স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে সেই আন্দোলন শুরু করি। মানুষকে সচেতন করি ভোট তাদের অধিকার।
সব সময় নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করা হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে প্রধান বিচারপতির বয়স বাড়িয়ে ৬৫ করা হয়েছিল। যাতে করে তত্ত¡াবধায়ক সরকার নামে যেটা করা হয়েছিল, তার প্রধান উপদেষ্টা বানানোর জন্য। বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক কে এম হাসানকে বানানোর জন্যই এটা করা হয়েছিল। তাকে প্রধান উপদেষ্টা করে ভোট চুরির ষড়যন্ত্র করেছিল। এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে তখন আন্দোলন করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মহাজোটের মাধ্যমে সবার সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য আমরা কিছু প্রস্তাব দেই। সেখানে ছবিসহ ভোটার তালিকা, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সসহ তার অনেকগুলো কার্যকর হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৭ সালের জরুরি অবস্থা জারির পর অনেকেই ধারণা করেছিল খুব তাড়াতাড়ি একটা নির্বাচন হবে। কিন্তু তখন নির্বাচন তো দূরের কথা জনগণের ক্ষমতায়নকে কুক্ষিগত করা হয়। আমি বিদেশে ছিলাম। আমার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দেয়া হয়েছিল, কিন্তু তারপরও আমরা থেমে থাকিনি। ওই সময় দলের মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকার কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আগামীতে যে নির্বাচন হবে সেই নির্বাচনও যাতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয় সেটাই আমরা চাই। কারণ আমরা জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করছি। আমাদের প্রস্তাবেই স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স হতে শুরু করে ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা হয়েছে।
ভোটের পদ্ধতি নিয়ে তার দলের অবস্থান সম্পর্কে আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, ইলেকট্রনিক ভোটিং (ই-ভোট) সিস্টেম পৃথিবীর অনেক সভ্য দেশে আছে। সেখানে একজন একটা ভোটই দিতে পারবে। কাজেই সেই প্রস্তাবই আমরা দিয়েছি। কিছু জায়গায় পরীক্ষামূলকভাবে নির্বাচন হয়েছিল স্থানীয় সরকার নির্বাচনে। সেই সিস্টেম যেন আসে আমরা সেটাকেও চাই। আওয়ামী লীগের একটা কথা হলো মানুষের ভোটের যে সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে, তা সে প্রয়োগ করবে স্বাধীনভাবে এবং নিরপক্ষভাবে। সেটা যদি করতে পারি তাহলে একটা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকবে।
আগামী নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সংলাপে তার দল অংশ নেবে এবং এ জন্য প্রস্তুতির কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ইতোমধ্যে অনেকগুলো ড্রাফট করেছি। সেগুলো আমি নিজেও দেখেছি। তা আজকের বৈঠকে উপস্থাপন করব। গণতন্ত্রের মজবুত ভীত তৈরি করা, জনগণের ক্ষমতাকে সুরক্ষিত করাই আমাদের লক্ষ্য। এ লক্ষ্য বাস্তবায়ন করার জন্যই যা যা করণীয় তা করতে চাই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের ধারাবাহিকতার কারণেই বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল। দেশের বিভিন্ন সেক্টরে উন্নয়ন চোখে পড়ার মতো। ৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছিল। জাতিকে বিশ্ব দরবারে ছোট করা হয়েছিল। তিনি বলেন, রাজনীতি নিজের জন্য নয়, রাজনীতি করি মানুষের জন্য। ২০১৪ সালে বিএনপিকে নির্বাচনে আনার জন্য অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু পারিনি। আমি নিজে খালেদা জিয়াকে ফোন করেছি। তাকে বলেছিলাম সর্বদলীয় সরকার করে নির্বাচন করি। যে মন্ত্রণালয় চাইবেন সেটাই দেয়া হবে। তারপরও তিনি নির্বাচনে না এসে আগুন দিয়ে এবং পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যার পথ বেছে নিলেন। তবে জনগণ তাদের রুখে দিল আর এজন্য নির্বাচনটা হলো। আমরা আবার ক্ষমতায় এলাম।
আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। সারা বিশ্বে বাংলাদেশ একটা সম্মানজনক অবস্থানে আছে। আমরা জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছি। আমাদের প্রস্তাবে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ও ছবিসহ ভোটার তালিকা এসেছে। ইলেকট্রনিক ভোটিং সিস্টেম পৃথিবীর সভ্য অনেক দেশে রয়েছে। কিছু কিছু স্থানীয় সরকার নির্বাচন এই পদ্ধতিতে পরীক্ষামূলকভাবে ভোট হয়েছে। সেই সিস্টেমও যদি আসে আমরা তা চাই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ ভোটের অধিকার প্রয়োগ করবে, স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও নিঃশঙ্কভাবে। এই ব্যবস্থা যদি করতে পারি তাহলে স্বাভাবিকভাবে সকলের একটা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকবে। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে।
জনগণ সরকারের সেবা পাবে সেটাই করে যাচ্ছি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ ভোটের অধিকার যাতে প্রয়োগ করতে পারে সেই চেষ্টা করি। ২০০১ এর নির্বাচনের কথা যদি স্মরণ করেন। ভোটের দিন আমি যেখানে ইলেকশন করেছিলাম সেখনে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে গাড়িতে করে নিয়ে নিয়ে দেখানো হয়েছিল পরিণতি কেমন হবে।

 


Show all comments
  • নাসির ১৫ অক্টোবর, ২০১৭, ৩:২০ এএম says : 0
    একমাত্র পথ নিরপেক্ষ সরকার ও সেনাবাহিনীর অধীনে নির্বাচন।
    Total Reply(0) Reply
  • Abul Bashar ১৫ অক্টোবর, ২০১৭, ১২:৩৫ পিএম says : 2
    বাংলাদেশে নিরপেক্ষ সরকারের কোন বিকল্প নাই।।।।।
    Total Reply(0) Reply
  • Talukder Kader ১৫ অক্টোবর, ২০১৭, ১২:৩৪ পিএম says : 0
    আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সবাইকে সুমতি দান করুক।
    Total Reply(0) Reply
  • Md Mahede Hasan ১৫ অক্টোবর, ২০১৭, ১২:৩৫ পিএম says : 0
    tai koron
    Total Reply(0) Reply
  • Nasir Ahmed ১৫ অক্টোবর, ২০১৭, ১২:৩২ পিএম says : 0
    সুষ্টু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য বর্তমান পরিস্থিতিতিে বাংলাদেশে নিরপেক্ষ সরকারের কোন বিকল্প নাই।।
    Total Reply(0) Reply
  • Atiqur Rahman Rubel ১৫ অক্টোবর, ২০১৭, ১২:৩৩ পিএম says : 3
    কার সাথে আলোচনা ১৪ দলীয় জোট ও গৃহ পালিত বিরোধী দলের সাথে।
    Total Reply(0) Reply
  • Uzzol ali ১৬ অক্টোবর, ২০১৭, ১:০৩ পিএম says : 0
    I want to free fear clection.
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর